kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাজের মানুষ

পাল্টে গেল কাজের ধরন

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাল্টে গেল কাজের ধরন

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

কর্মজীবনে একের পর এক কাজের ধরন পাল্টে যেতে পারে। শিক্ষানবিশ থেকে স্থায়ী, তারপর পদোন্নতি বা বিভাগ পরিবর্তন। কিংবা ব্যবস্থাপক হওয়ার আগের দিনগুলোতে আপনি শুধু নীতি অনুসরণ করেই এসেছেন। এবার আপনি ব্যবস্থাপক, নীতিনির্ধারণের অংশ। সুতরাং কাজের ধরন তো পাল্টাতেই হবে।

একটি গাধা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মনিবের ইচ্ছামতো খেটে মরে। দিনশেষে যে খাবার তাকে খেতে দেওয়া হয় তাই তার ধরাবাঁধা খাদ্য। একটি বাঘ তার খাদ্য নির্বাচনের স্বাধীনতা ভোগ করে। দিনের বেশির ভাগ সময় ব্যয় হয় নিবিড় পরিকল্পনায়। খাদ্য সংগ্রহের কাজটি সম্পন্ন হয় খুবই অল্প সময়ে। কাজ তো সবাই-ই করে। কিন্তু আপনার কাজের ধরন আপনি নির্ধারণ করেন কি?

শক্তি খাটিয়ে কাজ না করে বুদ্ধি খাটিয়ে করুন। ভালো ব্যবস্থাপক হতে গেলে যে ১০টি কাজ না করা ভালো :

এক.

অধস্তনদের কাজ করতে গিয়ে অফিসে এখন থেকে গাধার মতো খাটুনি বন্ধ করুন। আপনাকে খাটার জন্য রাখা হয়নি। আপনার দলকে পরিচালনা করুন। কাজ করানোই আপনার কাজ এখন। আপনার নিজের কাজের সীমানা সম্পর্কে অসচেতন হলে চলবে না।

 

দুই.

গুরুত্বপূর্ণ কাজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (ব্যতিক্রম উদ্দেশ্য না থাকলে) কখনো দলের অধস্তনদের হাতে ছাড়বেন না। গণতান্ত্রিকভাবে সবার মতামত নেবেন কিন্তু সিদ্ধান্ত আপনার। দলের ওপর এই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় আপনার ব্যক্তিত্বের ভূমিকা বিশাল। দলের সদস্যদের সঙ্গে খুব কাছ থেকে মিশুন কিন্তু আপনার অবস্থানের দূরত্ব বজায় রাখতে ভুলবেন না। আপনার কাজ আর বক্তব্যই এই অবস্থান বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যেমন—আলাপ করতে করতে আপনার দলের কেউ যদি অন্য দলের কারো সমালোচনা করে, উৎসাহ দেবেন না। তেমনি আপনিও তাদের সামনে আপনার অন্য সহকর্মীর সমালোচনা থেকে বিরত থাকুন।

 

তিন.

সিদ্ধান্ত যখন আপনার, তার ব্যর্থতার দায়ভারও আপনার। ব্যর্থতার দায় কখনো আপনার দলের অধস্তনের ওপর চাপাবেন না। কিন্তু সফল হলে তার কৃতিত্ব আবার একা নেবেন না, কৃতিত্ব দলের সবার।

 

চার.

আপনি একজন ভালো ব্যবস্থাপক ও নেতা। তাই তিনটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, কাজ সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও দায়িত্বপরায়ণতা।

 

পাঁচ.

কখনো মনে করবেন না যে আপনিই সব জানেন। তার মানে এই নয়, আপনার দলের কাছে তুলে ধরবেন যে আপনি কিছুই জানেন না। জানার আগ্রহ হারালে চলবে না, আবার দলের কাছে আস্থা হারালেও চলবে না। তাই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিন।

 

ছয়.

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারা কোনো ভালো গুণ নয়; যদি সে সিদ্ধান্তের ফল ইতিবাচক না হয়। সুতরাং হুটহাট সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয়। সময় নিন, যাতে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে না হয়। এতে দল ও প্রতিষ্ঠান আপনার ওপর আস্থা হারাবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত ভুল হলে তা পরিবর্তনে বিলম্ব করবেন না।

 

সাত.

আপনি নিজেই একজন চলমান উদাহরণ। আপনার কথা ও কাজের সঙ্গে মিল থাকা চাই। যে আইন সবাইকে মেনে চলতে বলেন, সে আইন আপনি নিজেই ভাঙতে পারেন না। মনে রাখবেন, আপনার অনুসারীরা আপনাকে অনুসরণ করেই চলেছে।

 

আট.

দুর্যোগ মোকাবেলা করতে ঘাবড়ে গেলেও কোনোভাবেই দলকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। আপনি ব্যবস্থাপক, আপনি একটি দলের অভিভাবক। আপনার আচরণ তেমনটি হওয়া চাই। এতে প্রতিষ্ঠানও আপনার ওপর ভরসা করতে পারবে।

 

নয়.

প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আপনার বিভাগের মধ্যে আপনি একজন সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। সব ক্ষেত্রে সরল-সহজ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। প্রতিটি অবস্থায় আপনার ভূমিকা সম্পর্কে আগে সচেতন হোন। তারপর যা প্রয়োজন করুন। ফলে চোখ-কান বন্ধ করে পথচলা যাবে না। কৌশল না বুঝলেই বিপদ।

 

দশ.

অফিস রাজনীতি সম্পর্কে অজ্ঞ হওয়া যাবে না। আপনার চারপাশে যাদের দেখতে পাচ্ছেন, তারা সবাই আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী নন। সতর্ক হোন। কাউকে ফাঁদে ফেলার দরকার নেই। কিন্তু ফাঁদ থেকে বাঁচার কৌশল আপনাকে জানতেই হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা