kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আপনার শিশু

ও নিজেই করুক প্ল্যান

নতুন বছর, নতুন ক্লাস। এখন সবকিছুতেই শিশুর মধ্যে অন্য রকম উচ্ছ্বাস। এ সময় সারা বছরের প্ল্যানটাও করতে দিন ওকে। গাইড হিসেবে পাশে বসে যান আপনিও। ওর মধ্যে আরো বেশি উদ্যম কাজ করবে। পরামর্শ দিয়েছেন সানশাইন চাইল্ড ডে-কেয়ার সেন্টারের চাইল্ড এক্সপার্ট ফারহানা আহমেদ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ও নিজেই করুক প্ল্যান

স্কুলের বার্ষিক একটা রুটিন তো থাকেই। তাতে সপ্তাহের কোন দিনে কী ক্লাস, কবে কোন পরীক্ষা, কোন দিনগুলোতে স্কুলের ছুটি, ক্লাস পার্টি, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নানা কিছু উল্লেখ থাকে। এই রুটিনের সঙ্গে মিলিয়ে সন্তানকে আরেকটি রুটিন বানাতে বলুন। শিশু যে ক্লাসেই পড়ুক কিংবা বয়স যা-ই হোক। একান্তই ওর ইচ্ছামতো। শুরুটা করতে বলুন ওর সকাল দিয়েই। ঘুম থেকে ওঠা, দাঁত ব্রাশ, গোসল, সকালের নাশতা, স্কুলের ব্যাগ গোছানো ইত্যাদি থেকে শুরু করে সারা দিনের একটা পরিকল্পনা। স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম, বিকেলের খেলাধুলা, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ যেমন-নাচ, গান, অভিনয়, ছবি আঁকা, হোম টিউটরের কাছে পড়াশোনা, রাতের খাবার খাওয়া, টেলিভিশন দেখা, ঘুম—এগুলোও তাকে তার মতো বেছে নিতে বলুন। এভাবে পুরো বছরেরই একটা রুটিন বানাতে সন্তানকে উত্সাহ দিন। বিশেষ করে স্কুলের ছুটির দিনগুলোতে কী করতে চায়, কোথায় ঘুরতে যেতে চায় সেটাও লিখে রাখতে বলুন। এতে করে নির্দিষ্ট সেই দিনটির জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকবে সে। এর আগে তাকে ছোট ছোট কিছু কাজ দিন, যেমন—নিয়মিত বাড়ির কাজ করা, প্রতিদিন পড়ার টেবিল এবং বই-খাতা গুছিয়ে রাখা। নিজের রুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি। যেগুলো ঠিকভাবে করতে পারলেই তাকে ছুটির দিনের প্ল্যানটি করতে দেওয়া হবে। এমন শর্ত বেঁধে দিন। শর্ত পূরণে প্রাথমিক অগ্রগতি দেখালে ওকে কিছু একটা উপহার দিন। এতে শিশুর মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার মতো গুণের বিকাশ ঘটবে। যেটা তার ভবিষ্যত্ জীবনে উপকার দেবে। আপনার সন্তানের লক্ষ্য নিয়ে অন্যদের সঙ্গেও ডিনারে, গাড়িতে আলোচনা করুন। এতে সবাই তার লক্ষ্য সম্পর্কে আগে থেকেই জানতে পারবে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুত থাকবে।

সন্তানের জন্মদিনকে বিশেষ গুরুত্ব দিন। এদিনটিতে সে কী করতে চায় তার পরিকল্পনা ডায়েরিতে লিখে রাখতে বলুন। তার বন্ধুদের নিয়ে এদিন বাসায় কেক কাটার একটি পর্ব রাখতে বলুন। অথবা সে চাইলে কোথাও ঘুরতেও যেতে পারে। নির্দিষ্ট সেই দিনে তার পরিকল্পনা পূরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করুন। শিশু যেন বুঝতে পারে সে মা-বাবা ও আত্মীয়-পরিজনদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ একজন। এতে তার মধ্যে নিজের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে। নিজেকে ভালোবাসতে শিখবে। অন্যদের প্রতিও সে দায়িত্বশীল আচরণ করা শিখবে।

পরীক্ষার আগের দিনগুলোতে অন্য সময়ের চেয়ে খানিকটা বেশি পড়াশোনা করা উচিত। এতে বেশি বেশি শিখতে পারবে। পরীক্ষায় ভালো করতে পারবে। সে জন্য পরীক্ষার আগের সময়গুলোতে তার রুটিনটা যেন অন্য সময়ের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন হয় সেটাও বুঝিয়ে বলুন। বার্ষিক ক্যালেন্ডারের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো [যেমন—পরীক্ষা, ঈদ, ছুটিতে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি] রঙিন মার্কার দিয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে রাখতে বলুন। বছরের রুটিনটা যেমনই করুক না কেন, এ জন্য তাকে বাহবা দিন। তুমি দারুণ করেছ এজাতীয় কথা বলে পিঠ চাপড়ে দিন। কাছে ডেকে আদর করুন। শিশুর তৈরি বার্ষিক ক্যালেন্ডারের কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে নিজে থেকে বাছাই করুন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়েই আবার সেসব জায়গায় সংশোধন করে দিন। প্রথম থেকেই শিশুর বার্ষিক রুটিন ফলো করার জন্য কঠোর হবেন না। শিশুর সমস্যার সমাধানকারী হোন। ধীরে ধীরে তাকে তার রুটিনে অভ্যস্ত হতে আপনিও সাহায্য করুন। শিশুর বার্ষিক রুটিনের মাসিক পর্যবেক্ষণ করুন। ভালো করলে ওকে আরো বেশি উত্সাহ দিন। মাসিক লক্ষ্য পূরণের অর্জনটি সবাই মিলে উপভোগ করুন। সেদিনটিতে সবাই মিলে বাইরে খেতে যেতে পারেন অথবা বাসায় শিশুর প্রিয় ডিস রান্না করতে পারেন। কেন রুটিন মেনে চলা জরুরি সেটা শিশুকে বুঝিয়ে বলুন। দেখবেন নিজ থেকেই নিজের রুটিন মেনে চলতে আনন্দ পেতে শুরু করবে। তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় কথা, একবার যখন রুটিন মেনে চলার উপকারিতা বুঝতে শিখবে, তখন আর এ নিয়ে বারবার বলার দরকার হবে না। শিশুকে প্রতিযোগী নয়, বরং যেকোনো কিছুর সহযোগী হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করুন। সেটা যদি তারই হাতে করা রুটিন মেনে হয় তো মন্দ কী!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা