kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিশুকে ওয়াশরুমে অভ্যস্ত করাতে...

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার শিক্ষাটা চাই শৈশব থেকেই। একটু বড় হলেই শেখাতে হবে ওয়াশরুমের ব্যবহার। পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামীমা ইয়াসমীন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুকে ওয়াশরুমে অভ্যস্ত করাতে...

শিশু একটু বড় হতেই তাকে ওয়াশরুমে অভ্যস্ত করানো উচিত। সাধারণত সাত থেকে আট মাস বয়সেই শিশুরা বসতে শেখে। এ সময় থেকেই শিশুর প্রস্রাব ও পায়খানায় পটি ব্যবহার শুরু করুন। বাজারে শিশুদের জন্য নানা ধরন ও ডিজাইনের পটি পাওয়া যায়। আপনার শিশুর জন্য জুতসই একটি পটি কিনে নিন। চেষ্টা করুন একটু বাহারি ও রংচঙে পটি কেনার। এতে শিশু পটিতে বসতে নিজে থেকেই আগ্রহী হবে। পটিতে বসে প্রস্রাব ও পায়খানা করলে শিশুর পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয়। বিছানায়, মায়ের কোলে, শুয়ে অথবা ডায়াপারে পায়খানা করলে শিশুদের পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না। এ জন্য শিশুর বয়স সাত-আট মাস পূর্ণ হলেই পটিতে অভ্যস্ত করানো ভালো। মায়েরা কিছু লক্ষণ, যেমন—কোল থেকে নেমে যাওয়া, বিছানা থেকে নামার চেষ্টা করা, অঙ্গভঙ্গি দেখে বুঝতে পারেন যে শিশুর প্রস্রাব বা পায়খানার সময় হয়েছে। আবার কোনো কোনো শিশু দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পায়খানা করে থাকে। প্রতিদিন ওই সময়ের একটু আগেই শিশুকে পটিতে বসিয়ে দিন। শিশু যদি পায়খানা না-ও করে তার পরও ওই সময়ে পটিতে বসিয়ে অভ্যস্ত করান। এ সময় ওর হাতে একটা খেলনা দিতে পারেন। মা পাশে বসে গল্প করতে পারেন। এভাবে শিশুকে দুই বেলা পটিতে বসানোর অভ্যাস করান।

অনেক মা ঝামেলা এড়াতে ডায়াপারে বাচ্চাদের বাথরুম করান। এসব শিশুর ক্ষেত্রে পটিতে পায়খানা সারতে ঝামেলা হয় বা পায়খানা হয় না। একটা সময়ে এ কারণে নানা রকম জটিলতা তৈরি হয়। পটিতে অভ্যস্ত না করানোর কারণে তারা পটিতে বসতেও চায় না। এ ছাড়া অনেক বাচ্চার মা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে শিশুদের খাবার খাওয়ান। ফাস্ট ফুড, রেস্টুরেন্টের খাবার কিনে দেন। আঁশজাতীয় খাবার খাওয়ান না। ফলে তাদের বর্জ্য খুব শক্ত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। এতে শিশুর পায়খানা করতে অনেক কষ্ট হয়। এ কারণে শিশু পটিতে আরো বসতে চায় না। এ জন্য বাচ্চাদের খাবারে বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি ও আঁশজাতীয় খাবার রাখুন। পাশাপাশি পটিতে বসানোর অভ্যাস গড়তে সাহায্য করুন।

দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত শিশুদের পটিতে পায়খানা সাড়া উচিত। এরপর তাকে হাই কমোড বাথরুম ব্যবহারের নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিন।

তবে মনে রাখবেন, বড়দের ব্যবহৃত কমোড বাথরুম শিশুদের জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ বড়দের জন্য কমোডে বসার জায়গাটি বেশি প্রশস্ত হয়, যা শিশুদের বসার উপযোগী নয়। এ জন্য বাজারে আলাদা রিং কিনতে পাওয়া যায়। এটা বড়দের কমোডের ওপর বসিয়ে নিলেই শিশুদের ব্যবহার উপযোগী হয়ে যায়। আবার প্রয়োজন শেষে খুলেও রাখা যায়।

বাজারে গিয়ে শিশুদের কমোড রিং বা প্যান বললেই পেয়ে যাবেন। এ রকম কমোডে শিশু বাথরুম করার সময় অবশ্যই বড় কেউ তার সঙ্গে থাকুন। যাদের বাসায় হাই কমোড নেই তাদের ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, তারা শিশুদের আরো কিছুদিন পটিতেই বাথরুমে অভ্যস্ত করান। গ্রামে বেশির ভাগ বাড়িতে লো কমোড ব্যবহার করা হয়। এটা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর।

লো কমোড ব্যবহারে শরীর থেকে বর্জ্য সহজ উপায়ে পরিষ্কার হয়। মানুষের বাথরুম করার জন্য সেরা পজিশন হচ্ছে লো কমোড। লো কমোডের ক্ষেত্রে শিশুকে আরেকটু বড় হতে দিন। বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন হলে ভালো হয়।

পটি থেকে বাথরুমে যাওয়ার সময়টি শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত পটিতে বসার পর যখন বাথরুমে যাবে তখন বড় কেউ সেই সময় তার পাশে থাকুন। এরপর নিজ থেকেই ওরা অভ্যস্ত হয়ে যাবে।

এরপর ধীরে ধীরে পানি ব্যবহার, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া শিখিয়ে দিন।

মনে রাখবেন, বাথরুমে শিশুকে একা রাখবেন না। এতে পিছলে পড়ে বা বাথরুমে ভরা বালতিতে খেলতে গিয়ে উল্টে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাথরুমের দরজা ব্যবহার শেষে বন্ধ করে রাখবেন, যেন শিশু খেলার ছলে বাথরুমে ঢুকে না পড়ে।

মন্তব্য