kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

যত্নআত্তি

পুরনো শীত পোশাকের যত্ন

পুরনো শীত পোশাকের যত্ন কিভাবে নেবেন পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের অধ্যাপক শামসুন নাহার। শুনেছেন এ এস এম সাদ

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনো শীত পোশাকের যত্ন

উল

 

উলের পোশাক ধোয়ার ক্ষেত্রে যত্নশীল হওয়া উচিত। ডিটারজেন্ট বা লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা ভালো। ডিটারজেন্ট ভালো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে উলের কাপড় হালকা হাতে কেচে ধুয়ে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে, বেশি জোরে কাপড় কাচা বা নিংড়ানো যাবে না। উলের কাপড় ওয়াশিং মেশিনেও ধোয়া যাবে না। উলের কাপড়ে কোনো দাগ পড়লে ধোয়ার আগে ওই দাগের ওপর লেবু ঘষে নিতে হবে। এই কাপড়ের পোশাকে ধুলা-ময়লা লাগে বেশি। তাই ব্যবহারের পর ভালোমতো ঝেড়ে রাখতে হবে। উলের কাপড় ধোয়ার পর তা না ঝুলিয়ে সমতল স্থানে বিছিয়ে শুকাতে দিতে হবে। না হলে এর আকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

ফ্লানেল ও পশমি

ফ্লানেল কাপড় ধুতে ডিটারজেন্ট বা লিকুইড ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। ভালো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে কেচে ধুয়ে ফেলা যায়। এ কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধোয়ার আগে কিছুক্ষণ ভিনেগার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। ফ্লানেল কাপড়ের বাড়তি রং থাকলে তা চলে যাবে। পশমি কাপড় ধোয়ার জন্য একটু সাবধানতা দরকার। এই কাপড় ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া যায় না। শুধু লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুতে হয়। তার জন্য পাঁচ থেকে দশ মিনিট ভিজিয়ে রেখে কচলে ধুয়ে পানি চেপে চেপে ফেলে দিতে হবে। পশমি কাপড় অন্য কাপড়ের সঙ্গে ভেজানো বা ধোয়া যাবে না। তাহলে পশম অন্য কাপড়ে লেগে যাবে। চাইলে ড্রাইওয়াশ করাতে পারেন। কাপড় ধোয়ার পর টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে ভাঁজ করে পলিথিনে ভরে বা হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পশমি, ফ্লানেল ইত্যাদি উপাদানের পোশাকে সহজে পোকায় ধরে। তাই অব্যবহূত বা কম ব্যবহূত পোশাক রোদে শুকিয়ে ন্যাপথালিনের সাহায্যে সংরক্ষণ কারুন। পশমি কাপড় শ্যাম্পু দিয়ে ধুলে উজ্জ্বলতা অটুট থাকে। পশমি কাপড়ে ঘামের দাগ লাগলে তা ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেই হয়। পুরনো ঘামের দাগ ও রঙিন কাপড়ের দাগ উঠাতে অ্যামোনিয়া হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড এবং সোডিয়াম হাইপো সালফাইডের দ্রবণে পর পর ভিজিয়ে শুকাতে হবে। অথবা বোরাক্স পাউডার প্রয়োগ করে রোদে শুকাতে হবে।

 

লেদার

লেদারের জ্যাকেট বারবার ওয়াশ করা যায় না। তাই মাঝেমধ্যে অল্প রোদে দিয়ে ব্রাশ করে ঝেড়ে ফেলতে হবে। বছরে দু-একবার ড্রাইওয়াশ করানোই ভালো। লেদারের জ্যাকেট হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। অনেক দিন ব্যবহার না করার ফলে জ্যাকেটের জিপারে জ্যাম হতে পারে। জিপারের চেইনে মোম বা নারকেল তেল দিয়ে ঘষে নিলে সহজ হয়ে যাবে।

 

কাশ্মীরি

কাশ্মীরি শাল বা সোয়েটার লিকুইড ডিটারজেন্ট দিয়ে ঘরেই ধোয়া যায়। তবে হালকা ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে পানি বের করতে হবে এবং ছায়াময় জায়গায় হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে শুকাতে হবে। ইস্ত্রি করার সময় একটি তোয়ালে বা সুতির কাপড় বিছিয়ে নিয়ে তার ওপর আয়রন করতে হবে। কাশ্মীরি শাল বা সোয়েটার শুকানোর পর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে বা ভাঁজ করে পলিথিন ব্যাগে করে ন্যাপথালিন দিয়ে রাখুন। এ ছাড়া শীতের কাপড় মাঝেমধ্যে রোদে দিতে হবে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, যাতে বেশি রোদ না পায়, তাহলে পোশাকের রং নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সকালে দশ থেকে বারো মিনিট রোদে রাখাই যথেষ্ট। দুপুর বেলার কড়া রোদে কাপড় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আলমারিতে রাখার আগে ন্যাপথালিন দিন। পারফিউম দিয়ে রাখবেন না, কাপড়ে দাগ পড়ে থাকবে। শীতের কাপড়ের সঠিক যত্ন নিলে তা দীর্ঘদিন উজ্জ্বল ও টেকসই হয়ে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা