kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

ইন্টেরিয়র

উষ্ণ থাকুক শোবার ঘর

শীতকালে শোবার ঘর উষ্ণ রাখতে অনেকেই রুম হিটার ব্যবহার করেন। কিছু বিষয় মেনে চললে সেটার অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। বিস্তারিত জানিয়েছেন স্টুডিও ট্রাইএঙ্গেলের আর্কিটেক্ট সাইফুল ইসলাম শিমুল। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উষ্ণ থাকুক শোবার ঘর

শীতকালে ভারী ভারী কাপড় পরতে হয় ঠাণ্ডার প্রকোপ এড়াতে। তাতে সব জায়গায় কাজ চললেও ব্যতিক্রম শোবার ঘর। এখানে এসে সবাই একটু আয়েশি ঢঙেই থাকতে চায়। কিন্তু ভারী ভারী কাপড় পরে তো আর আয়েশ করা চলে না! তাই অন্য ঘরের তুলনায় এটা উষ্ণ রাখা একটু বেশিই প্রয়োজন পরে। সে জন্য রুম হিটারের বিকল্প নেই। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার করতে পারে শরীরের ক্ষতি।

শোবার ঘরে রুম হিটারের ব্যবহার কমাতে ধরে রাখতে হবে প্রাকৃতিক উষ্ণতা। সে জন্য ঘর সাজাতে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন—

♦    আগে কার্পেটের খুব চল ছিল। এখন এর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেছে। শীতকালে শোবার ঘরের মেঝেতে মোটা কার্পেট ব্যবহার করুন। তাতে মেঝের ঠাণ্ডা ঘরকে শীতল করতে পারবে না। বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন মোটা শতরঞ্জি।

♦    শোবার ঘরের দেয়ালে ব্যবহার করুন ওয়ালম্যাট। তাতে দেয়ালের ঠাণ্ডা আটকাবে। পাশাপাশি দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাবও হতে দেবে না।

♦    দিনের বেলা যতটা সম্ভব ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন। বাতাস চলাচল করতে দিন। না হলে ঘরের ভেতরটা স্যাঁতসেঁতে হয়ে থাকলে ঠাণ্ডা আরো বেশি অনুভূত হয়। তখন পর্যাপ্ত আলো এলেও ঘর গরম করতে পারে না।

♦    শীতে শোবার ঘরের জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন। মোটা ফ্যাব্রিকসের পর্দা হলে আরো ভালো হয়। তাহলে সেগুলোও শীত ঠেকাতে সহায়তা করবে।

♦    লাল, হলুদ, কমলা, বেগুনি—এগুলোকে বলা হয় ওয়ার্ম কালার [উষ্ণ রং]। এগুলো মস্তিষ্কে উষ্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই শীতে শোবার ঘরের দেয়ালে এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

♦    এ সময় পর্দা, চাদর, বালিশ, সোফা ও কুশনের কভার ইত্যাদিতে উজ্জ্বল রঙের ফ্যাব্রিকস ব্যবহার করতে পারেন। তাতে সেগুলোও উষ্ণতার অনুভূতি জোগাবে।

♦    শোবার ঘরের হ্যাংগিং লাইট, টেবিল ল্যাম্প বা স্ট্যান্ড লাইট থাকলে সেগুলোতে ব্যবহার করতে পারেন হলুদ, কমলার মতো ওয়ার্ম টোনের বৈদ্যুতিক বাতি। স্পটলাইট থাকলে তাতে ব্যবহার করতে পারেন লাল বা বেগুনি রঙের বাতি।

অবশ্য এগুলো শুধু ঘরে প্রাকৃতিক উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ঘরকে উষ্ণ করবে না। কিন্তু শীতকালে, বিশেষ করে রাতের বেলায় যদি শোবার ঘর গরম করতে হয়, সে ক্ষেত্রে রুম হিটার ছাড়া গতি নেই। সেটা ব্যবহারের সময় কতগুলো বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—

♦    রুম হিটার খুব স্বাস্থ্যকর কিছু নয়। এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটা যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই ভালো।

♦    সন্ধ্যার পরে রুম হিটার চালু করে ঘর গরম করে নিন। তারপর বন্ধ করে দিন। প্রয়োজন হলে মাঝেমধ্যে চালিয়ে ঘর আবার গরম করে নিন। কিন্তু একটানা বেশিক্ষণ চালু রাখবেন না।

♦    হিটারের উষ্ণতা ধরে রাখতে এ সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন। সেগুলোতে ভারী পর্দার ব্যবহার যেমন বাইরের শীতকে ঠেকাবে, তেমনি ভেতরের উষ্ণতা ধরে রাখতেও সাহায্য করবে। একই কাজ করবে কার্পেট, শতরঞ্জি ও ওয়ালম্যাট।

♦    রুম হিটার চালু রাখা অবস্থায় ঘরে অবস্থান না করাই নিরাপদ। এটা চালিয়ে অন্য ঘরে চলে যান। ঘর গরম হলে হিটার বন্ধ করে দিন। তারপর শোবার ঘরে অবস্থান নিন। তাহলে হিটার ব্যবহারের জন্য শরীরের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা