kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ফ্রিজে খাবার রাখার আগে

করোনার এই সময়ে বারবার বাজারে যেতে বারণ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য বাড়তি খাদ্যদ্রব্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন, তবে মানতে হবে কিছু সতর্কতা। পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া মামুন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফ্রিজে খাবার রাখার আগে

ফ্রিজে তো আমরা খাবার রাখিই কিন্তু কজন আর নিয়ম মেনে ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণ করেন? ফ্রিজে কখন, কোথায়, কিভাবে খাবার রাখছেন তার ওপর নির্ভর করে সেই খাবারটির পুষ্টিগুণ। এ জন্য নিয়ম মেনে ফ্রিজে খাবার সংক্ষরণ করা খুব জরুরি। ফ্রিজ কেনার আগে ভালো করে গুণাগুণ দেখে কিনুন। কম দামি ফ্রিজ কিনবেন না। একটু বেশি দাম দিয়ে ভালো ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনুন। এতে যেমন দীর্ঘদিন ফ্রিজটি ব্যবহার করতে পারবেন, তেমনি এতে রাখা খাবারও ভালো থাকবে। ফ্রিজ কেনার পর বাসায় এনে সঙ্গে সঙ্গে খাবার রাখতে যাবেন না। প্রথম ফ্রিজটি ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। ফ্রিজের ডোর ও ভেতরকার অংশ পরিষ্কার করতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। ফ্রিজ কেনার সময় সঙ্গে থাকা ম্যানুয়ালটি ভালো করে পড়ে নিন একবার। এরপর সে অনুযায়ী ফ্রিজটি সচল করুন।

ফ্রিজে কোনো খাবার রাখার আগে তাপমাত্রা সমন্বয় করে নিন। সাধারণত ডিপ ও নরমাল এই দুটি অংশে বিভক্ত থাকে ফ্রিজ। নরমাল অংশের তাপমাত্রা সব সময় ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং ডিপ অংশের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের আশপাশে রাখুন। ফ্রিজের কোথায় কোন খাবার রাখছেন তার ওপর নির্ভর করে খাবারের পুষ্টিগুণের স্থায়িত্ব। তরল খাবার যেমন দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবার খোলা পাত্রে না রেখে বোতলে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। বাজার থেকে কিনে আনা কোমলপানীয় ফ্রিজে রাখার আগে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ডোরে সাজিয়ে রাখুন। টমেটো, গাজর, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজি বেশিদিন সতেজ এবং পুষ্টিগুণ বজায় রাখার জন্য প্লাস্টিকে মুড়ে ফ্রিজের মধ্যে থাকা ভেজিটেবল বক্সে রাখুন। এতে কয়েকদিন ভালো এবং সতেজ থাকবে। ডিম-জাতীয় খাদ্যপণ্য ফ্রিজে এলোমেলোভাবে রাখবেন না। এগুলো রাখার জন্য ফ্রিজের দরজায় থাকা নির্দিষ্ট ট্রেতে সাজিয়ে রাখুন। এতে করে ডিম পড়ে গিয়ে ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকবে না। মাখন, মাংস ভালো রাখতে ডিপ ফ্রিজ ব্যবহার করুন। বেশি মাছ, মাংস রাখতে চাইলে ছোট ছোট অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাগে ভরে নিন। এরপর একটির ওপর আরেকটি সাজিয়ে রাখুন। তাজা ফল সংরক্ষণের আগে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর শুকিয়ে ছোট ছোট করে কেটে ব্যাগে পুরে নিন। এরপর ফ্রিজে সাজিয়ে রাখুন। খেয়াল রাখবেন মাছ, মাংসজাতীয় খাবার থেকে কোনো তরল গড়িয়ে যেন অন্য কিছুর সঙ্গে মিশে না যায়।

ফ্রিজে গরম খাবার রাখলে দেরিতে ঠাণ্ডা হয়। এতে খাবারের পুষ্টিমান কমে যায়। এ জন্য খাবারটি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

রান্না করা খাবার খোলা পাত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে এক খাবারের গন্ধ অন্য খাবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য ঢাকনাওয়ালা পাত্র ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় বিপিএ ফ্রি লেবেলযুক্ত প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার। কাঁচা মাংস, ফলমূল, তরকারি ইত্যাদি কবে কিনেছেন, কত দিন রেখে খেলে পুষ্টিমান অটুট থাকবে তা খাবারের প্যাকেটের গায়ে লিখে রাখুন। এতে জিনিসটা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ব্যবহার করতে পারবেন।

এ তো গেল ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের আগের কথা। কিন্তু খাবার রেখেও নিয়মিত ফ্রিজে নজরদারি করুন। কোন খাবারের কী অবস্থা সেটা দেখে ব্যবস্থা নিন। প্রয়োজনে সেই খাবারটি ব্যবহার করে ফেলুন। করোনার এই সময়ে সামান্য খাবারের অপচয় করা থেকে বিরত থাকুন।

ফ্রিজে রাখা খাবার ভালো রাখতে নিয়মিত ফ্রিজের যত্ন নিন। ফ্রিজ পরিষ্কারের আগে সব খাবার বের করে নিন। এরপর ফ্রিজ বন্ধ করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ডিটারজেন্ট পাউডার মিশ্রিত পানি ও সুতি কাপড় দিয়ে ফ্রিজ পরিষ্কার করে আরেকটি শুকনা সুতি কাপড়ে মুছে নিন। খেয়াল রাখবেন ফ্রিজের কোথাও যেন ডিটারজেন্ট পাউডার মিশ্রিত পানি লেগে না থাকে। এরপর ফ্রিজের দরজা বন্ধ করে পাওয়ার সুইচ অন করুন।

 

মন্তব্য