kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

ঘরে বসে ঘুড়ি বানান

বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না বলে কি শিশুদের খেলাধুলাও বন্ধ থাকবে? ঘরে বসেই ওদের ঘুড়ি তৈরি করে দিন। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরে বসে ঘুড়ি বানান

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে শিশুদের। অন্তত বিকেলে ওদের নিয়ে ছাদে যাওয়া উচিত, যাতে একটু খোলা হাওয়ার স্বাদ নিতে পারে। আর যদি ঘুড়ির বন্দোবস্ত করা যায়, তাহলে ছাদে গিয়ে স্রেফ হাওয়া খেয়েই ফিরতে হবে না, রীতিমতো মন ভরে খেলাধুলা করা যাবে।

তবে একটা মুশকিল আছে। বাজারে এখন ঘুড়ি কিনতে পাওয়াটা বেশ ঝক্কির। সেই ভরসায় না থেকে বরং নিজেই ঘরে বসে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘুড়ি।

 

যা যা লাগবে

পুরনো খবরের কাগজের পাতা ১টি, শলার কাঠি ৪টি, এন্টিকাটার (যদি থাকে), কাঁচি, পেন্সিল, স্কচ টেপ বা মাস্কিং টেপ, স্কেল, আঠা।

 

যেভাবে বানাবেন

১. খবরের কাগজের পাতার মাঝের জোড়া বরাবর কেটে নিন। এন্টিকাটার দিয়ে কাটতে সুবিধা হবে। নইলে কাঁচি বা অন্য কিছু দিয়েও কাটতে পারেন। কাটা কাগজ দুটির একটি নিন। একটা কোনা ভাঁজ করে কাগজের অন্য পাশ পর্যন্ত নিয়ে আসুন, যেন ভাঁজ হয়ে ছবির মতো একটি ত্রিভুজ তৈরি হয়। ভাঁজ করা কাগজের নিচের দিক ধরে অন্য পাশের কাগজ কেটে নিন।

২. ভাঁজের নিচের দিকের অংশটা ছবির মতো করে কেটে নিন। সে জন্য পেন্সিল ও স্কেল ব্যবহার করে জোড়ার দিক থেকে খোলা প্রান্তের দিকে ক্রমশ বড় করে একটি দাগ টানুন। শেষ মাথা থেকে খানিকটা আগে সেই দাগ থেকে বাইরের দিকে আড়াআড়ি দাগ টানুন। তিন কোনা অংশটা কাঁচি দিয়ে কেটে নিন।

 

৩. আপাতত কাগজ কাটার কাজ শেষ। এবার শলার কাঠি ৪টি নিন। এন্টিকাটার (না থাকলে ছুরি) দিয়ে সেগুলো চেঁছে নিন। প্রথমে দুটি কাঠি নিয়ে ছবির মতো কাগজের মাঝ বরাবর রেখে মাপুন। তার চেয়ে একটু বেশি মাপে ভেঙে নিন। ভাঙা অংশ এখনই ফেলে দেবেন না। কাঠি দুটি একটি আরেকটির সঙ্গে উল্টো করে ধরুন। মানে একটির মাথার দিক, আরেকটির লেজের দিক ওপরে থাকবে। এবার কাঠি দুটি জোড়া লাগাতে হবে। সে জন্য ওপরে, নিচে ও মাঝে স্কচ টেপ বা মাস্কিং টেপ পেঁচিয়ে দিন।

৪. অন্য জোড়া শলার কাঠিও একইভাবে জোড়া লাগাতে হবে। তবে মাপ নিতে হবে মাঝ বরাবর। ছবিতে যেভাবে দেখানো হয়েছে সেভাবে বাঁকিয়ে। এটা মাপের চেয়ে বড় নেয়ার দরকার নেই।

৫. এবার কাগজের মাঝ বরাবর লম্বা করে আঠা লাগান। তার ওপরে প্রথম জোড়া কাঠি ভালো করে বসিয়ে দিন, যেন আঠায় জোড়া লেগে যায়। ছোট এক টুকরা কাগজ বর্গাকারে কেটে নিন। আঠা দিয়ে কাঠির একদম ওপরে লাগিয়ে দিন। যেন কাঠিটি কাগজের গায়ে শক্ত করে এঁটে থাকে।

৬. এবার দ্বিতীয় জোড়া কাঠি নিন। তবে এবার আঠা লাগাতে হবে একটু অন্যভাবে। কাগজের দুই পাশে কানের মতো যে অতিরিক্ত অংশ আছে, সে দুটিতে। তারপর কাঠি জোড়া বাঁকিয়ে কাগজের মাঝ বরাবর রেখে দুই মাথায় কানের অংশ মুড়ে লাগিয়ে দিতে হবে।

৭. এবার দুই টুকরা কাগজ বর্গাকারে আর দুই টুকরা আয়তাকারে কেটে নিন। দুই জোড়া কাঠি ঘুড়ির মাঝ বরাবর ওপরের দিকে একটি আরেকটির ওপর দিয়ে গেছে। বর্গাকার কাগজের টুকরা দুটির একটি লাগাতে হবে সেখানে। আরেকটি লম্বা কাঠি জোড়ার ওপর। তবে একটু নিচের দিকে। আর আয়তাকার টুকরা দুটি লাগাতে হবে বাঁকানো কাঠি জোড়ার ওপরে, দুই প্রান্তের দিকে, যে জায়গাগুলোতে ছবিতে লাগানো হয়েছে।

৮. এবার ঘুড়ির লেজ লাগাতে হবে। সে জন্য তিনকোনা করে দুই টুকরা কাগজ কেটে নিতে হবে। একটি রাখুন ঘুড়ির নিচে একদম শেষ প্রান্তে, ছবির মতো করে। শলার ভাঙা অংশগুলো এবার প্রয়োজন হবে। তিনকোনা কাগজের দুই পাশের মাপে সেগুলো ভেঙে নিন। নিচে রাখা কাগজের ওপরে দুই পাশে ছবির মতো করে রাখুন। আঠা দিয়ে তার ওপরে অন্য কাগজটি ভালো করে লাগিয়ে দিন।

৯. ব্যস, আপনার ঘুড়ি তৈরি। এবার কাগজের তৈরি এই ঘুড়িতে সুতা পরিয়ে নিন। ছাদে গিয়ে শুরু করে দিন উড়ানো।

যদি নাটাইয়ের প্রয়োজন হয়, ঘরে বসে বানিয়ে নিতে পারেন সেটাও। সে জন্য লাগবে একটি পানীয়ের বোতল ও লাঠির ছোট টুকরা। বোতলের নিচে একটি ছিদ্র করে নিন। এবার লাঠির টুকরাটি বোতলের মুখ দিয়ে ঢুকিয়ে নিচের ছিদ্র দিয়ে বের করে আনুন। ব্যস, আপনার নাটাই তৈরি। যত প্রয়োজন বোতলের গায়ে ঘুড়ির সুতা পেঁচিয়ে নিলেই হলো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা