kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

কাজের মানুষ

কাজের জন্য বাড়তি সময়

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাজের জন্য বাড়তি সময়

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে বাধ্য হয়েই অসম্পাদিত কাজ শেষ করতে শ্রমিক বা কর্মচারীদের অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয়। এটাকে আমরা বলি ‘ওভারটাইম’। তাতে আপত্কালীন সমস্যার সমাধান হয় বটে, কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়—যথাসময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না কেন? কারণ কাজের পরিমাণ বেশি, নাকি কাজ শেষ করতে সময়ের পর্যাপ্ত ব্যবহার হচ্ছে না? কাজের পরিমাণ বেশি হলে ওভারটাইমের প্রয়োজনটাও যুক্তিসংগত। কিন্তু কারণ যদি হয় সময়ের পর্যাপ্ত ব্যবহার না হওয়া, তাহলে ওভারটাইম তার সমাধান নয়। সে ক্ষেত্রে বরং ওভারটাইম এড়ানোর চেষ্টাই করা উচিত। এ জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ওভারটাইম করে বাড়তি উপার্জনের চেষ্টা অনেকেই করতে পারেন। তেমন কিছু হচ্ছে কি না অধিকর্তাকে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ওভারটাইম বন্ধ করতে ১০টি উপায় অবলম্বন করতে পারেন—

এক.

নির্দিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য যদি যথেষ্ট সময় হাতে থাকে, তাহলে বাড়তি সময় লাগার প্রশ্নই আসে না। তাই দলকে শুধু কাজ বুঝিয়ে দিলেই হবে না, কাজ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় বরাদ্দ করতে হবে। মনিটর করতে হবে, বরাদ্দকৃত সময় যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না। যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ না হয়, তাহলে তার কারণ অনুসন্ধান করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

দুই.

লোকবল এবং তাদের কাজের দক্ষতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হবে। এই লোকবল স্বাভাবিক সময়ের মধ্যে কতটা কাজ করতে সক্ষম সে ধারণাও থাকতে হবে। তাহলে কত সময়ে সর্বোচ্চ কতটুকু কাজ করা সম্ভব তা আগে থেকেই সঠিকভাবে অনুমান করা যাবে। সে অনুযায়ী সময় বরাদ্দ করতে হবে। নইলে ভুল অনুমানের নিরিখে কাজ দেওয়া হলে তা উল্টো অসন্তোষ বাড়াবে।

 

তিন.

যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো সমস্যা হতেই পারে। সেটা সামাল দেওয়ার জন্য হাতে কিছুটা সময় রেখে দিতে হবে, যাতে দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে কোনো সংকটে পড়তে না হয়। আপনি কাজ শেষ করার জন্য সময়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন, কোনো দৈব-দুর্বিপাকে তার চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হতেই পারে। হাতে রাখা সময়টুকু সে সময় আপনার কাজে লাগবে।

 

চার.

দলকে সব সময় উদ্দীপ্ত রাখা দরকার। কেউ কাজে অমনোযোগী হলে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে না। তখনই হবে ঝামেলা। আর দল অনুপ্রাণিত থাকলে অল্প সময়ে বেশি কাজ শেষ করা যায়। তাতে ওভারটাইমের প্রয়োজন বরং আরো কমে আসে।

 

পাঁচ.

মনিটরিং বা তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি অফিস সময়ের পুরোটুকু দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে, তাহলে অকারণ ওভারটাইম ব্যবহার এমনিতেই কমে যাবে। সুতরাং তদারকি বাড়ান।

 

ছয়.

সব শ্রমিক বা কর্মচারী এক মানসিকতার হন না। কেউ কেউ ওভারটাইম করে একটু বেশি উপার্জনের জন্য এমনকি অফিসের সময়টাই সঠিকভাবে ব্যবহার করেন না। সে সময় ঠিকমতো কাজ না করে পরে ওভারটাইম করে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেন। এ বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের শ্রমিক বা কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাঁরা যেন এমন কাজ থেকে নিবৃত্ত হন তেমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

দীর্ঘক্ষণ ধরে কঠোর পরিশ্রমের কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর; বিশেষ করে বয়স ত্রিশের বেশি হলে। যাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে ওভারটাইম করার প্রবণতা বেশি, তাদের কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনুন। প্রয়োজনে বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্যের সাহায্য নিন

 

সাত.

ওভারটাইম কমানোর জন্য আপনিও খানিকটা কৌশলী হতে পারেন। পেছনের রেকর্ডগুলো একটু ঘেঁটে দেখুন—কেন ওভারটাইম প্রয়োজন হয়, কারা ওভারটাইম করে বেশি আয় করছেন। এগুলো পর্যালোচনা করলেই আপনি একটা ধারণা পেয়ে যাবেন, কী কী পদক্ষেপ নিলে ওভারটাইম এড়ানো সম্ভব। বুঝতে পারবেন কার কাজের প্রতি নজর রাখতে হবে, কোন জায়গাগুলোতে সতর্ক থাকতে হবে।

 

আট.

দীর্ঘক্ষণ কঠোর পরিশ্রমের কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর; বিশেষ করে বয়স ত্রিশের বেশি হলে। যাদের কাজে ফাঁকি দিয়ে ওভারটাইম করার প্রবণতা বেশি, তাদের কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনুন। প্রয়োজনে বিভিন্ন সমীক্ষার তথ্যের সাহায্য নিন। তাদের জানান যে যারা বেশি মাত্রায় ওভারটাইম করে তারা মানসিক বিষণ্নতায় ভোগে, দীর্ঘক্ষণ কঠোর পরিশ্রম স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি।

 

নয়.

যারা চেষ্টা করেও যথাসময়ে কাজ শেষ করতে পারছে না, তাদের কর্মদক্ষতা ও সময়ানুবর্তিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করুন।

 

দশ.

যারা অফিস চলাকালে কর্মপারদর্শী নয় কিংবা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে না, তাদের ওভারটাইম করার জন্য নির্বাচন করবেন না। এতে ওভারটাইমের সুযোগ পাওয়ার জন্য যারা ঢিমেতালে কাজ করে, তারা কিছুটা হলেও সতর্ক হয়ে যাবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা