kalerkantho

সোমবার । ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ১ পোষ ১৪২৬। ১৮ রবিউস সানি                         

আবেগী সঙ্গী?

সঙ্গী বেশি আবেগপ্রবণ হলে কী করবেন পরামর্শ দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার। শুনেছেন এ এস এম সাদ

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবেগী সঙ্গী?

তানভীর ও মীমের ভালোবাসার সম্পর্ক প্রায় এক বছরের। দুজনই একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে একটি সমস্যা হচ্ছে, মীম অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। পান থেকে চুন খসলেই রীতিমতো ঝামেলা পাকিয়ে ফেলেন। এ ছাড়া মীমের অতি আবেগপ্রবণ আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ে তানভীরের ইমেজও নষ্ট হতে শুরু করেছে। তানভীরের সঙ্গে ঝগড়া করে প্রায়ই তানভীরের বাসায় ফোন করে অভিযোগ করেন মীম। পরিবারও বিষয়টি নিয়ে এখন বিব্রত। তানভীরের দিন যাচ্ছে মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে। এসব কারণে তানভীর ইদানীং মীমকে একটু এড়িয়ে চলছেন। তানভীর ভাবতে শুরু করেছেন, এই সম্পর্ক নিয়ে ভবিষ্যতে যাওয়া সম্ভব কি না।

 

আবেগ কী

আবেগ মানুষের মস্তিষ্কের এক ধরনের সংকেত পদ্ধতি। আমাদের যদি কিছু ভালো না লাগে, তাহলে আমরা রেগে যাই। মনে ভয় অথবা ঘৃণার সঞ্চার হয়। আবার কিছু ভালো লাগলে আমরা খুশি হই। এই সংকেতগুলো আমাদের মস্তিষ্ক আগে অনুধাবন করে। এটা এমন একটি মানসিক অবস্থা, যা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই উদ্ভূত হয়, সচেতন আচরণ থেকে নয়।

 

আবেগকে প্রাধান্য না দেওয়া

প্রত্যেক মানুষই আবেগপ্রবণ। তবে বিপত্তি তখনই ঘটে, যখন সঙ্গী বেশি আবেগপ্রবণ হন। একটি মানুষ অতি আবেগপ্রবণ হতে পারেন, কারণ একেকজনের সমাজ ও পরিবেশ ভিন্ন। সঙ্গী বেশি আবেগপ্রবণ হলে তাঁর আবেগকে প্রাধান্য না দেওয়াই ভালো। নিজের আচরণে পরিবর্তন না এনে তাঁকে বুঝিয়ে দিন, তাঁর এই আচরণ আপনি প্রশ্রয় দিচ্ছেন না।

 

নিজেকে আয়ত্তে আনুন

জীবনসঙ্গীর ওপর আপনারও দায়িত্ব আছে। কারণ আজীবন দুজন একসঙ্গে থাকার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই সঙ্গী অতি আবেগপ্রবণ হলে নিজের ধৈর্যধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাঁর আচরণে যাতে আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

 

প্রশ্রয় না দেওয়া

সঙ্গী বেশি আবেগপ্রবণ হলে সঙ্গীর প্রতিক্রিয়ার কথা চিন্তা করে অনেক বিষয় নিয়েই আপনার মধ্যে শঙ্কা তৈরি হতে পারে। অনেক কাজ করতেও দ্বিধা হতে পারে। আপনি তাঁকে ভয় পাচ্ছেন, এটা আপনার জন্য যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি সঙ্গী এটা বুঝে গেলে একই জাতীয় কাজ তিনি আরো বেশি করবেন। নিজের মধ্যে ভয় না রেখে সঙ্গীর অতি আবেগ প্রশ্রয় না দেওয়াই ভালো।

 

কথা বলুন

সম্পর্কে কোনো বিষয় নিয়ে তিক্ততা এলে ঝামেলা তৈরি না করে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। সঙ্গীর আচরণে আপনার সমস্যা খুলে বলুন। আপনাদের সুন্দর সম্পর্ক ব্যাহত হচ্ছে, সেটিও তাঁকে বুঝিয়ে বলুন। বলুন যে এতে দুজনের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। দুজনের ভালোবাসার সম্পর্কে সুন্দর স্মৃতি, অনুভূতি নিয়েও কথা বলতে পারেন।

 

সাময়িক বিরতি

ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। জীবনসঙ্গীর গতিবিধি সম্পর্কে সাধারণত পরস্পর অবগত থাকেন। প্রতিটি ভালোবাসার সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি যত্ন নেওয়ার জায়গাও তৈরি হয়। সঙ্গীর নেতিবাচক আবেগপ্রবণতা কমাতে যত্ন নেওয়ার সেই জায়গায় সাময়িক বিরতি দিন। সঙ্গীর চিন্তার জায়গায় তখনই নাড়া দেবে, যখন আপনি তাঁর যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দেবেন। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে সাময়িকভাবে কথা বলা কমিয়ে দিতে পারেন। এতেও তিনি নিজেকে বুঝতে পারার সময় পাবেন।

 

সময় দিতে বলুন

সঙ্গীকে বলুন নিজেকে সময় দিতে। নিজেকে সময় দিলে অনেক সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। এতে তাঁর নিজের মনই খুঁজে বের করবে তাঁর অতি আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা