kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাজের মানুষ

সাফল্যের সূত্র নেই, আছে কৌশল

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাফল্যের সূত্র নেই, আছে কৌশল

সাফল্যের কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র নেই। এটা নির্ভর করে আপনার মেধা আর পরিশ্রমের ওপর। দুটোর কোনোটারই বিকল্প হয় না, তবে সাফল্যের কিছু কৌশল আছে। এগুলো সাফল্য লাভের মূলমন্ত্র নয়, তবে সহায়ক। সাফল্যের জন্য অনেক সময় পরিবেশ-পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। তখন এই কৌশলগুলো ভীষণ কাজে লাগে। তবে সেগুলোও যথাসময়ে যথানিয়মে প্রয়োগ করতে হয়। বলা যেতে পারে, কৌশল প্রয়োগের জন্যও প্রয়োজন হয় কৌশলের। আপনার প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভের জন্য প্রয়োগ করতে পারেন এই ১০ কৌশল।

এক.

পরিশ্রম উন্নতির চাবিকাঠি—একসময় এই মূলমন্ত্রেই এগিয়ে চলত জীবন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। এখন শুধু পরিশ্রম উন্নতি নিশ্চিত করতে পারছে না। চাই ‘বুদ্ধিদীপ্ত পরিশ্রম’, যাতে অল্প শ্রমেই বেশি অর্জন সম্ভব হয়। একেক করে আশপাশের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খেয়াল করুন, কে কিভাবে পরিশ্রম করছেন।

 

দুই.

প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলে কিছু নেই। প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই সবার মিলিত উদ্দেশ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে নানামুখী কর্মযজ্ঞে প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কর্মকর্তাই জানেন না, কী উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রতিষ্ঠান এগিয়ে চলছে। একেকজনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের অভিমুখ একেক দিকে। খেয়াল করুন, সবাই প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে পরিশ্রম করছেন কি না।

 

তিন.

সবাই প্রতিষ্ঠানের লাভ বাড়ানোর জন্য অনবরত কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু ক্ষতি ও খরচ কমানো মানেও মুনাফা বাড়ানো। প্রতিষ্ঠানে এমন ব্যবস্থাপকের সংখ্যাও বাড়ানো দরকার, যাঁরা খরচ ও ক্ষতি কমাতে তাঁদের মেধা কাজে লাগাবেন। অন্যথায় লাভ বাড়ার পাশাপাশি ক্ষতিও বাড়বে। দিন শেষে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে না।

 

চার.

যথাসময়ে যথা কাজটি সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অসময়ে অনেক পরিশ্রম করেও কোনো লাভ হয় না। প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তারা সময়ের কতটা সঠিক ব্যবহার করছেন জানা দরকার সেটিও। হতে পারে একই কাজ শেষ করতে তিনজন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, অথচ বাকি তিনটি কাজ শেষ করার জন্য নেই কেউ। সেদিকে মনোযোগ দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার।

 

পাঁচ.

প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হচ্ছে বা খরচ বাড়াচ্ছে এমন বিষয়গুলোর প্রতি আলাদাভাবে নজর দিতে হবে। সবাই সময়মতো অফিসে আসছেন কি না, অনুস্থিতির হার কত, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহূত কোনো যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে আছে কি না—এসব ব্যাপারে প্রশাসনকে ভীষণ সজাগ থাকতে হবে। কোনো যন্ত্রপাতি অকেজো থাকলে তা দ্রুত সারানো প্রয়োজন। নইলে পরিশ্রম বাড়ে, ফলাফলের গতিও কমে যায়।

 

ছয়.

অফিসের সবাই পরিশ্রম করছেন, কিন্তু সেই পরিশ্রমের ফলাফল কী? তা কতটা কাজে লাগছে? এই কাজে লাগাটা এখনই কতটা দরকার? হয়তো অপ্রয়োজনীয় কাজেই বেশি পরিশ্রম করা হচ্ছে। অথচ প্রয়োজনীয় কাজগুলো করাই হচ্ছে না। নজর রাখুন প্রতিটি স্তরে। মূল্যায়ন করুন সবার পারফরম্যান্স। তেমন দেখলে সমস্যা কোথায় তা খুঁজে বের করুন।

 

সাত.

প্রতিটি বিভাগে কাজের প্রতিবেদন পেশ করা বাধ্যতামূলক করুন। সময়, অবস্থা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝে সেটা দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক হতে পারে। তবে কাজের চেয়ে কাজের প্রতিবেদন তৈরিতে যেন বেশি সময় ব্যয় না হয় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত প্রতিবেদন মূল্যায়ন করুন ও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত করুন। এর ওপর ভিত্তি করে স্বল্প সময়ের জন্য নিয়মিত সভা করুন।

 

আট.

প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ গবেষণা বিভাগ তৈরি করুন। এই বিভাগকে হতে হবে সবচেয়ে চৌকস। বিভিন্ন বিভাগের কর্মতত্পরতা, কর্মপদ্ধতি, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অর্জিত ফলাফল—এই চারটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করাই হবে এর প্রাথমিক কাজ। গবেষণা-ফলাফল পেশ করার পাশাপাশি সমস্যা চিহ্নিত করবে ও এর সম্ভাব্য সমাধানও উপস্থাপন করবে।

 

নয়.

প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ক্রান্তিকালে নেতৃত্ব হওয়া চাই বুদ্ধিদীপ্ত, বিচক্ষণ ও ধৈর্যশীল। একই সঙ্গে তাঁকে হতে হবে ক্ষিপ্র। সব দিকে রাখতে হবে কড়া নজর। প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখতে হবে বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গে। গৃহীত কোনো পদ্ধতিতে আশানুরূপ ফল না এলে তা দ্রুত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারতে হবে। অর্থাত্ যুক্তিসংগত ও নির্ভুল না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বা পদ্ধতি নিরন্তর পরিবর্তন করতে হবে।

 

দশ.

আপনি আগে কখনো অর্জন করেননি এমন ফলাফল পেতে হলে আগে কখনো করেননি এমন কাজও করতে হবে। একমাত্র সৃষ্টিশীলতাই পারে তা নিশ্চিত করতে। খেয়াল করুন, আপনার কর্মকর্তারা কতটা সৃষ্টিশীল। সমস্যা সমাধানে সৃষ্টিশীলতার বিকল্প নেই। এটার আলাদা কোনো বিভাগও নেই। সব বিভাগের সব কর্মীই সৃষ্টিশীল হতে পারেন। পারেন তাঁদের কাজে নতুন নতুন চমক আনতে, যা প্রতিষ্ঠানের জন্য বয়ে আনবে চমকপ্রদ সাফল্য। তাই কর্মীদের সৃষ্টিশীলতাকে উত্সাহ প্রদান করুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা