kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিরাপদ রান্নাঘর

আগুন, পানির ব্যবহার থেকে কাটাকুটি; কি না হয় রান্নাঘরে। অনিরাপদ রান্নাঘরে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। রান্নাঘরের নিরাপত্তায় করণীয় জানিয়েছেন রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরিন চৌধুরী। লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিরাপদ রান্নাঘর

ছবি : আবু সুফিয়ান নিলাভ

একটি আদর্শ বাসার জন্য নিরাপদ রান্নাঘর খুব জরুরি। বাড়ি তৈরি থেকে শুরু করে হেঁসেলে আগুন জ্বালানোর আগ পর্যন্ত একটি পরিকল্পনা করে নিতে হবে। এখন দিন দিন বাসাবাড়ি ছোট হয়ে আসছে। ছোট ছোট রুমের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একচিলতে রান্নাঘর। সরু ও স্বল্প জায়গার রান্নাঘর হয়ে উঠছে বিপদের কারণ। এ জন্য বাড়ি ডিজাইনের সময় রান্নাঘরের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা উচিত। রান্নাঘরে চুলা জ্বললে বাতাস গরম হওয়াই স্বাভাবিক। এই বাতাস বের করে দেওয়ার জন্য এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় রান্নাঘরে বাইরের বাতাস চলাচল করার ব্যবস্থা রাখলে। এতে রান্নাঘরের বিষাক্ত গ্যাসের সঙ্গে গুমট ভাবটাও আর থাকবে না। রান্নাঘর স্যাঁতসেঁতেও হবে না।

রান্নার জন্য গ্যাসের চুলা ব্যবহার করেন সবাই। বাজারে বিভিন্ন মানের ও দামের চুলা কিনতে পাওয়া যায়। একটু সাশ্রয়ের জন্য হয়তো অনেকে কম দামি চুলা কেনেন। এটা থেকে বিরত থাকুন। অর্থের চেয়ে জীবন অনেক বড়। কম দামি চুলায় অনেক সময় গ্যাস লিক করে। ভেতরের বার্নারে গ্যাস জমে থাকে। এটা থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। বাজারে এখন নিরাপদ গ্যাসের চুলা কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোর সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন জ্বালানোর সুইচ যুক্ত থাকে। অনেক সময় বাসায় এলপিজি গ্যাস পাওয়া যায় না। এ জন্য অনেকেই এনজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। দুই ধরনের গ্যাস ব্যবহারের সময় দুই ধরনের চুলা ব্যবহার করা উচিত। বাজারে এলপিজিপি ও এনজি গ্যাসের জন্য আলাদা আলাদা গ্যাসের চুলা কিনতে পাওয়া যায়। রান্নাঘরের দেয়াল থেকে কমপক্ষে আট ইঞ্চি দূরে চুলা সেট করা উচিত। তাহলে দেয়ালের ক্ষতি হবে না। গ্যাস সিলিন্ডারও চুলা থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে খাড়া করে রাখতে হবে। শুইয়ে বা কাত করে রাখা যাবে না। চুলার সুইচ অন করে রেখে দিয়াশলাই খুঁজতে যাবেন না। এতে করে গ্যাস রান্নাঘরের বাতাসে মিশে যাবে। এ অবস্থায় আগুন জ্বালালে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। ব্যবহার শেষে চুলার সুইচটি অবশ্যই ভালো করে বন্ধ করে দিন। একই সঙ্গে চুলায় গ্যাস আসার মূল লাইনের সুইচটির নব ঘুরিয়ে বন্ধ করে দিন।

রান্নাঘরে কাজের ধরন এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়টিও কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। কাটাকুটির ছুরি, কাঁচি, বঁটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। যত্রতত্র ফেলে রাখলে দুর্ঘটনা ঘটবেই। এগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে রাখার জন্য দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের র্যাক পাওয়া যায়। এমন র্যাক ব্যবহারে ছুরি, চাকু যেমন গুছিয়ে থাকবে, তেমনি যখন-তখন পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার ভয়ও থাকবে না। কাচের জিনিসপত্রও এলোমেলোভাবে রান্নাঘরে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। কাচের বাসন হাত থেকে পড়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। কাচের জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখার জন্যও বিশেষ ডিজাইনের র্যাক কিনতে পাবেন। এতে রান্নাঘর যেমন সুন্দর দেখাবে, তেমনি দুর্ঘটনাও ঘটবে না। রান্নাঘরের সব উপকরণ ও যন্ত্রপাতি হাতের নাগালে রাখুন। যেন ব্যবহারের সময় ভোগান্তি না হয়। মাইক্রোওয়েভ এমন উঁচুতে রাখবেন না যাতে নাগাল পেতে অসুবিধা হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাও রান্নাঘরের নিরাপত্তার অংশ। বেসিনে কোনো কারণে পানি আটকে গেলে দীর্ঘ সময় জমিয়ে রাখবেন না। বেসিনের পাশে এবং পানির কাজের জায়গায় ফ্লোরে স্লিপ প্রতিরোধী ম্যাট ব্যবহার করুন। রান্নাঘরে কাটাকুটি ও রান্না শেষে অবশ্যই সব কিছু ধুয়ে-মুছে গুছিয়ে রাখুন। দিনের ময়লা দিনেই ফেলে দিন, ডাস্টবিনে জমিয়ে রাখবেন না। কিচেনের ওয়াল কেবিনেটসহ সব ড্রয়ার মাসে দুইবার পরিষ্কার করে নিন। রান্নাঘরের ফ্লোর সপ্তাহে একবার জীবাণুনাশক তরল দিয়ে ধুয়ে-মুছে নিন। রান্নাঘরে কাজের সুবিধার্থে অনেকেই এখন কাটিং বোর্ড, গ্লাভস ইত্যাদি ব্যবহার করেন। পরিষ্কার রাখার সুবিধার জন্য প্লাস্টিকের বোর্ড ব্যবহার করেন কেউ কেউ। ব্যবহারের পর ভালো করে পরিষ্কার না করলে কিছুদিন পরই এর খাঁজে খাঁজে জীবাণু জন্ম নেয়। রাবারের কাটিং বোর্ড ব্যবহার করতে পারেন। এ জাতীয় বোর্ডে জীবাণু সংক্রমণ কম হয়। আলসেমি করে রান্না ও খাওয়া শেষে বাসনকোসন অপরিষ্কারভাবে রেখে দেবেন না। এতে রোগজীবাণুর সংক্রমণ হয়। আগে থেকেই রান্নাঘরে ফায়ার অ্যালার্ম ও আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা