kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিউট্রিশন চার্ট বুঝে

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউট্রিশন চার্ট বুঝে

প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে থাকে নিউট্রিশন চার্ট। তাতে লেখা থাকে খাবারের পুষ্টিমান এবং দৈনিক কী পরিমাণ আপনি গ্রহণ করতে পারবেন। কোন খাবারের কী পুষ্টি আছে তা বুঝে পণ্য কেনাই ভালো। তা না হলে হতে পারে বিপত্তি। ভুল পণ্য কিনে হতে পারেন অসুস্থ। নিউট্রিশন চার্ট বুঝতে পরামর্শ দিয়েছেন  সিকদার মেডিক্যাল কলেজের প্রধান পুষ্টিবিদ আশফি মোহাম্মদ। জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

নিউট্রিশন চার্টের ওপরে লেখা থাকে ঠিক কত পরিমাণের অনুপাতে সেটি নির্ধারিত হচ্ছে। পণ্যের প্যাকেটটি হয়তো এক কেজি, কিন্তু প্রতি ১০০ গ্রামের অনুপাতে হয়তো নিউট্রিশন চার্ট দেওয়া। অর্থাৎ আপনি যদি ভুলে পুরো প্যাকেট অনুপাতে চিন্তা করেন, তাহলে ১০ গুণ বাড়িয়ে হিসাব করছেন।

কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো শরীরের জন্য উপকারী। এসব উপদান পণ্যে যত বেশি থাকে, ততই ভালো, যেমন—ফাইবার, ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। আর কিছু উপাদান খাবারে যত কম থাকে ততই ভালো, যেমন—ফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রান্স ফ্যাট, সোডিয়াম ও কোলেস্টেরল। নিউট্রিশন চার্ট দেখে এসব উপাদান দেখে পণ্য কিনুন।

 

ক্যালরি

ক্যালরির মাধ্যমে খাদ্যে কতটুকু এনার্জি আছে তা বোঝানো হয়। ক্যালরি খরচ বা বার্ন না করলে সেটি ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। তাই ক্যালরিসম্পন্ন খাবার যেমন দরকার, তেমনি বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে মেদও হতে পারে।

 

টোটাল ফ্যাট

প্রতি ১ গ্রাম ফ্যাটে ৯ ক্যালরি পাওয়া যায়। একজন স্বাভাবিক মানুষ দৈনিক ক্যালরির পরিমাণের ৩০ শতাংশ বা তার কম ফ্যাট নিতে পারেন। অর্থাৎ ২৪০০ ক্যালরি সমান ৮০ গ্রাম ফ্যাট বা তার কম। তবে কিছু জিনিস যেমন মাছের ক্ষেত্রে এটি ভিন্ন। কারণ এতে গুড ফ্যাট থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি ফ্যাট বেশি খেলেও শরীরে সমস্যা হবে না।

 

স্যাচুরেটেড ফ্যাট

মাখন, ক্রিম, দুধ কিংবা দুগ্ধজাত খাবারে এটি পাওয়া যায়। এটি দিনে ২০ গ্রামের বেশি না খাওয়াই ভালো। অনেকেই দুগ্ধজাত খাবার দেখে বেশি পুষ্টিকর ভেবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে নেন। বাজারে পণ্য কেনার সময় খেয়াল রাখুন এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম কি না।

 

কোলেস্টেরল

বিভিন্ন পশুর চর্বিতে থাকে কোলেস্টেরল। আমাদের রক্তেও প্রাকৃতিকভাবেই কোলেস্টেরল থাকে। কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খেলে তা আমাদের দেহ ভাঙতে পারে না। দেহে সাধারণত দুই ধরনের কোলেস্টেরল থাকে। তার মধ্যে একটি বেশি ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন। এটি হার্ট অ্যাটাক থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়। তাই খাদ্যে কোন কোলেস্টেরল কী পরিমাণে রয়েছে বুঝে-শুনে, বেছে নিন।

 

সোডিয়াম 

প্রাকৃতিক খনিজ উপাদানে যেমন লবণে সোডিয়াম থাকে। দিনে ২৩০০ মিলিগ্রাম বা ১ চামচের বেশি না খাওয়াই ভালো। এটি আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

 

টোটাল কার্বোহাইড্রেট

পণ্যে কী পরিমাণ শর্করাজাতীয় খাদ্য উপাদান রয়েছে তা এর মাধ্যমে বোঝানো হয়। শর্করাকে আমাদের দেহের শক্তির উৎস বলা হয়ে থাকে। তাই এই উপাদান বেশি থাকাটা মন্দ নয়।

 

ডায়েট্রি ফাইবার

শস্য, ওটস, ব্রান, গমের আটা, ফল ও শাকসবজিতে ডায়েট্রি ফাইবার পাওয়া যায়। এটি কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। দিনে ২৫ গ্রাম ডায়েট্রি ফাইবার শরীরের জন্য উপকারী। তাই পণ্যে ডায়েট্রি ফাইবার বেশি থাকলে ভালো।

 

প্রোটিন

প্রাকৃতিক অ্যামিনো এসিড যৌগ থেকে প্রোটিন তৈরি হয়। সাধারণ মাছ-মাংস-ডিমে এটি থাকে। ১ গ্রাম প্রোটিনে ৪ ক্যালরি থাকে। প্রতি কেজির ওজনের জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রায় ০.৮ গ্রাম প্রোটিন দরকার। অর্থাৎ একজন ৫০ কেজির মানুষের দৈনিক ৪০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।

 

ডেইলি ভ্যালু

প্রতিটি খাবার আপনি দৈনিক কতটুকু খেতে পারবেন সেটি ইংরেজি অক্ষরে ডিভি দিয়ে বোঝানো হয়। এর মাধ্যমে দৈনিক কত শতাংশ বা কী পরিমাণ আপনার দেহের জন্য আদর্শ তা বোঝানো হয়। কিছু পণ্যে ডেইলি ভ্যালু এমনভাবে দেওয়া হয়, যাতে বোঝা যায় সেটি আপনার দৈনিক চাহিদার কতটুকু পূরণ করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা