kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

বহু রূপে শাড়ি

চিরচেনা শাড়িতেই এখন দেখা যাচ্ছে নানা রূপ। কাট আর ডিজাইনের বৈচিত্র্যে দিন দিন আলাদা মাত্রা পাচ্ছে বাঙালি নারীর প্রিয় পোশাক। কুঁচি ও পকেটযুক্ত এসব শাড়ির নানা রূপের বর্ণনা দিলেন বিশ্বরঙের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বহু রূপে শাড়ি

মডেল : কর্ণিয়া; শাড়ি : বিশ্বরঙ; সাজ:পারসোনা; ছবি : কাকলী প্রধান

রেডিমেড শাড়ির শুরুটা হয় ছোট মেয়েদের জন্য। তাদের শাড়ি পরার ইচ্ছে থাকে খুব বেশি। কিন্তু নিজে পরতে পারে না। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে দিতেই রেডিমেড শাড়ি নিয়ে আসেন ডিজাইনাররা। আবার এমন অনেক মা আছেন, যাঁরা শাড়ি পরতে পারেন না। শাড়ি পরাটা অনেকের কাছেই ঝামেলার এক কাজ যেন। কিন্তু বাঙালির নিজস্ব এই ঐতিহ্য ঝামেলা হবে কেন? সেই কারণ, ব্যস্ত সময় সব মিলিয়ে শাড়িতে যুক্ত হচ্ছে নানা ফিউশন। বাড়তি মাত্রা দিচ্ছে শাড়ির রূপে। সাধারণ শাড়িতেও ভিন্ন রূপ শাড়ির আবেদন করে তোলে বিশেষ। সে চিন্তা থেকেই এখন নানা রূপের শাড়ি আনছে ফ্যাশন হাউসগুলো। দেখতে ট্রেন্ডি হওয়ায় এগুলো পছন্দও করছেন টিন এজ থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী।

একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ফ্রন্ট ডেস্কে কাজ করেন ফারিহা নুসরাত। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ততার কারণে সব সময় শাড়ি পরতে পারি না। কিন্তু বিভিন্ন উপলক্ষের দিনগুলোতে শাড়ি পরতে ভীষণ ইচ্ছে হয়। শাড়ি কুঁচি করে পরতেও নানা কসরত করা লাগে। কিন্তু রেডিমেড কুঁচি থাকা শাড়ি পরায় সে ঝামেলা নেই। এখন সপ্তাহে অন্তত দুদিন বাহারি কুঁচি দেওয়া রেডিমেড শাড়ি পরি। এসব শাড়ির সঙ্গে নানা ঢঙের ব্লাউজ থাকায় দেখতেও বেশ ফ্যাশনেবল।’ ডিজাইনারও অনুষ্ঠানের ধরনভেদে বিভিন্ন ডিজাইনের কুঁচিওয়ালা শাড়ি এনেছেন। এগুলো এমনভাবে তৈরি যে খুব সহজেই নিজে নিজে পরা যায়। হঠাত্ কোনো পার্টিতে ঝটপট পরে নেওয়া যায়। এতে শাড়ি পরার আবদার যেমন মেটে তেমনি লুকেও গর্জিয়াস ভাব এনে দেয়।

সিল্ক এবং সুতি দুই ম্যাটেরিয়ালেই এসব শাড়ি তৈরি হচ্ছে। কেউ পার্টিতে চাইলে সিল্কের শাড়ি পরতে পারেন। আর ক্যাজুয়াল মুডের জন্য সুতি শাড়ি পরতে পারবেন। প্রিন্টের শাড়িগুলোতে সলিড কালার কন্টাস্ট করা হয়েছে। একই কালার টোনের দুই রকম প্রিন্ট ব্যবহারও হয়েছে রেডিমেড শাড়িতে।

সিল্কের শাড়িকে টিস্যু কাপড়ের সঙ্গে খাদির মিশেল ঘটানো হয়েছে। পার্টি মুড আনতে বর্ণিল লেসও যুক্ত করা হয়েছে এসব শাড়িতে। বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে কুঁচি দেওয়া শাড়িতে। এসব শাড়ির আবেদন বাড়াতে ব্লাউজটাকে করা হচ্ছে বাহারি। ঢিলেঢালা কুর্তি কাট ব্লাউজ স্বাচ্ছন্দ্যে পরছেন নারীরা। ম্যাটেরিয়াল এবং প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে এসব ব্লাউজের দৈর্ঘ্যও খানিকটা বাড়িয়ে দিচ্ছেন ডিজাইনাররা।

ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেল এসব শাড়ি প্লিট করে কুঁচি দিয়ে রাখা। নিচের অংশ প্লাজো ধরনের। ওপরের অংশ শাড়ির মতো প্লিট করে দেওয়া। প্লাজোর প্যাটার্নটা বড় হওয়ায় পরলে মনে হবে নিচের দিকে সুন্দর করে কুঁচি দেওয়া। তখন আঁচলটাও শাড়ির মতো শরীরের সঙ্গে জুড়ে যায়। সাধারণ শাড়ির মুডও এতে বাহারি ঢঙে উপস্থাপন করা হয়েছে। কয়েকভাবেই এমন শাড়ি হয়। নিচের দিকটা প্লাজোর পাশাপাশি অনেকটা স্কার্টের মতো করেও করা যায়। দেখতে লাগে লেহেঙ্গার মতো। তাই লুকেও আসে বদল। আবার কুঁচিটাও রেডিমেড করে স্কার্টের মতো করে করা থাকে। আবার কেউ যদি নিজেদের পছন্দমতো অর্ডার করেন, তবে সেভাবেই রেডিমেড শাড়ি বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে ফ্যাশন হাউসগুলোতে।

মেয়েদের বাড়তি সুবিধার কথা চিন্তা করে এসব শাড়িতে পকেটযুক্ত করা হয়েছে। এখন অনেক নারীকেই প্রতিদিনই ঘর থেকে বের হতে হয়। তার দরকারি নানা জিনিস থাকে। তাদের খানিকটা স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার জন্যই শাড়িতে বাড়তি পকেট করে দেওয়া। এটা ফিউশনেরই অংশ। একটা পোশাকে প্যান্ট, স্কার্ট, শাড়ির মিশেলে নতুনত্ব আনা। আবার যেটা পরতে ফ্যাশনেবলও লাগবে। শাড়ির সঙ্গে একজন নারী পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়ালে সেটা ভিন্ন লুক আনবে বলে মত ডিজাইনারদের। এটাকে ফিউশন শাড়ি বলেই অভিহিত করছেন তাঁরা।

রেডিমেড শাড়ির মধ্যে রয়েছে পেয়ার আপ শাড়িও। এগুলোকে যুগলবন্দি শাড়িও বলা হয়। নিচের অংশের সঙ্গে ওপরের অংশের মিল থাকায়ই এমন নাম। এক অংশ ছাড়া অন্য অংশ পরলে মানাবে না। ম্যাচ করে পরতে হয় বলে যুগলবন্দি শাড়ি নাম। মিক্স-ম্যাচ করে বানানো হয়েছে। ব্লাউজের সঙ্গে শাদির মিল রেখেও করা হচ্ছে পোয়ার আপ।

লেস, স্টোন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাড়তি নজর থাকছে প্যাটার্ন আর ম্যাটেরিয়ালে।

 

শাড়িতে কুঁচি, প্যান্টে রেডিমেড শাড়ি, হাফ-হাফ শাড়ি, পাড়ে নেট বা লেইস জুড়ে দেওয়া কিংবা ব্লাউজের সঙ্গে মিলিয়ে পেয়ার আপ শাড়ি-শাড়ি বহুরূপে হচ্ছে অপরূপ।


মডেল : রিবা, জলি ও সিমি শাড়ি : অদ্রিয়ানা এক্সক্লুসিভ সাজ:লারিসা ফাজলে ছবি : কৌশিক ইকবাল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা