kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আপনার শিশু

যমজের দেখভাল

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যমজের দেখভাল

আদি ও আবি

শিশু যমজ হলে তাদের চাই আলাদা যত্ন। যমজ শিশুর দেখভাল কিভাবে করতে হবে তা নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বারডেম হাসপাতালের নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিমা আহমেদ। শুনেছেন এ এস এম সাদ

ওজনে তারতম্য

অনেক সময় যমজ শিশু গর্ভে থাকাবস্থায় শরীরে সমানভাবে রক্ত আসে না। ফলে জন্মের পর শিশুর ওজন কমে যেতে পারে। তাই দুজনের ওজন মেপে বুঝতে হবে যে বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ওজন ঠিক আছে কি না। যদি না থাকে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত দিতে হবে। কোনো শিশুর শরীরে রক্তের পরিমাণ বেশি থাকলে অনেক সময় হার্ট বড় হতে পারে ও রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য জন্ডিস ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এগুলো একটু খেয়াল রাখতে হবে। জন্মকালীন ন্যূনতম স্বাভাবিক ওজন হলো ২.৫ কেজি বা ২৫০০ গ্রাম।

 

নিয়মিত বুকের দুধপান 

শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। আমাদের দেশে শিশুর মায়েরা ভেবে থাকেন তাঁদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই। কিন্তু একজন মায়ের বুকে তিনটি বাচ্চাকে খাওয়ানোর মতো দুধ থাকে। এটা আসলে চর্চার বিষয়। আড়াই ঘণ্টা পর পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। বুকের দুই স্তনের দুধই খাওয়াতে হবে। মানসিকভাবে দৃঢ় মায়ের পক্ষে দুটি সন্তানকেই বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব। সে ক্ষেত্রে একবারে একটি সন্তানকে এক পাশের স্তন থেকে খাইয়ে পরে অন্য পাশের স্তন থেকে অন্য শিশুকে খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া সঠিক নিয়মে স্তন ধরা, বুকে শিশুর মুখ লাগানোসহ নানা পদ্ধতিতে যমজ সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো যায়। এ জন্য মাকে প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর সময় প্রায় এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হবে। দিনের অনেকটা সময় এতে ব্যয় হয় বলে সাংসারিক অন্য কাজে তাঁর সহায়তাকারী প্রয়োজন। তাঁর জন্য পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।

ঘুমের সময়

যমজ বাচ্চা হলেই যে দুজনে একসঙ্গে সব কিছু করবে, এমন ভাবার কারণ নেই। হয়তো একজন ঘুমাল, অন্য শিশুটি হাত-পা মেলে খেলা করতে পারে। তাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য জোর করা চলবে না। তাকে সময় দিন, প্রয়োজনে কোলে করে

একটু হাঁটুন। খেয়াল রাখবেন এতে যেন অন্য শিশুটির ঘুম

ভেঙে না যায়।

 

আলাদা বিছানা

এক শিশুর কোনো কারণে অসুখ হলে অন্যজনের মধ্যেও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশু কোনো রোগে আক্রান্ত হলে অনেক সময় শুরুতে বোঝা যায় না। সে জন্য দুটি আলাদা বিছানা করা উচিত।

 

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা

নতুন শিশু পরিবারে এলে অনেক শুভার্থী তাদের দেখতে আসেন। এই সময় শিশুদের পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখুন। বাইরে থেকে এলে হাতে অনেক সময় জীবাণু থাকতে পারে। আর যেহেতু শিশুরা খুব অল্পতেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়, তাই শুভার্থী চলে গেলে দ্রুত তোয়ালে বদলে ফেলুন।

 

সুস্থ থাকতে হবে মা-বাবাকেও

শিশুর সুস্থতার জন্য মা-বাবা দুজনেরই সুস্থ থাকা দরকার। মা-বাবার পর্যাপ্ত খাওয়া ও বিশ্রাম প্রয়োজন। যেখানে একটি শিশুর দেখভাল করাই অনেক শ্রমসাধ্য, সেখানে যমজের যত্ন নিতে সন্তানের বাবার সহযোগিতা অপরিহার্য।  

 

মা-বাবা চাকরিজীবী

দুজনই চাকরিজীবী হলে সারা দিন শিশুর যত্ন নিতে পারেন না মা-বাবা। বাসার অন্যরা সারা দিন দেখভাল করতে গেলে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন। সম্ভব হলে ট্রেইন্ড নার্স রেখে দিতে পারেন শিশুর দেখভালের জন্য। তবে এ ক্ষেত্রে নার্সের পরিচয়পত্র ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে তাঁকে নিয়োগ দিন।

 

শিশুর খাবার

শিশুর ছয় মাস বয়সের পর যখন শিশুকে বুকের দুধের বাইরে অন্য খাবার দেওয়া শুরু করবেন তখন দু-তিন ঘণ্টা পর পর খাবার দিন। দুজনই সমপরিমাণে খাবার খাবে না—এটাই স্বাভাবিক। বকাঝকা করবেন না। দরকারে প্রয়োজনমতো খাবারের মেন্যু বদলে দিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা