kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

শিশু বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলে

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশু বৃষ্টিতে ভিজতে চাইলে

শিশুদের মিষ্টিমধুর আবদার সামলাতে অনেক সময় রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় মা-বাবাকে। কিন্তু সব বায়না মেনে নেওয়াও মুশকিল। একটু কৌশলী হলেই সব দিক সামলানো সম্ভব।

সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান রহমান খানের মেয়ে আইরা তাহরিম খান। করোনার এই সময়ে ঘরবন্দি থাকতে থাকতে বিরক্ত। বৃষ্টি ভীষণ ভালোবাসে আইরা। সম্প্রতি বাবার কাছে বৃষ্টিতে ভেজার বায়না ধরেছিল গানে গানে। কিন্তু সন্তানের সব কথায় তো আর সায় দিতে নেই। আবার সরাসরি না বললেও মন খারাপ করে। এই সময়ে বৃষ্টিতে ভিজলে যদি জ্বর বা ঠাণ্ডা হয়। বাবাদের মন বলে কথা। মেয়ের বৃষ্টিতে ভেজার বায়না এড়াতে তিনি গানে গানে নিষেধ করেছেন আইরাকে। তারপর বাপ-বেটি মিলে সেই গানে কণ্ঠ দিয়েছে তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হকের মতে, সন্তানের সব বায়না মা-বাবাদের মেটাতে নেই। শিশুরা তো আর বুঝেশুনে বায়না ধরে না। কিন্তু তাদের বায়নার ভালোমন্দ দিকটা মা-বাবাকেই ভাবতে হয়। বৃষ্টিতে ভিজতে যাওয়ার বায়না তেমন ক্ষতিকর নয়। বরং কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টিতে ভিজলে ও খেলে বেড়ালে ভালো। কিন্তু বেশিক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে অসুখ হতে পারে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. রিফাত জামানের মতে, শিশুরা বৃষ্টিতে ভিজতে চাইবেই। কিন্তু সব সময় শিশুকে সেটি করতে দেওয়া যাবে না। বয়স ও তার স্বাস্থ্যগত নানা দিক বিবেচনায় নিতে হবে প্রথমে। যদি আগে থেকেই সাইনোসাইটিস বা নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসকষ্টের অসুখ থাকে, তবে কিছুতেই বৃষ্টিতে ভিজতে দেওয়া যাবে না। তবে শিশু যদি সব দিক দিয়ে ফিট থাকে, তবে তাকে কিছু সময়ের জন্য বৃষ্টিতে ভিজতে দেওয়া যেতে পারে। এমন যদি হয় শিশু খুব বেশি বৃষ্টিতে ভেজার বায়না ধরেছে কিন্তু তাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেওয়া ঠিক হবে না, তাহলে গামবুট, রেইনকোট আর ছাতা নিয়ে হাঁটতে বের হোন। পরিচ্ছন্ন ও ছিমছাম রাস্তা বেছে নিন বৃষ্টিতে হাঁটার জন্য। এতে ওর বৃষ্টিতে ভেজার বাসনা কিছুটা হলেও পূর্ণ হবে।

বৃষ্টিতে মেতে ওঠার আগে সময়ের প্রতি খেয়াল রাখুন। দুপুরের আগে বৃষ্টিতে ভিজলেই ভালো। দুপুরের পর অথবা রাতে বৃষ্টিতে নামতে দেওয়া যাবে না। ছাদে অথবা বাসার সামনের খোলা লনে খেলতে দিতে পারেন। বৃষ্টি পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নামতে দেবেন না। কিছু সময় অপেক্ষা করুন। বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জায়গাটা পরিষ্কার হয়ে যাক। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শিশুদের তো বটেই; বড়দেরও ভেজার জন্য উপযোগী নয়। একটু ভারী বৃষ্টিতে ভেজাই ভালো এবং এতে মজাও পাওয়া যায়। প্রয়োজন হলে আপনিও শিশুর সঙ্গে বৃষ্টিতে মেতে উঠুন। ঘরে ফিরে কলের পানি দিয়ে গোসল সেরে নিতে বলুন। এরপর পুরো শরীর ভালোমতো মুছে দিন। খাঁটি সরিষার তেল অথবা অলিভ অয়েল গায়ে মেখে দিন। পরিষ্কার পোশাক পরিয়ে শিশুকে গরম খাবার খেতে দিন। সারা দিনের জন্য বেশ চনমনে থাকবে আপনার শিশু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা