kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

পিপিই পরেই বাইরে!

করোনা চিকিৎসকদের জন্য অপরিহার্য সুরক্ষা সামগ্রী পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা পিপিই কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যেও পিপিই পরার চল দেখা যাচ্ছে। পিপিইর বিস্তারিত জানিয়েছেন এনাম মেডিকেল কলেজের ডায়াবেটিস, মেডিসিন ও হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাজহারুল হক তামিম। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পিপিই পরেই বাইরে!

পিপিই হচ্ছে পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী। এর মধ্যে আছে গ্লাভস, মাস্ক, গগলস বা বিশেষ ধরনের চশমা, ফেসশিল্ড এবং গাউন। করোনার শুরুতে এই পিপিই নিয়েই বেশ হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। তার কারণ যে চিকিৎসকরা করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবেন তাঁদের পিপিই পরা বাধ্যতামূলক। পিপিই না পাওয়ার কারণে অনেক চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিতে পারছিলেন না পর্যন্ত। কিন্তু এখন অবস্থা অনেকটাই বদলে গেছে। এখন ডাক্তার, নার্স, করোনা রোগীর চিকিৎসা ও করোনায় মৃত ব্যক্তির সৎকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও পিপিই পরে বাইরে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। চাহিদা বিবেচনায় হকাররাও ফুটপাতে পিপিইসহ নানা রকম সুরক্ষা সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এসব পিপিইর মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু আদৌ কি সবার পিপিই পরার প্রয়োজনীয়তা আছে? বিষয়টা আমরা সেভাবে ভেবেই দেখছি না। সাধারণ মানুষের পিপিই পরার বাতিক দেখে মনে হচ্ছে করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র ব্রহ্মাস্ত্র যেন এই পিপিই। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব চিকিৎসক সরাসরি কভিড রোগীর সংস্পর্শে আসেন না তাঁদেরও এই ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বা পিপিইর পরার প্রয়োজন নেই।

সাধারণত জরুরি এবং একান্ত প্রয়োজন না হলে চিকিৎসকরা পারতপক্ষে পিপিই পরেন না। তার কারণও আছে। পিপিই পরে বেশিক্ষণ থাকলে নানা রকম অসুবিধা ভোগ করতে হয়। যেখানে হাসপাতালের মতো পরিবেশেই পিপিই পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাজ করতে হাঁপিয়ে উঠতে হয়, সেখানে বাইরে চলাচল করা আরো অনেক ঝক্কির কাজ। উল্টো এই ভাপসা গরমে পিপিই পরে বাইরে বেরোলে আপনি সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। যেহেতু করোনাভাইরাস ড্রপলেটের (ক্ষুদ্রকণা) মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রে প্রবেশ করে, তাই জনসাধারণকে অবশ্যই সার্জিক্যাল মাস্ক পরে বের হতে হবে। ঘ৯৫ বা রেসপিরেটর না পরলেও হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্কই করোনার জীবাণু প্রতিরোধে সক্ষম। আপনি অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে চাইলে গগলস বা ফেসশিল্ড পরতে পারেন। সম্ভব হলে ডাবল মাস্কও ব্যবহার করুন। কিন্তু এর সঙ্গে বারবার হাত ধোয়া এবং হাত চোখ-মুখে স্পর্শ করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকতে হবে।

 

কারা কেন পিপিই পরবেন?

করোনাভাইরাস ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা বা ড্রপলেটের মাধ্যমে ছড়ায়। যাঁরা কভিড পজিটিভ রোগীর সেবা করবেন অথবা সরাসরি সংস্পর্শে আসবেন, তাঁরা রেসপিরেটর বা ঘ৯৫  মাস্ক, গ্লাভস, গাউন, গগলস সবই পরবেন। তার মানে যাঁরা স্বাস্থ্য খাতে আছেন, তাঁরা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রীর সবই পরবেন। কারণ তাঁদের কভিড পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসতে হয়। করোনা ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রে নাক, মুখ বা চোখের মাধ্যমে প্রবেশ করে, তাই এখানে ভালো মানের মাস্ক পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

পিপিই পরার নিয়ম এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ

একটি পিপিই আসলে একবারই পরার নিয়ম। কিন্তু আমাদের অনেক সময় একটিই বারবার পরতে হয়। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী? পিপিই যদি ধৌত করা যায়, সে ক্ষেত্রে বাইরে থেকে এসে সেটি সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পরদিন আবার পরতে হবে। আর যদি ধোয়া না যায় সে ক্ষেত্রে ২-৩ সেট কিনতে হবে এবং একটি ব্যবহার করার ৫-৭ দিন পর পুনরায় সেটি ব্যবহার করা যাবে। এক পিপিই বারবার ব্যবহার করলে বরং এটি আপনার জন্য বুমেরাং হতে পারে!

পিপিই কেনার সময় লক্ষ রাখতে হবে এটি যেন পানি শোষণ না করতে পারে। সেলাইগুলো যেন ঢাকা থাকে এবং ভালো কাপড়ের হয়।

 

মন্তব্য