kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

অনলাইনে অন্য কোনোখানে

লকডাউনের এই সময়ে ঘরে থাকা ভ্রমণপ্রিয়দের জন্য কঠিন এক কাজ। কিন্তু ঘরে থেকেই অন্তর্জালে ঘুরে বেড়াতে পারেন দেশ-বিদেশ। উপায় জানিয়েছেন জল-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো আ. ন. ম. জাফর সাদেক। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সপ্তাহে না হলেও মাসে অন্তত এক-দুই দিনের জন্য দল বেঁধে ঘুরতে যাওয়া ছিল রাশেদ হাসানের নিয়মিত অভ্যাস। ছোটবেলা থেকেই দুনিয়া দেখার দুর্নিবার আকর্ষণ। আগে বাড়ির কাছের এলাকাগুলো সাইকেলে চষে বেড়াতেন। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ানোর পরিধি দিন দিন বেড়েছে। দেশ-বিদেশের বহু স্থানে ঘুরে বেড়ান দল বেঁধে। সেই তিনি ও তাঁর দল দুই মাসেরও বেশি হলো ঘরবন্দি। ঘুরতে যেতে মন চাইলেও উপায় নেই। কথায় বলে, ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। তাই দুনিয়া দেখার একটি উপায় ঠিকই বের করে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা। অনলাইনেই কিছু সময় ঘুরে বেড়ান। চাইলে আপনিও লকডাইনের এই সময়ে অনলাইনে ঘুরে বেড়ানোর স্বাদ মেটাতে পারেন। সরাসরি ঘুরে বেড়ানোর মজা হয়তো পাবেন না, কিন্তু যা পাবেন তা-ও কম নয়। একজন মানুষের পক্ষে তো পুরো দুনিয়া ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয়। ভাবুন তো, হাজার ফুট নিচে সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হেঁটে চলেছেন, যেখানে সূর্যের আলোও পৌঁছতে পারে না। হাঙর, তিমিসহ নানা রকম প্রাণীর পিছু পিছু ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিংবা আফ্রিকা অথবা আমাজনের কথাই চিন্তা করুন। হাজার ফুট উঁচু জলপ্রপাতের নিচে বসবাস করা পাখিদের নিত্যদিনের জীবন, সিংহের হাতি কিংবা জিরাফ শিকার—একসময় এসব দৃশ্য দেখার চিন্তা কেবল স্বপ্নেই দেখা সম্ভব। সেই দৃশ্যই এখন অনলাইনে, আমাদের হাতের মুঠোয়। কোনো বানানো দৃশ্য নয়; দিনের পর দিন, মাসের পর মাস পাহাড়, সমুদ্র ও গভীর জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ধারণ করেছেন আপনার মতোই অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় একদল মানুষ। ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে দুর্নিবার আকর্ষণ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভারি দুষ্কর। তার স্বাদ নিতে পারেন অনলাইনে ঘুরে বেড়িয়ে।  ডুব দিতে পারেন ব্লু প্লানেট ওয়ান, ব্লুু প্লানেট টু, ফ্রোজেন প্লানেট, দ্য হান্ট, আফ্রিকা, আওয়ার প্লানেট থেকে শুরু করে হালে মুক্তি পাওয়া সেভেন ওয়ার্ল্ডস ওয়ান প্লানেট সিরিজে। প্রাণিরাজ্য ও জল-জঙ্গল নিয়ে ন্যাশনাল ডিসকভারি, এনিমেল প্লানেট, সায়েন্স চ্যানেল নামের বেশ কিছু টেলিভিশন চ্যানেল আছে। এসব দেখার জন্য দিনের একটি সময় নির্দিষ্ট করে রাখতে পারেন। জোগাতে পারেন মনের রসদ। শিশুদের জন্যও আছে ডিসকভারি কিডস নামের শিশুতোষ একটি চ্যানেল। দুনিয়ার প্রাণিজগত ও জল-জঙ্গলের অনেক অদেখা জিনিস তারা দেখতে পাবে এই চ্যানেলে।

এছাড়াও ঘোরাঘুরি নিয়ে আছে অনেক সুন্দর সুন্দর চলচ্চিত্র— ‘ইনটু দ্য ওয়াইল্ড’, ‘দ্য ওয়ে’, ‘এ ওয়াক ইন দ্য উডস’, ‘আউট অব আফ্রিকা’, ‘দ্য মোটরসাইকেল ডায়রিজ’, ‘ওয়াইল্ড’ ইত্যাদি। সেসব দেখলেও পাবেন ঘোরাঘুরির স্বাদ। নিয়মিত যাঁরা ঘুরে বেড়ান তাঁদের অনেকেই ঘোরাঘুরির দৃশ্য নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে দেন। এসব ভিডিওর দর্শকও কিন্তু কম নয়। ইউটিউবে পাবেন না এমন স্থানের ভিডিও খুব কমই আছে। এ ছাড়া ঘোরাঘুরি নিয়ে লেখা ব্লগ ও বই পড়েও মনের অন্দরে ঘুরে বেড়াতে পারেন লকডাইনের এই সময়ে। তাতে সময়টা মন্দ কাটার কথা না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা