kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রূপচর্চা

হাতের যত্ন

যাঁদের হাতে লোম বেশি তাঁরা হাতের যত্নে কী করবেন—জানিয়েছেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। লিখেছেন মোনালিসা মেহরিন

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতের যত্ন

মডেল : পারিশা; ছবি : কাকলী প্রধান

হাতে ও আঙুলের গিঁটে গজিয়ে ওঠা লোমের আধিক্য নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন অনেকেই। এমন লোম গজানোর পেছনে কোনো অযত্ন বা অবহেলা দায়ী নয়। আমাদের শরীরের একধরনের হরমোনের কারণেই হাতে এবং আঙুলের গিঁটে লোমের তারতম্য দেখা যায়। এসব লোম দূর করার স্বাস্থ্যগত কোনো উপকারিতা না থাকলেও সৌন্দর্যের বেলায় অনেকেই ছাড় দিতে নারাজ।

হাতের বাহু ও আঙুলের গিঁটের লোম থেকে তাতক্ষণিক মুক্তি পেতে চাইলে শেভ করে ফেলতে পারেন। এ জন্য হাতে ও আঙুলে সামান্য শেভিং ক্রিম অথবা শেভিং জেল লাগিয়ে ফেনা করে নিন। কিছুক্ষণ পর রেজর দিয়ে শেভ করে ফেলুন। এ পদ্ধতিতে সাময়িক মুক্তি পাবেন। দীর্ঘমেয়াদি সমাধান চাইলে একেবারে লোমহীন ব্যবস্থার দ্বারস্থ হতে পারেন। বাজারে এখন অবাঞ্ছিত লোম দূর করার জন্য নানা রকম রাসায়নিক ক্রিম কিনতে পাওয়া যায়। এগুলোর ব্যবহারে এক থেকে দুই সপ্তাহের জন্য লোম দূর হয়। এই ক্রিম কয়েক মিনিট ত্বকে লাগানোর পর এমনিতেই লোম উঠে আসে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এই পদ্ধতিতে লোম দূর করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, র‍্যাশসহ অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

এসব ছাড়াও ওয়াক্সিং করতে পারেন। শরীরের যেকোনো অবাঞ্ছিত লোম দূর করতে ওয়াক্সিং এখন অনেক জনপ্রিয়। ওয়াক্সিংয়ের ফলে লোম সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়। ভালো কোনো স্পা কিংবা পার্লারে গিয়ে ওয়াক্সিং করাতে হবে। শুধু প্রতিষ্ঠান ভালো হলেই চলবে না, যিনি ওয়াক্সিং করবেন তাঁকেও প্রফেশনাল হতে হবে। চাইলে বাড়িতে বসেও নিজে নিজে ওয়াক্সিং করতে পারেন। দোকানে ওয়াক্সিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পাওয়া যায়। তবে অভিজ্ঞতা আছে এমন কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে ওয়াক্স করানো ভালো।

 

ওয়াক্সিংয়ের আগে খেয়াল রাখুন—

♦   ওয়াক্সিং করানোর কমপক্ষে পাঁচ দিন আগে থেকে অন্য কোনো রাসায়নিকযুক্ত উপাদান ত্বকে লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

♦  ওয়াক্সিংয়ের আগে ভালো করে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

♦  প্যাকেটের গায়ের নির্দেশনা ভালো করে পড়ে বুঝে নিতে হবে।

♦  ব্যবহারের আগে ওয়াক্সের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিতে হবে। ওয়াক্স এমন তাপমাত্রার হতে হবে, যাতে সহজে ত্বকে ছড়িয়ে যায়। আবার এমন তাপমাত্রার হওয়া যাবে না, যাতে ত্বক পুড়ে যায়।

♦  ওয়াক্সিংয়ের জায়গায় কাপড়টি ভালো করে রেখে দিতে হবে। একটু পর নিচের দিকে সামান্য চাপ দিয়ে কাপড়টি ধীরে ধীরে তুলে আনতে হবে।

এখন লেজার চিকিত্সাও লোম দূর করতে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। হাতে ও আঙুলে যদি ঘন লোম থাকে এবং ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয়, তবে লেজার চিকিৎসা করানো ভালো। লেজার চিকিৎসা একটু ব্যয়বহুল হলেও এটা ভালো ফল দেয়। লেজার চিকিত্সায় কয়েকটি সেশনের মাধ্যমে হাত ও আঙুলের গিঁটের লোম পুরোপুরি দূর করা সম্ভব। প্রতিবার লোম দূর করার পর নিয়মিত হাতে লোশন মাখতে হবে। ভালো ব্র্যান্ডের লোশন বেছে নিন। সকালে গোসলের পর হাতে ও পুরো শরীরে লোশন মাখতে পারেন। বাইরে থেকে ফিরে হাত-মুখ ধুয়ে একইভাবে আবার ত্বকে লোশন লাগান। ত্বক হবে নরম, কোমল ও মোলায়েম।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা