kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পোকামাকড়ের ঘরবসতি!

রাসায়নিক বিষ প্রয়োগে নয়, প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই বাড়ি পোকামাকড়মুক্ত রাখা যায়। জানিয়েছেন স্টুডিও ট্রায়াঙ্গলের ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সাইফুল ইসলাম শিমুল। লিখেছেন নাবীল আল জাহান

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পোকামাকড়ের ঘরবসতি!

উইপোকা, ছারপোকা, তেলাপোকা, আরশোলা, মশা, মাছি, ইঁদুর—বাড়িতে এগুলোর উপস্থিতি রীতিমতো আতঙ্কের ব্যাপার। এগুলো দমনে বাজারে অনেক ধরনের রাসায়নিক ওষুধ ও বিষ পাওয়া যায়; তেলাপোকা-আরশোলা দূর করার চক, ইঁদুর মারার বিষ, বিভিন্ন ধরনের স্প্রে, ন্যাপথালিন ইত্যাদি। সেগুলোতে কিছুটা ফল মিললেও বাড়ির মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। বিশেষ করে বাড়িতে শিশু বা বয়স্ক কেউ থাকলে এসব রাসায়নিক ব্যবহার না করাই ভালো। বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে সেগুলোর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে পোকামাকড় দমনের রাসায়নিক ওষুধ। বদলে নিচের প্রাকৃতিক উপাদানগুলো ব্যবহার করতে পারেন—

♦    রান্নাঘরসহ যেখানে যেখানে তেলাপোকার উত্পাত বেশি, সেসব স্থানে রাখতে পারেন শসার ছিলকা। কারণ তেলাপোকা শসার গন্ধ সহ্য করতে পারে না।

♦    চিনির কৌটায় পিঁপড়ার আক্রমণ একটু বেশিই হয়। সেটা ঠেকাতে কৌটার মধ্যে দু-একটা লবঙ্গ রেখে দিতে পারেন।

♦    লেবু ছোট ছোট টুকরা করে বিভিন্ন স্থানে রেখে দিলে ফল পাওয়া যাবে। লেবুর সাইট্রিক এসিড পোকামাকড় সহ্য করতে পারে না। তাই পোকামাকড় দমনে এটি বেশ কার্যকর।

♦    নিমপাতা পোকামাকড় দূরে রাখে। এমনকি দূরে রাখে ছারপোকাদেরও। তাই ছারপোকার উত্পাত শুরু হলে কাপড়ের ভাঁজে ও লেপ-তোশকের নিচে শুকনা নিমপাতা রেখে দিতে পারেন। বইয়ের ভেতর রাখলে দূরে থাকবে বইয়ের পোকা। শুকনা নিমপাতার গুঁড়া ছড়িয়ে দিতে পারেন রান্নাঘরে।

♦    পুদিনাপাতা কেবল পোকামাকড় দূরই করে না, সেই সঙ্গে সুগন্ধও দেয়। এই পাতা কুচি কুচি করে কেটে বিছানা বা ম্যাট্রেসের চারপাশে ছিটিয়ে দিতে পারেন। রাখতে পারেন কাপড়ের ভেতরেও।

♦    কাপড়চোপড়ের ভেতর কালিজিরা ছোট ছোট পুঁটলিতে বেঁধে রেখে দিতে পারেন। তাহলে কাপড়গুলো পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকবে।

♦    পিঁপড়ার চলার পথে মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন। কিংবা ব্যবহার করতে পারেন গোলমরিচের গুঁড়া বা লবণ।

♦    তেলাপোকা দমনের জন্য গোলমরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনের স্প্রে বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্রথমে গোলমরিচ, পেঁয়াজ ও রসুনের পেস্ট তৈরি করুন। তার সঙ্গে পানি মিশিয়ে সেটা তরল বানিয়ে একটি স্প্রের বোতলে ভরে রাখুন। যেখানে তেলাপোকাদের আনাগোনা, সেখানে প্রয়োজনমতো স্প্রে করুন। এটা অন্যান্য পোকামাকড় দমনেও কাজে দেবে।

♦    বাড়িতে ইঁদুরের উত্পাত দেখা দিলে ইঁদুরের গর্তের মুখে দিতে পারেন মরিচের ধোঁয়া। ইঁদুরের গর্তে পানি ঢাললেও কাজে দেবে। গর্তের মুখে গুঁজে দিতে পারেন স্টিলের স্ক্রাবার।

♦    পিঁপড়া ও আরশোলা কর্পূরের গন্ধ সহ্য করতে পারে না। তাই এদের আনাগোনা কমাতে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কর্পূর ছিটিয়ে দিতে পারেন। উইপোকা ঠেকাতে কর্পূরের সঙ্গে লিকুইড প্যারাফিন মিশিয়ে দেয়ালের যেখান দিয়ে উইপোকা বের হয়, সেখানে লাগিয়ে দিতে পারেন।

♦    ভিনেগার রান্নার উপকরণ হলেও পোকামাকড় দমনেও বিশেষ কার্যকর। সে জন্য ঘর মোছার সময় পানিতে দুই টেবিল চামচ ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এতে পিঁপড়া, তেলাপোকা, আরশোলা দূর হবে।

♦    পোকামাকড় দমনে ব্যবহার করতে পারেন পিপারমেন্ট অয়েলের মিশ্রণও। সে জন্য পানির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পিপারমেন্ট অয়েল মিশিয়ে একটি স্প্রের বোতলে ভরে রাখুন। ভিনেগার ও পিপারমেন্ট অয়েল একসঙ্গেও ব্যবহার করতে পারেন। এটি মাকড়সা, পিঁপড়া, মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় দূরে রাখতে খুবই কার্যকর। এমনকি ইঁদুর দমনেও এটি ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে সরাসরি কোনো কাঠের আসবাবের ওপর প্রয়োগ না করাই ভালো।

♦    বাড়িতে বাগান করলে পোকামাকড় বাড়বে ভেবে অনেকেই বিরত থাকেন, তবে কিছু গাছ উল্টো বাড়িকে পোকামাকড়মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এ জন্য বাড়িতে লাগাতে পারেন গাঁদা, বেসিল, তুলসী ও পুদিনার গাছ। এগুলোর গন্ধ মশা ও অন্যান্য পোকামাকড় দূরে রাখে।

♦    ঘরের বিভিন্ন স্থানে বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিতে পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে কিছুদিন পর পর সোডা ধুয়েমুছে আবার নতুন করে ছিটাতে হবে।

♦    পোকামাকড় দমনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন সিলিকা জেল। এর ছোট ছোট প্যাকেট ছড়িয়ে দিতে পারেন বাড়ির বিভিন্ন জায়গায়।

♦    তবে পোকামাকড় দূরে রাখার জন্য সবচেয়ে জরুরি বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা; বিশেষ করে রান্নাঘর। ঘরে জিনিসপত্র দিনের পর দিন একইভাবে পড়ে থাকলে তাতে তেলাপোকাসহ নানা পোকামাকড় বাসা বাঁধতে পারে। তাই মাঝেমধ্যেই এসব জিনিসপত্র নেড়েচেড়ে রাখুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা