kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

রূপচর্চা

চুলের বাড়তি যত্ন

এই সময়ে ছেলেদের চুলের যত্নে করণীয় কী জানিয়েছেন শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কাবির চৌধুরী। লিখেছেন এ এস এম সাদ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চুলের

বাড়তি যত্ন

শীত এলেই মাথায় খুশকি, চুল ভাঙা, রুক্ষ ও চিটচিটে হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। ঋতু পরিবর্তনের সময় ত্বকের সহনশীলতা বদলে যায়। ফলে এসব সমস্যা হয়ে থাকে। বছর শেষ হয়ে এসেছে, চলে এসেছে শীত। প্রকৃতিতে পাওয়া যাচ্ছে ঠাণ্ডার আভাস। শুষ্ক ও ধুলাময় এ সময়ে চুলের জন্য চাই অধিক যত্ন। এ সময়ের সব থেকে বড় সমস্যা হলো খুশকি। এর কারণে এমনকি পড়ে যেতে পারে চুল। তাই শীতের সময় ছেলেদের চুলের বাড়তি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।

 

মাথার ত্বক ম্যাসাজ

শীতকাল মানেই প্রকৃতিতে শুষ্কতা। চুল এ সময় খুবই রুক্ষ হয়ে ওঠে। এ জন্য অবশ্যই নিয়ম করে সপ্তাহে দুই-তিন দিন চুলে ভালোভাবে গরম তেল মালিশ করতে হবে। এরপর গোসল করে নিলে চুল অনেকটা উজ্জ্বল দেখাবে। তবে মালিশের পর শ্যাম্পু করে নেওয়াই ভালো। কারণ শীতকালে ধুলোবালি অনেক বেড়ে যায়।

 

খুশকির সমস্যা থাকলে

তেলের সঙ্গে লেবুর রস দিতে হবে, যদি খুব খুশকি থাকে। নারকেল তেল অথবা জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করাটা বেশি ভালো হবে। চাকরিজীবী হলেও অন্তত ছুটির দিনগুলোতে চুলে তেল ব্যবহার করা উচিত।

 

শ্যাম্পুর পরে কন্ডিশনার ব্যবহার

শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল ঝরঝরে হয়ে ওঠে। শীতকালে তা অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। কন্ডিশনারের স্থলে এক মগ পানিতে লেবুর রস দিয়েও চুল ধুয়ে নিতে পারেন। কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কন্ডিশনার যেন চুলের গোড়া ও মাথার ত্বকে না লেগে থাকে সেটাও খেয়াল রাখবেন।

 

রুক্ষতা দূর করতে

মাসে দু-একবার টক দই তেলের সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষতা দূর হবে।

যেসব ছেলের চুল লম্বা শীতকালে তাদের সমস্যা তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তাই বড় চুলের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। রং করা চুলের জন্য মাসে দু-একবার সেলুন অথবা পার্লারে গিয়ে ধরন বুঝে হেয়ার কেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে হবে। যতটা সম্ভব হেয়ার জেল, স্প্রে ও আয়রন থেকে দূরে থাকতে হবে। জেল ব্যবহার করলে সেটা অল্প সময়ের জন্য করা যেতে পারে। শীতে অনেকক্ষণ জেল ব্যবহার করলে ত্বকের সমস্যা হতে পারে।

 

শুষ্কতা

চুলের শুষ্কতা দূর করতে অথবা চুল কোমল রাখতে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এই জেল শুধু চুলের রুক্ষতাই কমাবে না, চুলপড়া অনেকাংশেই কমিয়ে দেবে। চুলের শুষ্কতা বেশি থাকলে অনেকের চুলকানির সমস্যা হয়। তাই চুল কোনোভাবেই শুষ্ক রাখা যাবে না।

 

নিয়মিত গোসল

ঢাকায় ধুলাবালির সমস্যা এখন নিত্যদিনের। বাইরে বের হলেই চুলে ধুলা এসে পড়ে। তাই যতই শীত পড়ুক, অবশ্যই প্রতিদিন গোসলের সময় ভালো করে চুল ধুয়ে নিতে হবে। একদিন পরপরই করতে হবে শ্যাম্পু। মোট কথা, চুলে কোনো ধুলো-ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না। তাহলেই চুল থাকবে ঝলমল ও প্রাণবন্ত।

 

ভিটামিন

কর্মজীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যেও সপ্তাহে দু-এক দিন ভালোভাবে হালকা গরম জলপাই তেলের সঙ্গে ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করুন। চুলের বাহারি স্টাইল তখনই সম্ভব, যখন চুল থাকবে প্রাণবন্ত ও সুস্থ। আপনি চাকরিজীবী হলে ছুটির দিন ছাড়া চুলের যত্ন নেওয়ার সময় পাবেন না। তাই কর্মদিবসের দু-এক দিন আপনি রাতে ভালো করে অলিভ অয়েলের সঙ্গে ভিটামিন ‘ই’ ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে মেখে সারা রাত রেখে সকালে শ্যাম্পু করে কাজে বের হতে পারেন।

 

ভালো একটি শ্যাম্পু বাছাই

বাজারে ছেলেদের চুলের উপযোগী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু পাওয়া যায়। যে ব্র্যান্ডের শ্যাম্পুই ব্যবহার করেন না কেন, সেটার ধরন অবশ্যই আপনার চুলের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। ভালো করে দেখে নিন, শ্যাম্পুটা কোন ধরনের চুলের জন্য প্রযোজ্য। আর বাজারের পরিচিত ভালো কোন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ব্যবহার করাই নিরাপদ। নইলে উল্টো চুলের আরো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাই থাকে বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা