kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

আগুন ছাড়াই চুলা

এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন বৈদ্যুতিক ইন্ডাকশন চুলা। বাজার ঘুরে এই চুলার বিস্তারিত জানিয়েছেন নাবীল আল জাহান

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগুন ছাড়াই চুলা

দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে বৈদ্যুতিক বা ইন্ডাকশন চুলা। নিরাপত্তার কথা ভেবেও অনেকেই ঝুঁকছেন এই চুলার প্রতি।

বেশ কয়েক বছর ধরে ইন্ডাকশন চুলা বিক্রি করছেন চন্দ্রিমা সুপারমার্কেটের আলিফ এন্টারপ্রাইজ দোকানের স্বত্বাধিকারী আবুবকর সিদ্দিক উজ্জ্বল। তিনি জানালেন, এই চুলায় রান্না হয় আগুন ছাড়াই। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কোনো আশঙ্কা নেই। আগে রান্নার জন্য যে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করা হতো, তাতে বিদ্যুেক সরাসরি তাপশক্তিতে পরিণত করা হতো; কিন্তু ইন্ডাকশন চুলায় বিদ্যুত্ দিয়ে ডাইনামিক ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি করা হয়। এই ফিল্ডের মাধ্যমে রান্নার পাত্রে তাপ প্রবাহিত হয়। ফলে ইন্ডাকশন চুলা খুব একটা গরম হয় না। তাই ভুলবশত চুলায় কারো হাত লাগলেও পুড়ে যাওয়ার বা বৈদ্যুতিক শক খাওয়ার ভয় নেই।

এ ছাড়া এই চুলা ব্যবহারের বেশ কিছু সবিধা আছে—

♦     রান্না করতে বিদ্যুত্ খরচ অনেক কম হয়।

♦     যেকোনো প্রয়োজনে সহজেই বহন করা যায়।

♦     গ্যাসের চুলার মতোই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

♦     রান্না করলে কালো ধোঁয়া বের হয় না।

♦     রান্নার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া যায়। সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুলা বন্ধ হয়ে যায়।

এখন নতুন যেসব ইন্ডাকশন চুলা বের হয়েছে, তাতে রয়েছে আরো নানা সুবিধা। রান্না, ভাজা, চা করা, দুধ, পানি গরম করা, খাবার গরম করা—এসবের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা মোড বা অপশন।

অবশ্য এই চুলার বড় সীমাবদ্ধতা হলো, এতে যেকোনো পাত্রে রান্না করা যায় না। সে জন্য বিশেষ পাত্র কিনতে পাওয়া যায়। সেগুলো স্টেইনলেস স্টিল দিয়ে বানানো। নিচের অংশটা হয় সমতল। অবশ্য এ ধরনের অন্যান্য পাত্র দিয়েও কাজ চালিয়ে নেওয়া যায়। ইদানীং আরেক ধরনের বৈদ্যুতিক চুলা পাওয়া যাচ্ছে—ইনফ্রারেড চুলা। এগুলো দিয়ে যেকোনো পাত্রেই রান্না করা যায়। তবে সেগুলো রান্নার সময় বেশ গরম হয়। তাই সেগুলো ব্যবহারে থাকতে হয় সতর্ক, বিশেষ করে বাসায় শিশু থাকলে এই চুলা এড়িয়ে যাওয়াই নিরাপদ।

বাজারে এখন বিভিন্ন কম্পানির ইন্ডাকশন চুলা পাওয়া যায়—ওয়ালটন, ভিশন, সিঙ্গার, মিয়াকো, কোনিয়ন, ওশান, পালসোন, জেব্রা, কনকা, নোভা, মেগা ইত্যাদি। মান ও ধরনের ওপর দাম নির্ভর করে। সাধারণত দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। রান্নার পাত্রের দাম আকারভেদে পড়ে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা।

ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব জেলার বড় বড় বাজারে এই চুলা কিনতে পাওয়া যায়। বিক্রি হয় বিভিন্ন সুপারশপ থেকে শুরু করে নিত্যদিনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদির দোকানে। ঢাকায় বিভিন্ন সুপারশপ ছাড়াও পাওয়া যায় নিউ সুপারমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, মিরপুর-১, ১০সহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বাজারেই। নষ্ট হলে এসব দোকান থেকেই মেরামত করিয়ে নেওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা