kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বই যদি ভিজে যায়

বর্ষায় পানির স্পর্শে নিমেষেই ভিজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে আপনার প্রিয় বই। ভেজা বইয়ের যত্ন নেবেন কিভাবে জানালেন বুকল্যান্ড লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ মাসুমুজ্জামান। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বই যদি ভিজে যায়

সারাটা দিন বৃষ্টি পড়ে আজ, আকাশে মেঘ, নদীতে কারুকাজ। বৃষ্টি যেন খাসিয়া মেয়ের চুল, হয়েছে ছুটি মিশনারী ইশকুল। সকাল থেকে উথালপাতাল হাওয়া, মেঘনাপাড়ে হয়নি তবু যাওয়া। কবি মহাদেব সাহার কবিতার মতোই সময় যেন এখন। এই মেঘ এই বৃষ্টি। তাতে মনের ভুলে বারান্দায় রেখে আসা বইটা ভিজে একাকার। আরো অনেক অসাবধানতায় ভিজে যেতে পারে প্রিয় বই। বইপ্রেমী মাত্রই বুঝবেন বেদনাটা। বই যদি ভিজে যায়-ই, তবে মন খারাপের সবটুকু ভেজা বইয়ের ওপর ঢেলে দেবেন না। অনেকেই মেজাজ হারিয়ে বইটা ছুড়ে ফেলে দেন। পরে আবার অনুতাপে ভোগেন। সেই আক্রোশ দেখানো থেকে বিরত থাকুন।

বই ভিজে গেলে প্রথমেই দ্রুত পানির সংস্পর্শ থেকে বইটা সরিয়ে নিন, যাতে আরো বেশি ভিজে নষ্ট না হয়। ভেজা বই থেকে যদি ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে, তাহলে শক্ত করে কিন্তু খুব সাবধানে চেপে ধরুন। যতটা সম্ভব পানি নিংড়ে ফেলার চেষ্টা করুন। এরপর পাতলা ন্যাকড়া দিয়ে প্রথমেই বইটার কভার ও ব্যাক কভার সাবধানতার সঙ্গে মুছে নিন। এরপর বইটা রোদে শুকানোর চেষ্টা করুন। খোলা মেঝেতে না রেখে কাপড়, মাদুর অথবা শতরঞ্জি বিছিয়ে তার ওপর বই শুকাতে দিন। শুইয়ে না রেখে খাড়া করে রোদে দিন। প্রয়োজনে স্ট্যান্ড ব্যবহার করুন। খুব চড়া রোদে ভেজা বই শুকানো যাবে না। এতে বইয়ের পৃষ্ঠা ভেঙে যায়। রোদ না থাকলে বৈদ্যুতিক বাল্বের নিচে রেখেও ভেজা বই শুকিয়ে নিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত তাপে বইয়ের পৃষ্ঠা পুড়ে যায় কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা বেশি হলে কিছু পৃষ্ঠার পর পর পেপার টাওয়েল গুঁজে দিলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত শুষে নিতে সাহায্য করবে।  

এ তো গেল ভেজা বইয়ের যত্নের কথা। কিন্তু বই যাতে না ভেজে সে চেষ্টাই করা উচিত সবার আগে। অনেকেই বই ভালো রাখতে পাতলা পলিথিন দিয়ে মলাট ভালো করে মুড়ে নেন। এতেও বই ভিজে যাওয়া থেকে রক্ষা করা যায়। সামান্য বৃষ্টির ছাঁট বা চা-কফি উল্টে পড়লেও পলিথিন ভেদ করে বই পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। বই রাখার স্থানটিও নিরাপদ রাখা উচিত। আলো-বাতাসের চলাচল আছে এমন স্থান বইয়ের জন্য উপযোগী। স্যাঁতসেঁতে বা বদ্ধ ঘরে রাখলে বই দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার দরজা বা জানালার গা ঘেঁষে বইয়ের আলমারি রাখবেন না। এতে রোদ বা বৃষ্টির ছাঁট এসে সহজেই বই নষ্ট করে দিতে পারে। পোষা প্রাণী ও শিশুদের নাগাল থেকে বই নিরাপদ দূরত্বে রাখুন। শিশুরা না বুঝেই অনেক সময় বই নিয়ে খেলতে গিয়ে নষ্ট করে ফেলে। খাবার খেতে খেতে বইপড়া থেকে বিরত থাকুন। খেতে খেতে বইপড়ার অভ্যাস অনেকের। খাবার মাখা হাতে পাতা ওল্টাতে গিয়ে বা কাপ-প্লেট উল্টেও বই ভিজে যেতে পারে। বইয়ের মধ্যে প্রায়ই শুকনো ফুল বা পাতার দেখা পাওয়া যায়। বইয়ে ফুল বা পাতা গুঁজে রাখা থেকে বিরত থাকুন। পাতা বা ফুল রাখার কারণেও অনেক সময় বইয়ের পৃষ্ঠা ভিজে নষ্ট হয় অথবা দাগ পড়ে। বইয়ের পাতা ওল্টাতে অহেতুক থুথু ব্যবহার করবেন না। এটা অস্বাস্থ্যকর। একান্তই অভ্যাস গড়ে উঠলে বদলে ফেলুন। করোনার এই সময়ে এই অভ্যাস মোটেই ভালো নয়। একান্তই না পারলে পাতা ওল্টাতে ওয়াটার প্যাড ব্যবহার করুন। অপরিষ্কার অথবা ভেজা হাতে বই ধরবেন না। বই বহন করার সময় ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ ব্যবহার করুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা