kalerkantho

অন্য কোনোখানে

ম্যাজিক প্যারাডাইজে একদিন

বি এম শাকিল   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ম্যাজিক

প্যারাডাইজে

একদিন

 

নিজের জেলা কুমিল্লায় ম্যাজিক প্যারাডাইজ। কত দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে ঘুরে যায়; অথচ আমাদের কিনা এখনো যাওয়াই হলো না! এবার তাই সীতাকুণ্ড ট্যুর বাতিল করে আমরা সেখানেই যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে রানা, রাসেল, সোহেল, মাহবুব, জুয়েল সবাইকে জানানো হলো। অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের সার্কেলটা বড় হয়ে গেল। সবাই মিলে সকাল ৮টায় বেরিয়ে পড়লাম। ঢাকা টু চট্টগ্রাম বাসে চেপে নেমে পড়লাম কোটবাড়ী বিশ্বরোডে। সেখান থেকে আরেক সঙ্গী জুয়েল যুক্ত হলো। তারপর সিএনজি করে কোটবাড়ী। সেখান থেকে হেলাল ভাই যোগ দিলেন। তারপর আটজন অটো রিজার্ভ করে সোজা চলে যাই ম্যাজিক প্যারাডাইজের গেটে। নেমেই কিঞ্চিৎ বিস্মিত হলাম! মনে হচ্ছিল এ যেন আরেক ডিজনিল্যান্ড। কংক্রিটে সাজানো এক বিশাল গেট। সত্যিই দৃষ্টিনন্দন। নাগরদোলা আর তার সামনের অসাধারণ সৌন্দর্যের মিলনে চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য। দেখেই ভেতরে যাওয়ার জন্য মন ছটফট করছিল।

দ্রুত টিকিট কাউন্টারে হাজির হই। বিস্তারিত শুনে মনে হলো প্যাকেজ নেওয়াটাই ভালো। তাতে ৩০০ টাকা সাশ্রয় হয়। এই প্যাকেজে আমরা ৫০০ টাকায় পাব এন্ট্রি পাসসহ যেকোনো তিনটি রাইডের সঙ্গে ওয়াটার পুলে নেমে ঝাঁপাঝাঁপির সুযোগ। তাই প্যাকেজই বেছে নিই সবাই।

ভেতরে প্রবেশ করে প্রথমে চড়লাম নাগরদোলায়। ওপর থেকে সম্পূর্ণ পার্কটি দেখার সুযোগ পাওয়া যায় নাগরদোলায় উঠে। নাগরদোলা এতটাই উঁচু যে আশপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়গুলোও দেখা যায়। নাগরদোলা শেষ করে সামনে এগোতেই দেখি একজন ম্যাজিশিয়ান ম্যাজিক দেখাচ্ছেন। মুফতে ম্যাজিক দেখার সুযোগ কে হারাতে চায়। বেশ আগ্রহ নিয়ে পালক দিয়ে বানানো ফুলকে একটা কাগজের ভেতর ঢুকিয়ে বিভিন্ন কালার করা দেখলাম। কতগুলো সাদা কাগজকে টাকাও বানিয়ে ফেললেন জাদুকর। এরপর তো আস্ত কয়েকটি দিয়াশলাই শূন্যে ভাসিয়ে দেখালেন। এই না হলে ম্যাজিক প্যারাডাইজ! জাদুর জগৎ শেষে আরেকটু সামনে এগোতেই বিশাল এক ডায়নোসরের সঙ্গে দেখা। যেন ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। সেটি দেখতে দেখতে পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরে উঠছি। হঠাৎ সবার চোখ কপালে ওঠার জোগার। এ তো দেখছি জীবন্ত ডায়নোসর! মাথাটা উঁচু করে চারপাশে একবার নজর বুলিয়েই ভয়ানক শব্দ করে উঠল। নড়াচড়া আর শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল সত্যিই প্রাগৈতিহাসিক কোনো যুগে চলে আসছি। ডায়নোসরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চললাম ট্রেনে চড়তে। এক রাউন্ডের সাজানো ছিমছাম ছোট্ট রেল স্টেশন। ট্রেনে চেপে সরু একটা টানেল অতিক্রম করার পর দেখি বাঘের মুখ দিয়ে বেরিয়েছি। তাহলে কী এতক্ষণ বাঘের পেটে ছিলাম!

ট্রেনে চড়া শেষে দেখি আরেকটি রাইডের টিকিট তখনো রয়ে গেছে। এটা কাজে লাগাতে সবাই রোলার কোস্টারে চড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সে এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা। মুহূর্তের কিছু সময়কেই মনে হচ্ছিল কয়েক বছর। সব রাইডে চড়া শেষে সময় তখন দুইটা ছুঁই ছুঁই। সবাই ক্ষুধায় কাতর। এরপর পানিতে নামব, ঝাঁপাঝাঁপি করব; একটু তো এনার্জির দরকার। সবাই মিলে ভেতরের একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। খাওয়া শেষে নেমে পড়লাম ওয়াটার পুলে। কৃত্রিম ঢেউ আর মিউজিকের তালে তালে উত্তাল নৃত্যে মেতে উঠলাম। বেশ উপভোগ্য ছিল ওয়াটারপুল পর্ব। ওয়াটার পুল তিন ভাগে বিভক্ত। একটি বাচ্চাদের জন্য। বাকি দুটো বড়দের। তবে ইচ্ছা করলে সবাই সবখানে উপভোগ করতে পারে। ওয়াটার পুলের সঙ্গেই স্লিপার। সবাই মহানন্দে স্লিপারে চড়ছে। হঠাৎ এক কিশোর প্রায় শেষ প্রান্তে এসে স্লো হয়ে গেল। তার পেছনে আসা ছেলেটি এসে ধাক্কা মারল তাকে। এ নিয়ে দুজনের বেশ রাগারাগি। সেই সময়ই অন্য একজন একই স্লিপার লেনেই চরম গতিতে এগিয়ে আসছে। ঝগড়ারত দুই কিশোর সেটা দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই সংঘর্ষ এড়াতে ঝাঁপিয়ে পড়ল পানিতে। বুঝলাম স্লিপারে একজন সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্যজন একই লেনে না চড়াই ভালো। কোনো কারণে তিনি যদি মাঝখানে আটকে যান, তখন পেছন থেকে আরেকজনের চরম গতি দুজনের মধ্যে ধাক্কায় ভয়ানক কিছু ঘটিয়ে দিতে পারে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডগামী বাসে উঠে কোটবাড়ী বিশ্বরোড নামতে হবে। সেখান থেকে অটো কিংবা সিএনজি রিজার্ভ করে সরাসরি ম্যাজিক প্যারাডাইজে যাওয়া যায়। অথবা ভেঙে ভেঙে গেলে প্রথমে কোটবাড়ী যেতে হবে। তারপর ম্যাজিক প্যারাডাইজ।

 

মন্তব্য