kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২ জুন ২০২০। ৯ শাওয়াল ১৪৪১

দূরে থাক মানসিক চাপ

সারা দিন ঘরে বসে থাকাই এখন কাজ। সব কিছুতেই যেন স্থবিরতা। মনের উপর একটা চাপ। নিজেকে রক্ষায় করণীয় কী জানিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৬ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূরে থাক মানসিক চাপ

চারদিকে এখন একটাই আলোচনা, করোনা। ঘরবন্দি জীবনযাপন, দৈনন্দিন বাজার, সবার সঙ্গে মিশতে না পারার আকুলতার সঙ্গে অনাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে এই সময় মানসিক চাপ চেপে বসাটাই স্বাভাবিক। তা ছাড়া করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া, মৃত্যুভয়, অবসাদ লাগা, কাজ বা চাকরি হারানোর ভয়, সংক্রমিত হলে চিকিৎসা না পাওয়া, ভুয়া খবর, উদ্বেগ থেকেও মনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

এটা থেকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাধাগ্রস্ত হয়। এ জন্য মনোবল চাঙা রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, চিরকাল এই অচলাবস্থা চলবে না। শিগগিরই সব আগের মতো হয়ে যাবে।

 

ভুল খবর, গুজব থেকে দূরে থাকুন

ফেসবুক, ইউটিউবের এই যুগে যেকোনো খবর খুব দ্রুত ছড়ায়। এরই মধ্যে অনেকে জেনে গেছে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে বয়স্করা। এটার ভালো মন্দ না জেনেই ছড়িয়ে দিচ্ছি আমরা। এতে করে বয়স্করা তো বটেই, যাদের বাড়িতে এরকম মানুষ রয়েছে তারাও মানসিক চাপে ভুগতে শুরু করে। চেষ্টা করুন নির্ভরযোগ্য কোনো উৎস থেকে খবর জানতে। কোনো ধরনের গুজবে কান দেবেন না। 

 

পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি

হাতে অফুরন্ত সময় আছে বলেই মুঠোফোন সব সময় তালুবন্দি রাখবেন না। বিশেষ করে রাতে মোবাইল নিয়ে বিছানায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চেষ্টা করুন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমাতে। পর্যাপ্ত ভালো ঘুম মনকে অবসাদ থেকে মুক্তি দেয়।

 

ব্যায়াম করুন

মনকে এক নিমিষেই ভালো করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ব্যায়াম। বলা হয়ে থাকে একটি মন্দ দিন ব্যায়ামের ফলে ভালো দিনে পরিণত হয়। ঘরেই ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা ব্যায়াম করুন।

 

আগামী দিন নিয়ে অযথা টেনশন নয়

সন্তানের স্কুল বন্ধ, পড়াশোনা ঠিকমতো হচ্ছে না। ও আবার পিছিয়ে পড়বে না তো? কর্মক্ষেত্রেই বা লকডাউনের পর না জানি কী পরিস্থিতি তৈরি হয়। জমানো টাকায় করোনা পরিস্থিতি কুলিয়ে ওঠা যাবে তো? মনকে এসব প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ক্লান্ত করে তুলবেন না। বরং পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিন। সব কিছু অচিরেই ঠিক হয়ে যাবে—এই বিশ্বাস লালন করুন।

 

পরিবারের সবাই মিলে হাসিখুশি থাকুন

একসঙ্গে থাকার এই সময়টা পরিবারের সবাইকে নিয়ে উপভোগ করুন। সন্তানকে পড়াশোনায় সাহায্য করুন। স্বামী-স্ত্রী একে অন্যের কাজে সহযোগিতা করুন। একসঙ্গে ক্যারম, দাবা, লুডু খেলায় মেতে উঠুন। ভালো কোনো চলচ্চিত্র দেখতে বসে যান। ফেলে আসা জীবনের মজার মজার গল্প, স্মৃতি অন্যদের শোনান। বই পড়ুন, ডায়েরি লিখুন। শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন হলেও সবার সঙ্গে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখুন।   

 

চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন

অতিরিক্ত মানসিক চাপ পেয়ে বসলে অনলাইনে বা ফোনে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা