kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

ভরসা ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ

করোনার এই সময়ে অনলাইনেই আড্ডায় মাতছে মানুষ। সরাসরি দেখা করার স্বাদ মেটাচ্ছে এভাবে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১০ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ভরসা ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ

মডেল : মাশিয়াত। ছবি : মালিয়াত বিনতে

৬৫ বছর বয়সী বাবাকে নিয়ে করোনার শুরু থেকেই বেশ সতর্ক তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান। বিশেষ করে করোনায় বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি জানার পর থেকেই বাবাকে বাইরের কারো সঙ্গে মিশতে দেন না; এমনকি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যেতেও দিতে চান না। ঘরবন্দি বাবার সময় কাটাতে বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছেন। দিনের কিছু সময় বাবার সঙ্গে দাবা খেলা, ছাদে হাঁটা, একসঙ্গে নামাজ আদায় ও খাওয়াদাওয়া করছেন। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী মিলে অফিসে গেলে অনেকটাই একা হয়ে পড়েন বাবা। এ জন্য মোবাইলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়েছেন। তাতে যুক্ত করে দিয়েছেন অন্য সব ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও নাতি-নাতনিদের। এখন বেশ সহজেই অনলাইনে প্রিয়জনদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন তৌহিদ হাসানের বাবা। দিনের অনেকটা সময় একা থাকলেও থাকেন বেশ ফুরফুরে।

শুধু তৌহিদের বাবা নন, করোনার ভয়ের কারণে অধিকাংশ মানুষই এখন অনলাইনমুখী। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এখন অনলাইনকে মানা হচ্ছে সবচেয়ে সেরা উপায়। কেউ চাইলেই লাইভে চলে আসছেন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আগে যেখানে সরাসরি প্রিয়জনকে সশরীরে না দেখলে কয়েক দিনের বেশি থাকা যেত না, সেখানে মাসের পর মাস কেটে যাচ্ছে অনলাইনে সাক্ষাৎ করে। এটা মন্দের ভালো। কেননা, দীর্ঘ অদর্শন মনোজগতেও নিদারুণ প্রভাব ফেলে বলে জানালেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার। তিনি জানান, করোনার কারণে প্রিয়জনদের সঙ্গে সশরীরে দেখা বন্ধ হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রযুক্তির এই যুগে এটা ঠুনকো অজুহাত ছাড়া আর কিছুই নয়। চাইলেই ফোনে ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলা যায়। এ ছাড়া চোখের দেখাও সম্ভব অনলাইন ভিডিও কলে। এতে দূরে থেকেও প্রিয়জনকে কাছে মনে হবে। এ ছাড়া যেকোনো দুর্যোগে মানুষের সঙ্গে সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে সবার মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। মানুষ আশ্বস্ত হয়, সে একা নয়। করোনার সময়ে যেহেতু সরাসরি মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ঝুঁকিপূর্ণ—এ জন্য অনলাইন মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত।

মেখলার পরামর্শ, অনলাইন আড্ডায় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন। করোনার খবর, কতজন আক্রান্ত, কতজন মারা গেল—এসব আপাতত আড্ডা থেকে দূরে রাখুন। এটাই যেহেতু সবচেয়ে আলোচিত, সুতরাং এটা আড্ডায় উঠে এলেও সংক্ষেপে সারুন করোনা-আলাপ। সময়টা যেহেতু আনন্দে কাটাতে চান, সেহেতু সহজ ও মজার কোনো বিষয় নিয়ে আড্ডায় মাততে পারেন।

অনলাইনে আড্ডার সময় কিছু বিষয় মেনে চলুন। প্রিয়জনকে ভিডিও কলে পেয়েই মনের সব কথা উগরে দিতে ব্যস্ত হবেন না। আগে অন্যের কথা মন দিয়ে শুনুন। যাকে ফোন দিয়েছেন তাঁর প্রতি সহানুভূতি দেখান। মনে রাখবেন, করোনা আমাদের মনে নানা রকম মানসিক চাপ তৈরি করে ফেলেছে। এই চাপ থেকে স্বস্তি পেতেই আপনি প্রিয়জনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সুতরাং অনলাইনে প্রাণ খুলে কথা বলুন, আড্ডা দিন। আরেকটি জরুরী পরামর্শ দিলেন রেড বিউটি স্যালনের রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন, অনলাইনে আড্ডা বলে যেনতেনভাবে ভিডিও কলে হাজিরা দিতে যাবেন না। ঘরবন্দি এই সময়ে সাজগোজে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। বেশি কিছু নয়, কপালে ছোট্ট একটা টিপ, সুন্দর করে আঁচড়ে নেওয়া চুল, ছিমছাম একজোড়া কানের দুল আর পরিপাটি পোশাক। এই তো। এবার হাজির হয়ে যান অনলাইনে। দেখবেন, অন্য পাশের মানুষটিও আপনাকে দেখে অভিভূত হবেন। তাঁর ভালো লাগা ছুঁয়ে যাবে আপনাকেও। 

এখন একসঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও ফোনে, ভিডিও কলে কথা বলা যায়, আড্ডা দেওয়া যায়। সেই সুবিধাই নিচ্ছেন তিতুমীর কলেজের অনার্স পড়ুয়া শাকিল রানা। ফেসবুকে এই শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাস খোলা থাকার সময় প্রতি সপ্তাহেই বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে কোথাও না কোথাও ঘুরতে যেতেন। এখন পাঁচ মাসের বেশি বাড়িতে। বন্ধুদের খুব মিস করেন। এ জন্য প্রায় রাতেই বন্ধুরা মিলে গ্রুপ কলে যুক্ত হয়ে আড্ডা দেন। কখন যে সময় গড়িয়ে যায়, বুঝতেও পারেন না। শুধু নিজেরাই নয়, তারা নাকি মা-বাবাকেও অনেক সময় নিজেদের আড্ডায় যুক্ত করে নেন।

সময় নাকি সব কিছুর সমাধান এনে দেয়। তেমনটাই জানালেন একটি ম্যারেজ মিডিয়ায় কর্মরত মোবারক হোসেন। অনলাইনে এখন বর-কনেরও সাক্ষাৎ হচ্ছে বেশ। সরাসরি দেখা করায় ঝুঁকি জেনে প্রথমে অনলাইনেই প্রাথমিক দেখাশোনাসহ আলাপচারিতা সেরে নিচ্ছে তারা। সব মিলে গেলে সীমিত পরিসরে বাগদান ও বিয়ের আয়োজন।

অনলাইন আড্ডার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রেকর্ড থাকা। চাইলেই অনলাইনের আড্ডার দেখা-সাক্ষাৎ রেকর্ড করে রাখা যাচ্ছে। এতে সময়টাও থেকে যাচ্ছে জাদুর বাক্সবন্দি। আর ফেসবুকে লাইভ আড্ডা দেখে হাজারো মানুষ। সুতরাং একটু সতর্ক আর পরিপাটি হয়ে তবেই ধরা দিন ভার্চুয়াল দুনিয়ায়।

অভিনেত্রী মিথিলার শ্বশুরবাড়ি ভারতে বলে এমনিতেই ছিল দূরত্ব। ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’ করোনার লকডাউন। বন্ধ সীমান্তও। তাই ভরসা অনলাইন সাক্ষাৎ। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা অফিসের মিটিং—এখন সবই চলছে অন্তর্জালে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা