kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কাজের মানুষ

কাজ বাড়ে বেতন বাড়ে না

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



কাজ বাড়ে বেতন বাড়ে না

দিন দিন কাজের দায়িত্ব বেড়েই চলছে। তবু কাজে কোনো ঘাটতি রাখছেন না। এদিকে বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে; অথচ বেতন বাড়ার কোনো খবর নেই। সমস্যাটি আসলে কোথায় হচ্ছে?

 

যে কারণে এ সমস্যা হয়

মূলত ব্যক্তির দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ নীতি সম্পর্কে দুই পক্ষের ভুল-বোঝাবুঝি থেকেই এ সমস্যার উত্পত্তি হয়ে থাকে। কর্মী ও প্রতিষ্ঠান (মূলত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগ) দুটি ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান থেকে বিষয়টি দেখে। হয়তো প্রতিষ্ঠান কোনো কর্মীকে মনে করছে সে এখনো পদোন্নতির যোগ্য নয়। ওদিকে কর্মী ভাবছেন ‘আমার চেয়ে দক্ষ কে আছে!’ আসলে দক্ষতার সংজ্ঞা একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম। ওই কর্মী হয়তো জানেনই না প্রতিষ্ঠানের ‘দক্ষতা মূল্যায়ন পদ্ধতি’ কী কিংবা ‘দক্ষতা নিরূপণ চাবিকাঠি’ বা ‘কেপিআই’-এ কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জানেন না ‘এসিআর’ বা ‘বার্ষিক গোপন প্রতিবেদন’ অনুসারে কী কী বিষয়ে কর্মীকে সতর্ক থাকতে হবে, দক্ষতা বাড়ার ধাপগুলো কিভাবে সাজানো হয়েছে, দক্ষতা বাড়লে কর্মী কী কী সুবিধা পাবেন, প্রতিষ্ঠানের পদোন্নতির নীতিমালা কী ইত্যাদি। অনেক সময় প্রতিষ্ঠান এসব বিষয়ে কর্মীকে অবহিত করে না। ফলে কর্মীর মনে এক ধরনের মনগড়া স্বপ্ন বাসা বাঁধতে থাকে। যার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনার হয়তো কোনো সম্পর্কই নেই। অথচ কর্মীর মানসিক অবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তরিকভাবে বুঝিয়ে বললে কিংবা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিলে হয়তো উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট থাকতে পারত।

 

যাঁরা মুখোমুখি হয়েছেন

কর্মজীবনে অনেকেই এমন সমস্যার মুখোমুখি হন। অনেকেই মনে করেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাঁকে পছন্দ করেন না। কিংবা তাঁর চেয়ে অন্য কাউকে বেশি পছন্দ করেন। আর সে কারণেই তাঁর ওপর বাড়তি কাজের দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে। যেন বাড়তি কাজটা তাঁকে শাস্তিস্বরূপ দেওয়া হচ্ছে। কিংবা সে কারণেই তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেরই মনে হতে পারে তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। মনে হতে পারে, তাঁর সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। কিংবা তাঁর চেয়ে কম যোগ্য কাউকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। রাজনীতি সব প্রতিষ্ঠানেই কমবেশি বিদ্যমান। আপনি হয়তো আসলেই তেমন কিছুর শিকার। তার পরও এসব পরিস্থিতিতে হুট করেই তেমনটা ভাববেন না। আগে নিজেকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করুন, একদম নিরপেক্ষভাবে। তার ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—

কেন দায়িত্ব বাড়ছে?

দায়িত্ব বাড়লে আপনার কী কী লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে?

কে আপনার দায়িত্ব বাড়ায়?

কেন আপনার দায়িত্ব বাড়াচ্ছে?

আপনার দায়িত্ব বাড়ায় প্রতিষ্ঠানের লাভ বা ক্ষতি কী?

দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার বেতন বাড়ছে না কেন?

কী কী কারণে বেতন বাড়ে?

বেতন বাড়ানো বা না বাড়ানো কার ওপর নির্ভরশীল?

আছে এমন হাজারো প্রশ্ন। আপনার পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন সব প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ। সব সম্ভাব্য উত্তরই আপনার জানা দরকার।

 

সাধারণত যা হয়

সাধারণত একটি কাজ যিনি ভালো পারেন তাঁকেই সে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কে কোন কাজ ভালো পারেন সেটি আবিষ্কার করা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি পরীক্ষাসাপেক্ষ ব্যাপার। বিশেষ করে ব্যবস্থাপনাবিষয়ক দক্ষতার ক্ষেত্রে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকেই তার নিজস্ব উপায়ে যাচাই করতে হয়। সাধারণত সাক্ষাত্কার গ্রহণ করে কর্মী নির্বাচনের পর তার দক্ষতার মাত্রা নির্ধারণ করা হয় কর্মরত অবস্থায়। কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে একজন অদক্ষ কর্মীও দক্ষ হয়ে ওঠেন। একসময় পুরো বিভাগের প্রধান হয়ে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতেও প্রস্তুত হয়ে যান। এটা প্রচলিত পদ্ধতি। এই পুরোটা সময়ে যেমন প্রতিষ্ঠানকে অপেক্ষা করতে হয়, তেমনি কর্মীকেও ধৈর্য ধারণ করতে হয়। মনে রাখা জরুরি, একজন কর্মী যেমন ভালো বেতনের পাশাপাশি তাঁর পেশাগত উন্নতি চান, প্রতিষ্ঠানও তেমনি চায় অনুগত ও দক্ষ কর্মী ধরে রাখতে।

 

এমন পরিস্থিতিতে করণীয়

প্রথমত প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। এতে আখেরে প্রতিষ্ঠানেরই মঙ্গল। খেয়াল রাখতে হবে, যাতে কর্মকর্তারা বঞ্চনার শিকার না হন। অবশ্য সে জন্য কর্মকর্তাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বাড়তি কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করা সামগ্রিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। এই বাড়তি কাজকে বোঝা মনে করার কোনো কারণ নেই। বরং এটাকেও তাঁর দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

 

তার পরও যদি...

সব চেষ্টার পরও যদি ফল না পান, মনে হয় আপনি চক্রান্তের শিকার, অথবা দীর্ঘ সময় (যা সাধারণত তিন বছরের বেশি হওয়া উচিত নয়) ধরে ইতিবাচক চেষ্টা চালানোর পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হয়, অর্থাত্ সমস্যার কোনো সমাধান না হয়, তাহলে আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মানে এবার চাকরিটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার সে সিদ্ধান্ত যথাযথ কর্তাব্যক্তিকে জানিয়ে দিন। মনে রাখবেন, অতি দীর্ঘ সময় একই পদে একই বেতনে চাকরি করে একই দায়িত্ব পালন করে যাওয়া আপনার ক্যারিয়ারের জন্য মঙ্গলজনক কিছু নয়। শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, এতে প্রতিষ্ঠানও অনেক সুফল থেকে বঞ্চিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা