kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

ঘরেই নিন সন্তানের পরীক্ষা

স্কুল বন্ধ থাকলেও অনলাইনেই চলছে ক্লাস। অগ্রগতি যাচাই করতে ঘরেই নিতে পারেন সন্তানের পরীক্ষা। সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাফিসা নাসিরের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরেই নিন সন্তানের পরীক্ষা

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে স্কুল। তবে পড়াশোনা চলছে বিকল্প ব্যবস্থায়। সংসদ টিভিতে নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। সরাসরি দেখতে না পারলেও সমস্যা নেই। টিভিতে প্রচারের পর সেগুলো কিশোর বাতায়নের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক স্কুলেই অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা সেটারও ব্যবস্থা করতে পারেনি, তারা বাড়িতেই পড়া এগিয়ে রাখার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিলেবাস দিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে করোনায় একদম থমকে নেই পাঠদান। তবে বন্ধ আছে একটা বিষয়—পরীক্ষা। শিগগিরই স্কুল না খুললে কিভাবে সেগুলো নেওয়া হবে, তা নিয়ে অনেকেই আছেন চিন্তায়। পাশাপাশি আরেকটি শঙ্কাও আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পরীক্ষার অভ্যাসটাতেই না মরচে পড়ে যায়।

সে জন্য আপাতত নিজেরাই উদ্যোগী হতে পারেন। স্কুল কখন কিভাবে পরীক্ষা নেবে, সেটা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে। সে জন্য অপেক্ষা না করে আপনি নিজেই ঘরে বসে সন্তানের পরীক্ষা নিতে পারেন। তাতে ওর পড়াশোনার অগ্রগতি যেমন যাচাই করা হবে, তেমনি পরীক্ষার অভ্যাসটাও জারি থাকবে।

কিন্তু সেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কে করে দেবে? কিশোর বাতায়নের সাহায্য নিতে পারেন। সেখানে সব ক্লাসের শেষেই বাড়ির কাজ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্কুলের অনলাইন ক্লাসগুলোতেও দেওয়া হচ্ছে। সেগুলোর ভিত্তিতে আপনার সন্তানের জন্য প্রশ্নপত্র বানিয়ে নিন। সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের সহায়তা নিন।

আগে থেকেই সন্তানকে তারিখ ও সময় জানিয়ে দিন, যেন সে পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে। নির্দিষ্ট তারিখে বাসায় পরীক্ষার আবহ তৈরি করুন, যেন সন্তানের মধ্যে একটা তাগিদ তৈরি হয়। অনেকেই অনলাইনে ক্লাস করার জন্য বাড়ির একটি জায়গা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সেখানেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। তাতে পরীক্ষার সঙ্গে স্কুলের একটা সংশ্লিষ্টতার বোধ তৈরি হবে। এ সময় যেন কেউ আশপাশে না আসে, সেটা নিশ্চিত করুন। নিরুপদ্রবে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন। নিজেই পরীক্ষার নজরদারি করুন। যেভাবে শিক্ষকরা পরীক্ষার কেন্দ্রে করেন।

তবে আপনার মতো সন্তানও জানে, এই পরীক্ষার শেষ পর্যন্ত কোনো মূল্য নেই। কেননা এর নম্বর স্কুলের ফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কাজেই এমন কিছু করতে হবে, যেন ওর মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। আবার এমন কড়াকড়ি করা যাবে না, যাতে পরীক্ষাটা ওর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। যেমন পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে পারেন। ছোটখাটো কোনো পুরস্কার, কিন্তু এমন কিছু, যেটা ওর খুব পছন্দ হবে। এতে আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি সন্তানের দৈনন্দিন জীবনেও আসবে নতুনত্ব। ঘরে থাকার একঘেয়েমি কাটিয়ে সহায়তা করবে ওকে উত্ফুল্ল রাখতে।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে সততার শিক্ষাও পোক্ত হবে। কেননা বাড়ির পরীক্ষায় একটু-আধটু নিয়ম ভাঙলেও শাস্তির ভয় নেই। কিন্তু তাকে বোঝাতে হবে, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নিয়ম না ভাঙাটাই হচ্ছে সত্যিকারের ভালো মানুষের পরিচয়। নিশ্চিত করতে হবে, সে যেন নিজে থেকেই কোনো অনৈতিক সুবিধা না নেওয়ার চর্চা করে। আপনাকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিজে তো বটেই, বাড়ির কেউই যেন তাকে পরীক্ষায় ছোটখাটো সহায়তা না করে, নিশ্চিত করতে হবে।

এভাবে ঘরে বসেই আপনার সন্তানের জন্য নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। তাতে লাভ আছে আরো একটা। শিগগিরই স্কুল না খুললে অনলাইনে ক্লাসের পর পরীক্ষাও নেওয়া হতে পারে। অনেক স্কুল তেমনটা শুরুও করেছে। বাড়িতে নিজে নিজে সন্তানের ‘মক টেস্ট’ নিয়ে রাখলে সে বাবদে আপনার সন্তানের প্রস্তুতিটাও হয়ে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা