kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

রেস্তরাঁর রান্না বাড়িতেই

লকডাউনে বন্ধ বেশির ভাগ রেস্তরাঁ। করোনার এই সময়ে বাইরে গিয়ে খাওয়াটাও নিরাপদ নয়। বাড়িতেই করতে পারেন রেস্তরাঁর রান্না। বিস্তারিত জানিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আলপনা হাবীব। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেস্তরাঁর রান্না বাড়িতেই

মানুষের হূদয় নাকি স্পর্শ করা যায় পাকস্থলী দিয়ে। কথাটির সরল বাংলা হচ্ছে, কারো মন জয় করতে চাইলে তাঁকে ভালো খাওয়াতে হয়। পেটপূজার জন্য বাঙালির খ্যাতি বিশ্বজোড়া। আর কিছুতে না হোক, অন্তত রসনাবিলাসে তাঁরা কোনো কমতি করেন না। সে জন্যই বোধহয় দেশের শহরে-বন্দরে তো বটেই, অলিগলিতেও ধুন্ধুমার রেস্তরাঁ ব্যবসা। কারণ যা-ই হোক, রেস্তরাঁর খাবারের প্রতি ছেলে-বুড়ো সবারই আলাদা আকর্ষণ কাজ করে। কিন্তু করোনাকালে তো আর রেস্তরাঁয় গিয়ে খাওয়ার উপায় নেই। এ জন্য বাড়িতেই আয়োজন করতে পারেন রেস্তরাঁর খাবারের। কিন্তু কিভাবে? আলপনা হাবীবের মতে, রেস্তরাঁর খাবার আর বাড়ির খাবারের মধ্যে খুব বেশি গুণগত তারতম্য নেই; বরং বাড়িতে তৈরি করা বিরিয়ানি অনেক নামি-দামি রেস্তরাঁর বিরিয়ানির চেয়ে স্বাদে-মানে এগিয়ে থাকে। তার পরও সবার মধ্যে রেস্তরাঁর খাবারের প্রতি আলাদা আকর্ষণের কারণ মূলত সুন্দর পরিবেশনা, সাজানো-গোছানো পরিবেশ, সবাই মিলে সেজেগুজে খেতে যাওয়া এবং একসঙ্গে বসে খাওয়া। এ ছাড়া রেস্তরাঁয় গিয়ে খাবার খাওয়ার সময় বাড়ির মতো বারবার রান্নাঘরে যেতে-আসতে হয় না, এটা-ওটা এগিয়ে দিতে হয় না।

রেস্তরাঁয় অনেক মানুষের খাবার একসঙ্গে রান্না করা হয়। তাই সেখানকার কিচেন বাড়ির কিচেনের চেয়ে ভিন্ন হয়। সেখানে রান্নার জন্য থাকেন পেশাদার শেফ। তার পরও চাইলে  বাড়িতেই রেস্তরাঁর মতো করে রান্না করা সম্ভব।

এ জন্য সবার আগে দরকার রান্নার মানসিকতা। রান্নার কাজটি আনন্দ ও আগ্রহ নিয়ে করলে যেকোনো কিছুর মতো করেই করা সম্ভব। অনেক বড় বড় রেস্তরাঁ আছে যারা সরাসরি রান্না করা দেখায়। আবার অনেক বিখ্যাত শেফের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখানে তারা নিজেদের নানা রান্নার ভিডিও আপলোড করেন।

আমাদের দেশেও অনেকে রান্নার চ্যানেল খুলেছেন ইউটিউবে। সেখানে ছোট-বড় অনেক রেস্তরাঁর খাবারের রেসিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া রান্নার অনেক বই আছে। এখান থেকেও রান্না শিখে বাড়ির সবাইকে রেঁধে খাওয়ানো সম্ভব। ইউটিউবে আলপনা হাবীবের সাড়ে চার শর মতো রান্নার ভিডিও আছে। তিনি সহজ করে পরিমাপমতো উপকরণ দিয়ে সবাইকে রান্না শেখাতে চেষ্টা করেন। তাঁর মতে, রেস্তরাঁর বিভিন্ন খাবার, যেমন—চায়নিজ রান্নায় জমজমাট আগুনের হেভি ডিউটি চুলা দরকার। কিন্তু বাড়ির ছোট চুলায়ও সেটা করা সম্ভব। শুধু উপযুক্ত পরিবেশ আর উপাদানই নয়, বরং টেকনিক ও উপস্থিত বুদ্ধি যেকোনো রান্না ভালো করে তুলতে পারে। এ জন্য আগে রান্নার উপায় নিয়ে ভাবতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে আগ্রহ ও আনন্দের সঙ্গে রান্নার কাজটি করতে হবে।

বাসার খাবারে রেস্তরাঁর আবহ আনতে দরকার সুন্দর করে পরিবেশন। এখন বাজারে বিভিন্ন ধরনের হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও কুকারিজ যন্ত্রপাতি কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোর সাহায্যে যে কেউ সু্ন্দর সুন্দর আকৃতি দিয়ে সবজি ও ফলমূল কাটতে পারেন। সেসব ব্যবহার করে সুন্দর করে সাজিয়ে খাবার পরিবেশন করুন। দেখবেন বাড়িতেই খাবার টেবিলে কী রকম রেস্তরাঁর ভাব ফুটে উঠছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা