kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রূপচর্চা

সংবেদনশীল ত্বকের যত্ন

অনেকের ত্বক একটু বেশিই সংবেদনশীল। প্রয়োজন বিশেষ যত্ন। বিস্তারিত জানিয়েছেন শোভন মেকওভার স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংবেদনশীল ত্বকের যত্ন

সংবেদনশীল ত্বকের রূপচর্চা একটু বেশিই কঠিন। এটি সাধারণত দুই ধরনের হয়—শুষ্ক সংবেদনশীলতা (ড্রাই সেনসিটিভিটি) ও তৈলাক্ত সংবেদনশীলতা (অয়েলি সেনসিটিভিটি)। অনেকের ত্বকে দুই ধরনের সংবেদনশীলতা দেখা যায়। তবে সে ক্ষেত্রেও টের পাওয়া যায় ত্বকে কখন কোন প্রবণতা দেখাচ্ছে। এই দুই ধরনের সংবেদনশীলতার জন্য চাই ভিন্ন রকমের যত্ন-আত্তি।

তৈলাক্ত সংবেদনশীল ত্বকে তেলতেলে ভাবের পাশাপাশি আরো কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এটি থেকে দেখা দেয় ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস। অনেক সময় ব্ল্যাকহেডস থেকে গজায় অযাচিত লোম। আর তেলতেলে ভাবের কারণে র্যাশ, তা থেকে পিম্পল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এসব সমস্যা থেকে দূরে থাকতে নিয়মিত মুখ পরিষ্কার (ক্লিনজিং) করতে হবে। সে জন্য ব্যবহার করতে হবে কোমল ফেসওয়াশ। কেনার সময় খেয়াল রাখবেন ফেসওয়াশের উপকরণের মধ্যে নিম, তুলসী, হলুদ ও চন্দন আছে কি না। এগুলো তেলতেলে ত্বকের জন্য বিশেষ উপকারী।

ক্লিনজিংয়ের পর অবশ্যই টোনিং করতে হবে। সে জন্য ব্যবহার করতে পারেন গোলাপজল। খেয়াল রাখবেন সেটা যেন একেবারে বিশুদ্ধ হয়। কিংবা ব্যবহার করতে পারেন শসার রস। এটি বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। প্রয়োজনমতো বের করবেন। রসে তুলা চুবিয়ে সেটা দিয়ে মুখে স্ক্রাবের মতো ঘষবেন।

সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালোভেরাযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। তবে কেনার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেটি অয়েল ফ্রি কি না। সান প্রটেকশনও হতে হবে অয়েল ফ্রি। তৈলাক্ত সংবেদনশীল ত্বকে অয়েলযুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা সান প্রটেকশন ব্যবহার করলে র্যাশ ওঠার আশঙ্কা থাকে।

ঘরোয়া প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। সে জন্য মুলতানি মাটি, তুলসীপাতা, নিমপাতা ও চন্দন বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে মাখতে পারেন। রাতে ব্যবহার করলে সঙ্গে কাঁচা হলুদ বাটাও মেশাতে পারেন। তবে দিনেরবেলা অবশ্যই হলুদ ব্যবহার করা যাবে না।

স্ক্রাবিংয়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে কোমল স্ক্রাবার। সে জন্য বাজারে বিশেষ ধরনের স্ক্রাবার পাওয়া যায়। চাইলে বাসায় নিজেও বানিয়ে নিতে পারেন। সে জন্য ওটস পানিতে ভিজিয়ে নরম করে নিতে হবে। সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পাকা কলা মিশিয়ে নেবেন।

শুষ্ক সংবেদনশীল ত্বকও নিয়মিত পরিষ্কার (ক্লিনজিং) করতে হবে। তবে এ ধরনের ত্বকে ফেসওয়াশ ব্যবহার করা একেবারেই উচিত হবে না। ব্যবহার করতে পারেন ক্লিনজার বা ক্লিনজিং মিল্ক। ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করতে চাইলে পাতলা দুধ দিয়ে মুখ ধুতে পারেন। ধোয়ার পরে টোনিং করতে পারেন গোলাপজল দিয়ে। এ ধরনের ত্বকে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজার বা সান প্রটেকশন ব্যবহারের দরকার নেই। তবে খেয়াল রাখবেন সেগুলোর উপাদানের মধ্যে যেন অ্যালোভেরা থাকে।

মুলতানি মাটি, তুলসীপাতা, নিমপাতা ও চন্দন বাটার সঙ্গে টক দই মিশিয়ে শুষ্ক সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহারের জন্য ঘরোয়া প্যাক বানাতে পারেন। যদি রাতে ব্যবহার করেন, তাহলে সঙ্গে কাঁচা হলুদ বাটা মেশাতে পারেন। আর স্ক্রাবিংয়ের জন্য ওটসের সঙ্গে পাকা কলা নয়, মেশাতে হবে টক দই।

এ ছাড়া আরো একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে। সংবেদনশীল ত্বকে অ্যালোভেরাযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তাই বলে এ ধরনের ত্বকে কখনোই কাঁচা অ্যালোভেরা ব্যবহার করা যাবে না। তাতে যে ধরনের সংবেদনশীলতাই থাকুক। এতে বরং ফলবে উল্টো ফল। বাড়বে র্যাশের আশঙ্কা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা