kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

আপনার শিশু

শিশুর জন্য তরল দুধ

মায়ের দুধ ছাড়ার পরও শিশুদের নিয়মিত তরল দুধ খাওয়ানো উচিত। বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ এ বি সিদ্দিক। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুর জন্য তরল দুধ

দুধকে বলা হয় ‘সুষম খাবার’। কারণ এতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। তাই নিয়মিত দুধ খাওয়া খুবই উপকারী। শিশুদের জন্য প্রথম খাবারই হলো মায়ের বুকের দুধ এবং প্রথম এক বছর শিশুদের শুধু মায়ের দুধই খাওয়ানো উচিত; অন্য কোনো দুধ নয়। এক বছর পর থেকে শিশুদের অন্যান্য তরল দুধ খাওয়ানো শুরু করতে হবে। শিশুদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বেঁধে দেওয়া পরিমাণ হলো দৈনিক ৩৫০ মিলিলিটার। বড়দের জন্যও এই মাত্রা মেনে চলা ভালো।

সাধারণত সকালেই শিশুদের দুধ খাওয়ানো হয়। অনেক পরিবারে আবার শিশুদের দুধ খাওয়ানো হয় সন্ধ্যাবেলায়। আসলে এ ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সুবিধামতো দিনের যেকোনো সময়ই খাওয়ানো যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখা দরকার যেন একেবারে খালি পেটে না খাওয়া হয়। পাশাপাশি খেয়াল রাখা দরকার শিশু ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট’ কি না। এটা জেনেটিক্যাল সমস্যা বলে ছোটবেলা থেকেই দেখা দেয়। ল্যাকটোজ হলো দুধে থাকা এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। এ সমস্যায় শরীরে ল্যাকটোজ ভাঙার এনজাইমের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে শিশু দুধ ঠিকমতো হজম করতে পারে না। ডায়রিয়া, পেট মোচড়ানো, গ্যাসের সমস্যা থেকে শুরু করে দেখা দিতে পারে খাদ্যনালি সম্পর্কিত নানা জটিলতা। শিশুর এ সমস্যা থাকলে তাকে তরল দুধ না খাওয়ানোই ভালো। বদলে দই খাওয়ানো যেতে পারে। অনেকের দুধে অ্যালার্জি থাকে। দুধ খেলে র্যাশ ওঠা, ঠোঁট ফুলে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সেসব শিশুর ক্ষেত্রেও দুধ এড়িয়ে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়।

তরল দুধ মূলত দুই ধরনের—গরু-ছাগল থেকে সংগ্রহ করে সরাসরি সরবরাহ করা দুধ ও পাস্তুরিত তরল দুধ। আমাদের দেশে ছাগলের দুধ খাওয়ার চল খুবই কম। সবাই মূলত গরুর দুধই খায়। এই দুধে দুই ধরনের প্রোটিন থাকে—হুয়ে ও কেজিন। হুয়ে প্রোটিন সহজেই হজম হয়। তবে সব রকম গরুর দুধের কেজিন প্রোটিন সহজে হজম হয় না। এই প্রোটিনের ভিত্তিতে গরুর দুধ দুই রকমের হয়—এ-ওয়ান টাইপ, এ-টু টাইপ।

গ্রামে বিভিন্ন দেশি জাতের গরু পালন করা হয়। এগুলোর দুধ হয় এ-টু টাইপের। এগুলোর কেজিন প্রোটিন সহজেই হজম হয়। ফলে সরাসরি খেতে কোনো সমস্যা নেই। ফার্মে যেসব গরু পালন করা হয়, সেগুলোর দুধ হয় এ-ওয়ান টাইপের। এগুলোর কেজিন প্রোটিন সহজে হজম হয় না। ফলে সরাসরি খেলে দেখা দিতে পারে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অ্যালার্জি থেকে শুরু করে ইনফেকশন, হজমের গোলমাল, এমনকি নিউরোলজিক্যাল সমস্যাও দেখা দিতে পারে; এমনকি এই দুধ খাওয়ার কারণে পরবর্তী সময়ে টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসও (জুভেনাইল বা ইনসুলিন-ডিপেনডেন্ট ডায়াবেটিস) হতে পারে।

পাস্তুরিত তরল দুধে এ সমস্যা থাকে না। কারণ এই দুধ অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পাস্তুরিত করা হয়। সে প্রক্রিয়ার কারণে শুধু এ সমস্যা নয়, আরো বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায়। এতে দুধে থাকা সব অযাচিত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু মরে যায়। দুধ সংরক্ষণ করা এক বড় সমস্যার নাম। সংরক্ষিত দুধ ব্যাকটেরিয়ার জন্ম ও বিস্তার হয়। ফলে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। পাস্তুরিত করার সেটাও অন্যতম কারণ। তবে এই প্রক্রিয়ার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এতে দুধ কিছু পুষ্টিগুণ হারায়। নষ্ট হয় কিছু প্রাকৃতিক এনজাইম, যেগুলো হজমে সহায়তা করে। তা ছাড়া দুধে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়াও বাসা বাঁধে। খারাপ ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার প্রক্রিয়ায় সেগুলোও মারা পড়ে। সে কারণে বহির্বিশ্বে নতুন আরেক ধরনের তরল দুধের চল শুরু হয়েছে—ঘাস খাওয়ানো গরুর দুধ।

আগে ফার্মে গরু পালনের ক্ষেত্রে খুব বেশি স্বাস্থ্যবিধি মানা হতো না। আমাদের দেশে এখনো সেভাবে হয় না। যে কারণে দুধ পাস্তুরিত করার প্রয়োজন হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা