kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

গৃহবন্দির একাকিত্ব কাটাতে

দেশের সবকিছু কার্যত বন্ধ। থাকতে হবে নিজের বাসায়। একাকিত্ব কাটাতে কী করবেন ওয়াশিংটন পোস্ট অবলম্বনে লিখেছেন নাবীল আল জাহান

৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৃহবন্দির একাকিত্ব কাটাতে

ছবি : মালিয়াত বিনতে

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে সবাই এখন কাটাচ্ছেন গৃহবন্দি সময়। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দশ দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয়েছে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গণপরিবহনও, যাতে সবাই বাসায় থাকে। যেন কমানো যায় করোনাভাইরাসের বিস্তার।

টানা এত দিন চার দেয়ালের ভেতর বন্দি থাকা খুব একটা সহজ কাজ নয়। দীর্ঘ সময় একই জায়গায় থাকতে হবে, করতে হবে একই ধরনের কাজ। এ সময় একঘেয়েমি লাগবে সবকিছু। চেপে বসতে পারে একাকিত্ব। মেনে চলতে পারেন কয়েকটি পরামর্শ।

 

ব্যায়াম করুন

যেকোনো সময়ই ব্যায়াম করা শরীর ও মনের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই সময়ে তা আরো বেশি করে সত্যি। এতে শ্রান্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। পাশাপাশি মনও থাকে সতেজ। সাধারণ সময়ে সবাই ব্যায়াম করতে জিমে যান। কিংবা হাঁটতে বা দৌড়াতে যান কাছের পার্কে বা মাঠে। এখন সেসব করতে পারেন বাড়িতে থেকেই। সে জন্য বাড়ির বড় ঘর কিংবা ছাদ ব্যবহার করতে পারেন। ব্যায়াম করায় সঙ্গী হতে পারে বাড়ির আরো কেউ, তবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে।

 

যোগাযোগ রাখুন নিয়মিত

গৃহবন্দি দিনগুলোতে ঘরে বসেই যোগাযোগ রাখুন অন্যদের সঙ্গে। কাজে লাগান আপনার মোবাইল ফোন। এমনি সময়ে সবাই এর অপকারিতার কথাই বেশি করে বলেন। মানুষ নাকি মোবাইলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কথা বলে। তবে এখন এটাই বরং ভালো। মেসেজ চালাচালি নয়, সরাসরি কথা বলুন অন্যদের সঙ্গে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেক প্রিয়জনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলা হয় না। এই সুযোগে তাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। মনে রাখবেন, ইতিবাচক সামাজিক জীবন মানুষকে সুস্থ ও প্রফুল্ল রাখে। বিশেষ করে বড় ধরনের দুর্যোগের সময়ে।

 

ধ্যান বা প্রার্থনা করুন

দীর্ঘ কর্মহীন সময়ে মনোযোগ ধরে রাখা খুবই কঠিন। সে জন্য করতে পারেন ধ্যান বা মেডিটেশন। মনোযোগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এতে একঘেয়েমি ও একাকিত্বের ক্ষতিকর প্রভাবও কমে। প্রার্থনায়ও একই ধরনের উপকার পাওয়া যায়। এ সময় তাতেও নিয়মিত হতে পারেন। ওদিকে মানসিক উপকারের পাশাপাশি মেডিটেশনে শারীরিক নানা উপকার পাওয়া যায়। বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমায়। বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

 

অন্যের উপকারে আসুন

ঘরে বসেও মানুষের উপকার করা যায়। হোক সেটা খুবই ছোট কিছু। নিয়মিত তেমন কিছু করার চেষ্টা করুন। এতে নিজের কাছেই নিজের প্রয়োজনীয়তার বোধ তৈরি হয়। মনে হবে ঘরে বসেও আপনি কোনো না কোনো কাজে লাগছেন।

হয়তো আপনার কোনো বয়স্ক প্রতিবেশী আছেন। এ সময় তার পক্ষে নিত্যব্যবহার্য পণ্য কিনতে যাওয়া তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। নিজের সঙ্গে তার বাজার করে দিতে পারেন। কিংবা সেবামূলক কাজ করতে পারেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে।

 

বই পড়ুন, চলচ্চিত্র দেখুন

একাকিত্ব কাটাতে বই সবচেয়ে বড় বন্ধু। আশ্রয় নিন এ বন্ধুর। দেখতে পারেন পৃথিবীর নানা প্রান্তের চলচ্চিত্রও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা