kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইন্টেরিয়র

শীতের বাগান

শীতে বাড়ির খোলা জায়গা বা ছাদে ফুল, ফল ও সবজি চাষ করতে পারেন। জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন। লিখেছেন আতিফ আতাউর

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শীতের বাগান

শহুরে জীবনে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে অনেকেই শখের ছাদবাগান করেন। আবার বাড়ির সামনে যদি সামান্য খোলা জায়গা থাকে, সেখানে লাগিয়ে দেন রঙিন ফুলের চারা। কেউ কেউ শাকসবজি ও ফলমূলের বাগান করেন। শীতকাল বাগান করার সবচেয়ে মোক্ষম সময়। আবহাওয়ার কারণে এই সময়ে গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমসসহ নানা রকম ফুল যেমন ফোটে, তেমনি ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, চেরি, টমেটো, লেটুসপাতা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ক্যাপসিকাম, ব্রুকলি, পালংশাক ও লালশাকসহ নানা রকম সবজি উত্পাদন হয়। এ ছাড়া চাইলে নানা রকম বিদেশি ফল, ফুল ও সবজির চাষও করতে পারেন। শীতকালীন ফুলের বীজ, চারা, কলম বা কন্দ রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস। যাঁরা চারা বানানোর সময়টিকে মিস করেছেন তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেননা এখন অনেক নার্সারিতে সব ধরনের ফুল, ফল ও সবজির চারা কিনতে পাওয়া যায়। সেখান থেকে পছন্দমতো চারা কিনে সহজেই বাসার সামনের খোলা জায়গা অথবা ছাদে শীতের ফুল, ফল বা সবজি চাষ করতে পারেন। সাধারণত উঁচু দোআঁশ মাটি ফুল, ফল ও সবজি চাষের জন্য বেশি উপযোগী। শীতের সময় আবহাওয়া খুব শুষ্ক থাকে। এ জন্য শীতের বাগানে পরিমাণমতো নিয়মিত পানি দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গাছের গোড়ায় যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে। মনে রাখবেন, বাগানবিলাসে যত বেশি পানি দেবেন তত বেশি পাতা হবে। আর যত কম পানি কিন্তু নিয়মিত পানি দেবেন তত বেশি ফুল হবে। আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণে প্রকৃতিতে এই সময় প্রচুর ধুলাবালি উড়ে বেড়ায়। ধুলাবালি গাছের পাতায় জমে ক্ষতি করে। এ জন্য গাছের পাতাগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। গাছের পাতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে কোনো রোগবালাই হবে না। গাছকে রোগবালাইমুক্ত রাখতে সহজ একটি পদ্ধতির প্রয়োগ করতে পারেন। দুই লিটার পানিতে দুই ফোটা লিকুইড সাবান [যেমন তরল ডিশওয়াশ] মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে মাঝে মাঝে পাতাগুলো ধুয়ে দিন। নিয়মিত এটি করলে মিলিবাগ থেকে শুরু করে গাছের যত রকমের রোগবালাই হয় একটিও হবে না। মাঝেমধ্যে বাগানের মাটি খুঁচিয়ে দিন। মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য কেঁচো সার অথবা গোবর ও শুকনা পাতার মিশ্রণ মাটিতে মিশিয়ে দিন। এতে বাগানের ফুল, ফল ও সবজির ফলন খুব ভালো হয়। টমেটো গাছে যদি টমেটো ধরে, তখন ডালগুলো বাঁকা হয়ে নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এ জন্য টমেটো গাছে খুঁটির ব্যবস্থা করতে হবে। তবে যে বাগানই করুন না কেন নিজের আগ্রহকে প্রাধান্য দিন। এখন যেহেতু শীতের সময়, তাই সবজির বাগান করাই ভালো। সঙ্গে ফুলের বাগানও করতে পারেন। বাগানে যদি পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তবে ড্রাগন, পেয়ারা, বেদানার চারা লাগাতে পারেন। এতে সারা বছর ফল পাওয়া যাবে। বাগানের প্রতি আপনার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। যাঁরা নতুন বাগান করতে চান অথবা বাগান পরিচর্যা শিখতে চান তাঁরা শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে প্রতি এক শুক্রবার পর পর ৯০ মিনিটের একটি ফ্রি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। হাতে-কলমে বাগান পরিচর্যার বিষয় শেখানো হয়। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হয় সেমিনার। আপনার বাগানের কোনো সমস্যা থাকলে তার সমাধানও দেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকরা। 

চারা কোথায় পাবেন

ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, আগারগাঁও, বনানী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কমলাপুর, যাত্রাবাড়ী, নতুন বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন স্থানে শীতকালীন ফুল, ফল ও সবজির চারা এবং বীজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে ভালো চারা কিনে সাবধানে নিয়ে এসে বাগানে লাগিয়ে দিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা