kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

হালকা শীতে সিল্কই সই

শীত জেঁকে না বসলেও জানান দিচ্ছে। এই সময়ে পরা যেতে পারে সিল্কের পোশাক। ডিজাইনার হুমায়রা খানের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন নাবীল আল জাহান

৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হালকা শীতে সিল্কই সই

মডেল : আইরীন, শাড়ি : টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির, সাজ : পারসোনা , ছবি : কাকলী প্রধান

সিল্কের কদর চিরকালীন। আগেকার দিনে এই কাপড় ব্যবহূত হতো রাজরাজড়াদের পোশাক বানাতে। তাতে প্রকাশ পেত আভিজাত্য। অবশ্য মাঝে একটা সময় সিল্ককে মনে করা হতো সেকেলে। কারণ এই কাপড় বেশ ভারী আর অনেক বেশি চকচকে। সম্প্রতি মানুষের এই ধারণা বদলে গেছে। সিল্কের পোশাক এখন ট্রেন্ডি।

আমাদের দেশজ সিল্কের কদর দেশে তো বটেই, আছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও। পাশাপাশি এই কাপড়ে অনুভূত হয় উষ্ণতা। তাই শীতকালের পোশাকে সিল্কের ব্যবহার একটু বেশিই হতে দেখা যায়। তা ছাড়া আভিজাত্যের ব্যাপার তো আছেই। উত্সবের এই ঋতুতে যা এক্কেবারে মানানসই। সিল্কে এখন তৈরি হচ্ছে শাড়ি, কুর্তা, কামিজ, গাউন, স্কার্টসহ নানা পোশাক।

সিল্কের পোশাকে সাধারণত খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা হয় না। শাড়িগুলো মূলত একরঙাই হয়। ব্যবহার করা হয় টাই অ্যান্ড ডাই বোল্ড কালার। তার ওপরে অল্পবিস্তর কাজ থাকে। সব মিলিয়ে শাড়িগুলোতে থাকে আভিজাত্যের ছোঁয়া।

সিল্কের ব্যবহার দেখা যায় কামিজ, গাউন ও কুর্তায়ও। আগে শাড়ির মতোই সিল্কের কামিজ, গাউন ও কুর্তাগুলোও প্রায়ই একরঙা হতো। নকশা ও কারুকাজও খুব বেশি থাকত না। নতুন দিনের ডিজাইনাররা সেই রক্ষণশীল ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসছেন। বর্তমানে পোশাকে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার চলছে খুব। একই পোশাকে ব্যবহূত হচ্ছে অনেক রং। সেই ছোঁয়া লেগেছে সিল্কের কামিজ, গাউন, কুর্তায়ও। ম্যাট কালারের একরঙার পাশাপাশি এগুলো এখন একাধিক উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারেও পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু নকশা-কারুকাজ ও রঙের ব্যবহারেই নয়, পোশাকে সিল্কের ব্যবহারেও এসেছে নতুনত্ব। আগে এই পোশাকগুলোতে শুধুই সিল্ক ব্যবহার করা হতো। এখন অনেক সময়ই তার সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে সাটিন, মসলিন, কোটা মসলিন, জরি মসলিন, জর্জেট কাপড় প্রভৃতি। পিওর সিল্কের পাশাপাশি সফট সিল্ক, র সিল্ক, দুপিয়ান সিল্ক, হাফসিল্ক, অ্যান্ডি সিল্ক প্রভৃতিও বেশ চলছে। আগে সাধারণত সিল্কে এমব্রয়ডারির কাজ করা হতো। এখন বেড়েছে প্রিন্টেড সিল্কের ব্যবহার।

বেশ কয়েক বছর ধরেই শীতের পোশাক হিসেবে জাম্পস্যুটের চল বাড়ছে। সম্প্রতি এটি বেশ ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। বানানো হচ্ছে সিল্ক দিয়েও। উজ্জ্বল রঙের সিল্কের জাম্পস্যুট বেশ চলছে। এ ছাড়া সিল্কের স্কার্টও চলছে। চকচকে ভাবের জন্য সবাই সাধারণত রাতেই সিল্কের পোশাক পরতে চায়। তবে এখন অনেকেই দিনেও এই পোশাক পরছেন। সে জন্য সিল্কের স্কার্টের সঙ্গে ভেলভেটের টপস ব্যবহার করা যেতে পারে। সিল্কের শাড়ির সঙ্গেও পরা যেতে পারে ভেলভেটের ব্লাউজ।

তবে সিল্কের কাপড়ের চাকচিক্য ঠিকঠাক রাখতে এর বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। না হলে দ্রুতই এর চকচকে ভাব হারিয়ে যেতে পারে। তখন দামি পোশাকগুলো আভিজাত্যের বদলে উল্টোটাই প্রকাশ করবে। বিশেষ করে সিল্কের শাড়ির বিশেষ যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন।

 

সিল্কের জন্য পরামর্শ

♦    সিল্কের পোশাক আলমারিতে রাখার সময় সুতি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখুন।

♦    দীর্ঘদিন একইভাবে রাখলে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ফেটে যেতে পারে বা রং হালকা হয়ে যেতে পারে। তাই      মাঝেমধ্যে কাপড়ের ভাঁজ খুলে আবার ভাঁজ করে রাখুন।

♦    সম্ভব হলে ভাঁজ খুলে আবার ভাঁজ করে রাখার মাঝে ঘণ্টাখানেক ছায়ায় রেখে দিন।

♦    সিল্কের পোশাক, বিশেষ করে শাড়ি ঝুলিয়ে না রাখাই ভালো।

♦    ধোয়ার ক্ষেত্রে ড্রাইওয়াশ করানো সবচেয়ে ভালো। বাড়িতেও ধুতে পারেন। তবে ওয়াশিং মেশিনে না ধোয়াই ভালো।

♦    বাসায় ধোয়ার ক্ষেত্রে পানিতে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন।

♦    ধোয়া শেষে বেশি জোরে পানি নিংড়াবেন না। তারপর রোদে নয়, ছায়ায় মেলুন।

♦    ইস্ত্রি করার সময় শাড়ির ওপরে একটি সুতি কাপড় বিছিয়ে নিন। খেয়াল রাখুন ইস্ত্রি যাতে বেশি গরম হয়ে না যায়।

♦    ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে ব্যবহার করতে পারেন হোয়াইট ভিনেগার। এক লিটার পানিতে এক টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে তাতে কাপড় তিন মিনিট ভিজিয়ে তুলে নিন। সাধারণ পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। তারপর ইস্ত্রি করুন।

 

১.   লম্বা ফ্লেয়ার গাউনটি সিল্কের তৈরি। ফ্লেয়ারে ব্যবহার করা হয়েছে মসলিন ও জরি মসলিন। ব্যবহার করা হয়েছে ট্রেন্ডি উজ্জ্বল রং। তাতে রেইনবো কালেকশনের ছোঁয়া। নকশা অনেকটা প্রজাপতির মতো। ব্যাকগ্রাউন্ড নিউট্রাল ব্ল্যাক।

২.   পিওর সিল্কে তৈরি জামরঙা আনারকলি। এটির সঙ্গে ঘাগরা বা চুড়িদার সালোয়ার পরা যেতে পারে। সঙ্গে মসলিনের ব্রাশ পেইন্ট ওড়না।

পোশাক : হুমায়রা খান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা