kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ জানুয়ারি ২০২০। ৯ মাঘ ১৪২৬। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১          

পোশাকের নকশায় বাংলাদেশ

বিশেষ দিন তো বটেই, এখন নানা উপলক্ষেও তরুণ-তরুণীরা পরছেন নকশায় বাংলাদেশ আছে এমন পোশাক। ছোট-বড় ফ্যাশন হাউসগুলোও নিত্যনতুনভাবে পোশাকে তুলে ধরছেন বাংলাদেশ। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোশাকের নকশায় বাংলাদেশ

মডেল : পমি ও আজাদ, পোশাক : রঙ বাংলাদেশ ও নিত্য উপহার, সাজ : পারসোনা , ছবি : কাকলী প্রধান

আজিজ সুপারমার্কেটের দোকানে লাল-সবুজ রঙের টি-শার্ট খুঁজছিলেন আশিক ও টুম্পা। দুজনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই দোকানে শীতের চাদরে নদী আর মানচিত্রের ডিজাইন খুঁজে পেয়ে দুজন দুটো চাদরও কিনলেন। আশিক জানালেন, ছোটবেলা থেকেই বিজয় দিবসে লাল-সবুজ টি-শার্ট পরে ঘুরতে বের হন। এবার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন বিজয়ের পোশাক কিনতে। দুজনেরই ইচ্ছা পুরো ডিসেম্বর মাস বাংলাদেশ ডিজাইন করা পোশাক পরে ঘুরে বেড়ানোর।

সম্প্রতি বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিয়ে নকশা করা পোশাকের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বেড়েছে খুব। এর একটা ব্যাখ্যা দিলেন বিশ্বরঙ-এর স্বত্বাধিকারী বিপ্লব সাহা, ‘যাঁরা দেশপ্রেম মনে-প্রাণে ধারণ করেন তাঁদের অনেকেই সেটার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পছন্দ করেন। এ জন্য জুতসই পোশাক পেলে সেটা গায়ে চাপিয়ে নিচ্ছেন। প্রিয় কবিতার পঙিক্তমালা, প্রতিবাদী স্লোগান, লাল-সবুজ পতাকা কিংবা স্মৃতিসৌধের মতো ঐতিহ্যগুলো বয়ে বেড়াতে কে না পছন্দ করেন। এগুলো আমাদের গর্ব, আমাদের আত্মপরিচয়। বিশ্বের দরবারে আমাদের সংস্কৃতি তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যমও হচ্ছে পোশাক। আগ্রহ আছে বলেই ফ্যাশন হাউসগুলো এমন নিত্যনতুন পোশাকের ডিজাইন করছে।’

তরুণদের এই আগ্রহের একইরকম ব্যাখ্যা দিলেন ফ্যাশন হাউস নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান, ‘এখনকার তরুণ-তরুণীরা দেশপ্রেম প্রকাশ করতে চায়। এ জন্য তারা অনেক কিছু করে। কেউ ময়লা পরিষ্কার করে, কেউ নিয়ম মেনে গাড়ি চালাতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। অনেকেই আছে মাঠে গিয়ে ক্রিকেটের সমর্থনে গলা ফাটায়। কেউবা পাহাড় চূড়ায় উঠে মাথার ওপর তুলে ধরে বাংলাদেশের পতাকা। এসব কাজে যখন বাংলাদেশ নকশা করা পোশাক পরার সুযোগ পায় তরুণরা সেটা লুফে নেয়। অনেক দিন ধরেই এটা লক্ষ করছি আমরা।’

পোশাকে বাংলাদেশকে তুলে ধরায় অগ্রণী ভূমিকা আছে নিত্য উপহারের। বাহার রহমান আরো বলেন, ‘আমরা যখন শুরু করি তখনো বেশির ভাগ কাপড় আসত বিদেশ থেকে। এসব কাপড়ে বিদেশি ডিজাইন, বিদেশি মোটিফ থাকত। তখন চিন্তা করেছিলাম যা কিছু আমাদের নিজস্বতা বহন করে সেগুলো পোশাকে তুলে ধরা দরকার। ২০০৪ সালে বিজয় দিবস উপলক্ষে টি-শার্টের ডিজাইনে প্রথম পতাকা ব্যবহার করি আমরা। সেটা পোশাকে বাংলাদেশ তুলে ধরার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ধারা সৃষ্টি করে। শুরু থেকেই আমরা দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেম, দেশের শিল্প-সাহিত্য ও প্রকৃতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এই চেষ্টায় দেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

পোশাকের নকশায় বাংলাদেশকে তুলে ধরতে ডিজাইনাররাও সৃষ্টিশীল ভূমিকা রেখেছেন বলে জানালেন রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক দাস। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নদ-নদী, ফুল-পাখিসহ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির নানা উপাদানকে প্রথিতযশা শিল্পীরা তুলির আঁচড়ে তুলে এনেছেন। এখন পোশাকের নকশায় তাদের প্রিয় মোটিফ বাংলাদেশ। নিত্যনতুন ডিজাইনে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন তারা।’

পোশাকের নকশায় বাংলাদেশকে তুলে ধরতে বিভিন্ন উপলক্ষ বেছে নিচ্ছেন ডিজাইনাররা। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষে যেমন পতাকার রং লাল-সবুজকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তুলে ধরছেন বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, স্মৃতিসৌধ, বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি, মুক্তিযুদ্ধের গান-কবিতা তেমনি একুশে ফেব্রুয়ারির পোশাকে ফুটিয়ে তুলছেন ভাষাশহীদদের নাম-পরিচয়, শহীদ মিনার, বর্ণমালা, ভাষার গান, কবিতা, স্লোগান ইত্যাদি। পহেলা ফাল্গুনে ফ্যাশন হাউসগুলো বাংলাদেশের রূপ-বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে পোশাকে।

আবার বিভিন্ন উৎসবেও পোশাকের নকশায় বাংলাদেশকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তারা। পহেলা বৈশাখের পোশাকে বাঙালির আদি ঐতিহ্য ঢোল-তবলা, চিত্রিত পুতুল, নকশি পিঠা, আলপনা, হাতপাখা, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, লোকজ ধারার চিত্রকলা, শখের হাঁড়ি, মন্দিরের টেরাকোটা নকশা, সাঁওতালদের দেয়ালচিত্র, মাছ, কুলা, একতারা, দোতারা, ফুল-পাখিকে তুলে ধরছেন পোশাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা