kalerkantho

শনিবার । ১৪ চৈত্র ১৪২৬। ২৮ মার্চ ২০২০। ২ শাবান ১৪৪১

আপনার শিশু

শিশুর শীত পোশাক

শীত থেকে বাঁচাতে শিশুকে আরামদায়ক ও উষ্ণ পোশাক পরাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে আরো কিছু বিষয়। জানালেন বারডেম হাসপাতালের শিশু বিভাগের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাহমিনা আহমেদ। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুর শীত পোশাক

শীতে শিশুদের সর্দি, কাশি, ঠাণ্ডা বা কমন কোল্ড, গলা ব্যথার মতো সাধারণ কিছু রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। এ ছাড়া অনেক শিশু নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এডিনয়েডের মতো অসুখের কবলে পড়ে। এসব অসুখের বেশির ভাগ সাধারণত ঠাণ্ডাজনিত রোগ। মূলত শীত থেকে শিশুকে সুরক্ষা দিতে না পারার কারণেই এসব অসুখবিসুখ বেশি হয়ে থাকে। এ জন্য শিশুর শীতের পোশাক খুব জরুরি একটি জিনিস। শীতকালে শিশুকে যেন ঠাণ্ডার কবলে পড়তে না হয় এ জন্য তাদের পোশাকের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর পোশাকের ক্ষেত্রে প্রথমে শীতের ধরনের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অর্থাত্ যেমন শীত তেমন পোশাক। হালকা শীতে বেশি গরম কাপড় পরানো যেমন চলবে না, তেমনি ভারী শীতে আবার হালকা কাপড় পরানো যাবে না। এতে হিতে বিপরীতও হতে পারে। বেশি গরমে শরীর ঘেমে কাপড়ের নিচেই তা শুকিয়ে যেতে পারে। এতে শিশু ঠাণ্ডাজাতীয় অসুখবিসুখে ভুগতে পারে।

স্কুলে যাওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় সতর্ক হওয়া উচিত। সকালে শীতের প্রভাব অন্য সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। এ সময় স্কুল ড্রেসের বাইরেও অতিরিক্ত আরেকটি পোশাক শিশুকে পরিয়ে দিন। কান, মাথার জন্য আলাদা টুপি, মাফলার পরিয়ে দিতে পারেন। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি নজরদারি রাখতে হবে। রাতের বেলায় তারা যেন পর্যাপ্ত উষ্ণতা পায় সেটি নিশ্চিত করুন। শিশুদের পায়ে রাতে মোজা এবং দিনের বেলায় নরম কাপড়ের জুতা পরিয়ে দিন। এতে পা শীত থেকে রক্ষা পাবে।

শিশু অনেক সময় শীতের পোশাক পরে থাকতে অনীহা দেখাতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের শীত পোশাকের ভালোমন্দ বুঝিয়ে পোশাক পরিয়ে দিতে হবে। শিশুর বয়স যদি বেশি হয়, তবে তার পছন্দ অনুযায়ী শীতের পোশাক কিনে দিন। তাহলে সে নিজ থেকেই পোশাকটি পরতে আগ্রহী হবে। শপিং মলগুলোতে বাচ্চাদের প্রিয় কার্টুন, সিনেমার কাল্পনিক চরিত্র, ফুল, পাখি, প্রাণীর ছবি থাকা বিভিন্ন ডিজাইনের শীত পোশাক পাওয়া যায়। এগুলো কিনে দিতে পারেন। দেখবেন পোশাকটি নিজ থেকেই পরে খেলতে বেরিয়ে যাবে।

সুন্দরের সঙ্গে সঙ্গে শিশুর শীতের পোশাকের আরামদায়কতার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের শীতের পোশাক নরম আর পাতলা হওয়া ভালো। কারণ খসখসে অথবা শক্ত কাপড়ে তাদের সংবেদনশীল ত্বকে ক্ষতি হতে পারে। শীতের পোশাক সুতি হলে তারা পরে আরাম পাবে। এ ছাড়া সিল্ক বা ফ্লানেলের শীত পোশাক বেছে নিতে পারেন। গরম উলের ভারী শীতের পোশাকের নিচে সুতি কাপড়ের পাতলা আরেকটি গেঞ্জি-জাতীয় পোশাক পরিয়ে দিতে পারেন।

শুধু সুন্দর সুন্দর শীত পোশাক পরালেই হবে না। শীত পোশাকের পরিচ্ছন্নতাও নিশ্চিত করতে হবে। শীতের সময় এমনিতেই বাতাসে ধুলাবালি ও ময়লার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। এ সময় এসব ময়লা শীতের কাপড় অপরিচ্ছন্ন করে বেশি। অপরিষ্কার ময়লা থেকে শিশুর শরীরে চুলকানি, খোসপাঁচড়াসহ নানা রকম ত্বকের অসুখ হতে পারে। শীতের পোশাক এক সপ্তাহ পর পর সাবান পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। একই পোশাক টানা কয়েক দিন পরানো থেকেও বিরত থাকা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা