kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

এখন চাই চা

বহুকাল ধরে বাঙালির প্রিয় পানীয় চা। করোনার এই সময়ে চা আরো আরাধ্য হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। বলা হচ্ছে, করোনাকালে চা ও গরম পানীয় পান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আসলেই কি তাই? চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা কী বলছেন? জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখন চাই চা

মডেল : নুসরাত ফারিয়া, ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

দৈনিক তিনবার চা পান করলেই নাকি করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব? আসলেই কি তাই? যে কভিড-১৯ ভাইরাস থেকে বাঁচতে পুরো বিশ্ব হন্যে হয়ে উপায় অনুসন্ধান করছে তার প্রতিষেধক বহুল প্রচলিত চায়ে?

করোনা থেকে রক্ষা পেতে শুরুতে মানুষ কত কী-ই না করেছে। গায়ে গোবর মাখা, পূজা-অর্চনা, গোমূত্র পান থেকে শুরু করে তিনটি থানকুনি পাতার রেসিপিও ঝড় তুলেছিল উপমহাদেশে। তবে সেসব দাওয়াই করোনায় কোনো কাজে আসেনি। কিন্তু চা পানে করোনা থেকে মুক্তির খবর শুরু থেকেই বেশ চালু ছিল। এর পেছনে ছিল চীন ও তাইওয়ানের বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণা। করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের নানা চেষ্টায় কিছুদিন আগে চা থেকে এমন দাওয়াই খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তাঁরা। প্রকাশিত প্রবন্ধে তাঁরা উল্লেখ করেন, চায়ে রয়েছে ‘থিয়াফ্লাভিন’ নামের উপাদান। উপাদানটির মধ্যে করোনাভাইরাস বিস্তার রোধ করার গুণাবলি থাকার প্রমাণ পেয়েছেন তাঁরা।

করোনাভাইরাস আরএনএ ডিপেনডেন্ট আরএনএ পলিমারেজ [আরডিআরপি] নামের একধরনের এনজাইমের সহায়তায় প্রাণিদেহে নিজের অসংখ্য অনুলিপি তৈরি করে। এর মধ্য দিয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি করে করোনা। চায়ে থাকা থিয়াফ্লাভিন এই এনজাইমের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এতে করোনাভাইরাসের বিস্তার কম ঘটে। এই গবেষণার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনো বাকি। এ জন্য চায়ে থাকা থিয়াফ্লাভিন করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি দিতে কতটুকু কার্যকর তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু চাপ্রেমী বাংলাদেশিরা নিশ্চয়ই খানিকটা খুশি হয়েছেন এমন খবরে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে। এই বিজ্ঞপ্তির সাত নম্বর পয়েন্টে উল্লেখ রয়েছে, নিয়মিত কুসুম গরম পানি, আদা চা এবং গরম স্যুপ পান করুন। এটা থেকে বোঝা যায়, চা পান করোনার এই সময়ে উপকারী। করোনার যেহেতু কোনো প্রতিষেধক নেই, তাই প্রতিরোধই উত্তম পন্থা বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের অভিমত, ‘চা পানে করোনা নিরাময়ের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তির কথা আমরা এখনো জানি না। গরম পানি, আদা চা, গরম স্যুপ পান করলে আমাদের গলার উপকার হয়। শ্বাসযন্ত্রে আরাম বোধ হয়। করোনা যেহেতু শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে সে কারণে চা পান কিছুটা আরাম দিতে পারে। অনুরূপভাবে লবণ-পানি দিয়ে গড়গড়ার কথাও বলা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, শুধু চা কিংবা গরম পানীয় পান করেই করোনাকে হটিয়ে দেওয়া যাবে না। বারবার সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, বাইরে মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’

চা পান শরীরের জন্য উপকারী। চায়ে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ অন্যান্য উপাদান আমাদের শরীরে উপকার বয়ে আনে। মনে চনমনে ভাব এনে দেয়। বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান আখতারুন নাহার আলো জানান, কোনো রোগের ঝুঁকি কমানো এবং রোগ নিরাময় করা এক নয়। চায়ে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মানবশরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে। চা কোনো রোগের প্রতিষেধক নয়। সুতরাং শুধু চা পান করে করোনাকে হারিয়ে দেবেন—এই মনোভাব পুষে রাখা ঠিক হবে না।

তিনি আরো জানান, ভাইরাসগুলোর বহিরাবরণ সাধারণত তৈলাক্ত হয়। এ জন্য তৈলাক্ত জিনিস পরিষ্কার করতে সাবান-পানিসহ গরম পানিও অনেকে ব্যবহার করেন। এ জন্যই করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে বারবার সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার কথা বলা হচ্ছে। এতে ভাইরাসটি মারা যায়। করোনাভাইরাস শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে। আবার চা পান শ্বাসযন্ত্রের উন্নতি সাধন করে। এই উদ্দেশ্যে এখন চা পানের উপকারিতা রয়েছে। তা ছাড়া চায়ের নিজস্ব ভেষজ গুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী। মোট কথা, চা পানে কোনো ক্ষতি নেই। চায়ের সঙ্গে যদি লেবু, আদা বা লবঙ্গের মতো নানা উপাদান দেওয়া যায়, তাহলে তা আরো উপকার এনে দেয়।

‘চায়ে থাকা ভেষজ উপাদান আমাদের খুসখুসে কাশি, গলা ব্যথাসহ শ্বাসযন্ত্রের অসুখে উপকার দেয়। করোনার এই সময়ে আমাদের শ্বাসতন্ত্র ঠিকঠাক রাখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এ কারণে করোনা প্রতিরোধে নিয়মিত চা পান প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে।’ বললেন আখতারুন নাহার আলো।

মডেল : সুরভী

মন্তব্য