kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

অনলাইনে চিকিৎসা পেতে...

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অনলাইনে চিকিৎসা পেতে...

কভিড-১৯ থেকে বাঁচতে এখন অনলাইনে মিলছে চিকিৎসাসেবা। অনলাইনে কিভাবে চিকিৎসা পাবেন, এই সময় করণীয় কী—জানিয়েছেন উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার [রোগ নিয়ন্ত্রণ] ও করোনা ফোকাল পারসন ডা. মো. আলামিন হোসেন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে খোদ চিকিৎসকরাই উৎসাহ দেন না। চিকিৎসা পেতে হাসপাতালগুলোতে কভিড-১৯ নেগেটিভ সনদও দেখাতে বলা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। এ বাস্তবতায় করোনার শুরু থেকেই অনলাইনে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন অনেক চিকিৎসক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মানুষ এখন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকের কাছ থেকে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারছেন। এ জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার মোট ৪৮২টি হাসপাতালে একটি করে মোবাইল দেওয়া হয়েছে। এতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। http://app.dghs.gov.bd/ inst_info/mobile_search.php এই লিংকে গিয়ে সহজেই পাওয়া যাবে আপনার জেলা ও উপজেলার চিকিৎসকের মোবাইল নম্বর। এ ছাড়া বড় বড় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগেও এখন এমন সেবা মিলছে। ফলে ঘরে বসেই তাদের কাছে চিকিৎসা পরামর্শ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন রোগীরা। কিন্তু অনলাইনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনেক সময় নানা রকম ঝামেলার মুখোমুখি হন চিকিৎসক ও রোগীরা। এই ঝামেলা রোধে দরকারি কিছু বিষয় মনে রাখুন। এতে যেমন চিকিৎসকের সঙ্গে আপনার কথা বলতে সুবিধা হবে, তেমনি চিকিৎসকও আপনার প্রয়োজন বুঝে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন।

♦    আপনি যে রোগের চিকিৎসা পেতে চান চেষ্টা করুন শুধু সেই রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার।

♦    অনলাইনে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ করা থাকে। দিন অথবা রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ও বেধে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সেই সময়ে চিকিৎসককে ফোন করুন।

♦    একটি কাগজে আপনার রোগের লক্ষণ, কত দিন ধরে ভুগছেন—এসব সংক্ষেপে টুকে রাখুন।

♦    অনলাইনে চিকিৎসা পেতে রোগীর সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো। এটা সম্ভব না হলে রোগীকে পাশে বসিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। চিকিৎসকের প্রশ্নের সঠিক জবাব দিন। অযথা কথা বাড়াবেন না।

♦    চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার আগে আপনার মোবাইলের ইন্টারনেট সংযোগটি ভালো করে পরীক্ষা করে নিন। প্রয়োজনীয় মেগাবাইট আছে কি না দেখে নিন। যদি ব্রডব্যান্ড ব্যবহার করেন তাহলে সংযোগ ঠিকমতো আছে কি না খেয়াল করুন। ফোনের ব্যালান্সও আগেই চেক করে নিন। এতে কথা বলার সময় সংযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিব্রত হতে হবে না।

♦    একজন রোগীর ব্যাপারেই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। চিকিৎসককে অনলাইনে পেয়ে পরিবারের সবার জন্য চিকিৎসা পেতে তোড়জোড় করবেন না।

♦    নির্দিষ্ট সময়ে অল্প কথায় আপনার রোগের বিবরণ দিন। আগে কোনো চিকিৎসক দেখিয়ে থাকলে সেই ব্যবস্থাপত্র ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলোও সামনে নিয়ে বসুন, যাতে চিকিৎসকের প্রশ্নের উত্তরে সঠিক তথ্যটি দিতে পারেন। 

♦    হাতের কাছে কাগজ-কলম নিয়ে বসুন, যাতে সহজেই চিকিৎসকের বলা ব্যবস্থাপত্র টুকে নিতে পারেন। চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে আপনার আলাপের অংশটি অনুমতি নিয়ে রেকর্ড করেও রাখতে পারেন।

♦    জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো টুকে রাখুন। চাইলে বাসার দরজা বা সহজেই চোখে পড়ে এমন জায়গায় নম্বরগুলো লিখে রাখুন, যাতে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সেই নম্বরে ফোন করে সাহায্য চাইতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা