kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এই চিকেন কিন্তু সেই চিকেন না

লখনউয়ের হাতের কাজের বিশেষ ধারা চিকনকারি বাংলাদেশে এসে হয়ে গেছে চিকেন। ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই চিকেন কিন্তু সেই চিকেন না

মডেল : নুসরাত ফারিয়া,শাড়ি : হুমায়রা খান,সাজ : মারিয়া’স ব্রাইডাল স্টুডিও,স্থান কৃতজ্ঞতা : ও’প্লে ইটালিয়ান ব্রিস্টো,ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

কাজটির পুরো নাম চিকনকারি। এটি এক ধরনের হাতের কাজ। ভারতের লখনউয়ের ঐতিহ্যবাহী এই কাজের কাপড় শুরু থেকেই ফ্যাশনপ্রিয় মানুষের কাছে দারুণ সমাদৃত। বাংলাদেশে চিকেন নামেই পরিচিত এই কাজের কাপড়। এটি এমব্রয়ডারির মাধ্যমে করা হয়। আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজের স্বত্বাধিকারী ও প্রধান ডিজাইনার তাসলিমা আক্তার মলি বলেন, ‘চিকনকারির কাজকে আমরা চিকেন বলেই ডাকি। ক্রেতারাও এই নামেই আমাদের কাছে খোঁজেন। এটি বাংলাদেশে এসেছে লখনউ থেকে। অতি সূক্ষ্ম ধারার হাতের কাজ বলে এর নাম চিকনকারি। মেশিন এমব্রয়ডারির মাধ্যমেও এখন কাপড়ে ফুটে উঠছে চিকনকারির বুনন।’

একসময় শাড়িতে চিকেনের কাজ বেশি হতো, যেটা লখনউ স্টিচ নামে ব্যাপক পরিচিত। সুতার নিখুঁত বুননে তৈরি এই শাড়ি শুরু থেকেই উপমহাদেশের সব দেশে জনপ্রিয়। লখনউ থেকে উপমহাদেশ পেরিয়ে চিকনকারি ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশ-বিভুঁইয়েও। চিকেনকে মডিফাই করে নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাক তৈরি করছেন ডিজাইনাররা। সেটাই লুফে নিচ্ছেন ফ্যাশনপ্রেমীরা। ফ্যাশন হাউস আনিকিনীর স্বত্বাধিকারী ডিজাইনার হুমায়রা খান বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী যেকোনো কিছুর প্রতি ফ্যাশনপ্রেমীদের টান বেশি। শাড়িতে লখনউ স্টিচের মর্যাদা সব সময়ই ছিল, এখনো আছে। এখন এটিকে গাউন, কুর্তিসহ বিভিন্ন ধরনের পার্টি পোশাকে মডিফাই করা হচ্ছে। এটিকেই ক্রেতারা দারুণ পছন্দ করছেন। বেশ কিছুদিন ধরেই থ্রিপিস, গাউন, কুর্তিতে নারীদের পছন্দে এগিয়ে রয়েছে চিকনকারি।’

চিকেনের প্রতি সব বয়সী ক্রেতার সমান আগ্রহের কথা জানালেন তাসলিমা আক্তার মলিও। তাঁর মতে, লখনউ স্টিচ কিংবা চিকনকারির প্রতি আগ্রহ মূলত এর সেলাইয়ের কারণে। এই কাপড় দিয়ে যেকোনো বয়সী নারী তাঁর পছন্দমতো পোশাক বানিয়ে নিতে পারেন। চিকনকারির পোশাকের রঙে সাধারণত প্যাস্টেল শেড ব্যবহার করা হয় বলে সব বয়সীদের কাছেই এর আবেদন বেশ। ফ্যাশন হাউসগুলোও সেভাবে কাজ করে। যাঁরা ফ্যাশনপ্রেমী, ট্রেন্ড বোঝেন তাঁরা চিকনকারির প্রতি ঝুঁকছেন। কিশোর বয়সীরা কুর্তি নিচ্ছে। মাঝবয়সীরা চিকেনের সালোয়ার-কামিজ বেছে নিচ্ছেন। কটন, জর্জেটসহ যেকোনো কাপড়ের ওপর এই কাজ ফুটিয়ে তোলা যায়। এটিও এই পোশাকের ট্রেন্ডে শামিল হওয়ার আরেকটি বড় কারণ।

চিকনকারির পোশাকপ্রীতির বড় উদাহরণ আছে বলিউড অভিনেত্রীদের মধ্যেও। বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন, সোনম কাপুর থেকে শুরু করে অনেকেই বিয়ে এবং বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠানে চিকনকারির পোশাকে সেজেছিলেন। এমনকি বিশেষ ডিজাইনের চিকনকারি শাড়িতে কান উত্সবেও অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া রাইবচ্চন। সেখানে তাঁর এই পোশাকের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

চিকনকারি পোশাক যেহেতু অন্য সব পোশাক থেকে আলাদা, এ জন্য যত্ন-আত্তি নিতে হবে একটু অন্যভাবে। মলি জানান, চিকনকারির পোশাক ড্রাইওয়াশ করা ভালো। না হলে সেলাই, ডিজাইন ও কাপড়ের মান বেশিদিন ভালো রাখা যায় না।

কেমন দাম কোথায় পাবেন

চিকনকারি উত্সবমুখী আর উন্নত ফ্যাব্রিকে করা হয় বলে এর দামটা একটু বেশি। পাশাপাশি কোন কাপড়ে কী ডিজাইন, তার ওপরও দাম নির্ভর করে। শাড়ি, গাউন, কুর্তি, কামিজ ভেদেও দাম কমবেশি হয়। চিকনকারি সুতি শাড়ির দাম শুরু তিন হাজার থেকে আর গাউন, কুর্তি, কামিজের দাম শুরু পনের শ টাকা থেকে। বড় যেকোনো ফ্যাশন ব্র্যান্ডে চিকনকারির পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। চাঁদনীচক, নিউ মার্কেট, মৌচাক, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলেও দেখা মিলবে এসব পোশাকের। পাওয়া যাবে গজ কাপড়ও। ধরনভেদে প্রতি গজ চিকনকারি কাপড়ের দাম শুরু ২৫০ টাকা থেকে।

পোশাক : আইকনিক ফ্যাশন গ্যারেজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা