kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শিশুর হাতে স্মার্টফোন?

অনলাইন ক্লাসের জন্য শিশুদের হাতে হাতে ইন্টারনেট সংযোগসহ স্মার্টফোন। অবসরও কাটে ফোনে। কিন্তু স্মার্টফোনের অতি ব্যবহার ক্ষতিকর। অভিভাবকদের করণীয় কী জানালেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুর হাতে স্মার্টফোন?

মডেল : আর্য মেঘদূত ও তাঁর মা সোনিয়া হাসান

কয়েক দিন পরই স্কুল খুলবে—এমন কথা বলে নবম শ্রেণিতে পড়া মেয়ে সুমাইয়াকে দীর্ঘদিন ধরে আশ্বস্ত করে আসছিলেন একটি তেলের মিলের কর্মী খলিলুর রহমান। কিন্তু স্কুল খোলা দূরের কথা, দিন দিন অনলাইন ক্লাসের পরিসর বাড়তে থাকে। সুমাইয়াদের পরিবারের কারো স্মার্টফোন নেই। শেষমেশ ধারদেনা করে ৯ হাজার টাকা দিয়ে সুমাইয়াকে স্মার্টফোন কিনে দেন বাবা। এর পর থেকে স্মার্টফোনই যেন সুমাইয়ার সঙ্গী। আগে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে দিনের একটা সময় খুনসুটিতে কেটে যেত। এখন ছোট ভাই কাছে ঘেঁষলে উল্টো বিরক্ত হয় সুমাইয়া। কিছু বললেই বলে অনলাইনে ক্লাস করছে। অনলাইনে ক্লাসের নামে এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে স্মার্টফোন। আগে বিষয়টিতে মা-বাবারা হস্তক্ষেপ করলেও এখন সে সুযোগ নেই; বরং অনলাইন ক্লাসের কথা বলে পার পেয়ে যায় তারা।

শিশুদের জন্য কখন, কতক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহার জরুরি, এটা নিয়ে বেশির ভাগ মা-বাবাই অনিশ্চয়তায় ভোগেন।

সারাক্ষণ স্মার্টফোন ব্যবহারের কুফল অনেক। এতে শিশুর মধ্যে নিদ্রাহীনতা, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ, চোখের সমস্যা, খাদ্যে অরুচি, কানে কম শোনা, হতাশা, হীনম্মন্যতা, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া, বাস্তব জীবনের নানা কিছু মিস করাসহ অনেক রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় খুদে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে হাজিরার জন্য স্মার্টফোন খুবই প্রয়োজনীয় জিনিস। এ জন্য সন্তানকে স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি রুটিন তৈরি করে দিন।

সব কিছুরই ভালো-মন্দ দুটি দিক থাকে। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। বড়রা ভালো-মন্দ বুঝতে পারলেও শিশুরা পারে না। এ জন্য শিশুর স্মার্টফোন ব্যবহারের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব পালন করতে হবে মা-বাবাকেই। প্রথমেই শিশুর স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে অনলাইন ক্লাসের রুটিন জেনে নিন। কবে, কখন কোন ক্লাস, কী পরীক্ষা—সে বিষয়ে অবগত থাকুন। এই সময়ের বাইরে শিশুকে স্মার্টফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখুন। স্কুলের রুটিন জানা থাকলে সন্তানও আপনাকে অনলাইনে ক্লাসের ছুতোয় ফাঁকি দিতে পারবে না।

বিনোদনের জন্য শিশুরা স্মার্টফোন ব্যবহার করতে ভালোবাসে। কেউ ছবি দেখে, কার্টুন দেখে, গান, কবিতা ও ছড়া আবৃত্তি শোনে। এসব দোষের নয়। কিন্তু খেয়াল রাখুন, শিক্ষামূলক কনটেন্টের প্রতি যেন সন্তানের মনোযোগ থাকে। ইন্টারনেটে এত এত জিনিস থাকে, যেখান থেকে ভালোটা বেছে নেওয়া শিশুদের জন্য খুবই কঠিন। এ জন্য আপনি ভালো একটি বিষয় খুঁজে নিয়ে শিশুকে দেখতে দিন। দেখা শেষ হলে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান ওর কাছে। স্মার্টফোন আসক্তি থেকে বাঁচাতে শিশুদের মাঠে বা ঘরোয়া খেলা খেলতে উত্সাহ দিন। কাজের সময় শিশুদের দূরে রাখতে মা-বাবারা নিজ থেকেই শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেন। এটা না করে ছবি আঁকা, কবিতা লেখা, ক্রাফট তৈরির মতো সৃষ্টিশীল কোনো কাজ দিন।

অনলাইনে কিছু শেখার সময় প্রতি ২০ মিনিট পর শিশুকে ৫-১০ মিনিটের জন্য বিরতি নিতে বলুন। এটা ওর চোখ ও মনের জন্য ভালো। চোখ থেকে কমপক্ষে ২০ ইঞ্চি দূরে স্ক্রিন রাখতে বলুন। শিশুর চোখের জন্য আরামদায়ক উজ্জ্বলতা ঠিক করে দিন। অন্ধকারে ও তীব্র আলোয় স্মার্টফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দিন।

শিশুর জন্য ইন্টারনেট আশীর্বাদও, যদি এটার ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। অনলাইন ক্লাসসহ অনেক শিক্ষামূলক কনটেন্ট রয়েছে ইন্টারনেটে, যা সহজেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়। সন্তানকে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে দিন। কিন্তু মনে রাখবেন, এটার অতি ব্যবহার ও অপব্যবহার যেন না হয়।

মন্তব্য