kalerkantho

জীবনে যোগ

নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামে শুধু সুস্থ থাকে শরীর। অন্যদিকে যোগব্যায়ামে শরীর ও মনের শান্তি মেলে। দৈনন্দিন এই ব্যায়ামে জীবনে যোগ হয় সুস্থতা, মন হয় প্রফুল্ল। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এভারগ্রিন ইয়োগার নির্দেশক বাপ্পা শান্তনু

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবনে যোগ

মডেল : শামা ও বাপ্পা, ছবি : মঞ্জু আলম, সাজ : শোভন মেকওভার

যোগ ব্যায়াম কী

যোগশাস্ত্রে মানবদেহ বলতে শরীর, মন ও আত্মাকে বোঝানো হয়। এই তিনের মেলবন্ধন সৃষ্টি করে যোগ ব্যায়াম। আমাদের দেহের পঞ্চ ইন্দ্রিয় বলা হয় চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বককে। এর বাইরে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় হলো মস্তিষ্ক। পঞ্চ ইন্দ্রিয় থেকে পাওয়া অনুভূতি আসে যষ্ঠ ইন্দ্রিয়তে, যাকে আমরা মন বলি। মন সব সময় বহির্মুখী। সে বাইরের জগৎ সম্পর্কে নতুন তথ্য জানতে আগ্রহী। কিন্তু শরীরের ভেতরের বিভিন্ন সংকেত ও অনুভূতি নিয়ে তার আগ্রহ কম কিংবা বুঝতে পারে না। এর কারণে মানুষ তার ভেতরের চেয়ে বাহ্যিক বিষয় নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। দেহের পাশাপাশি আত্মা নামে পৃথক সত্তার উপলব্ধির জন্য প্রয়োজন যোগ ব্যায়াম। এই ব্যায়াম অসুস্থকে রোগমুক্ত করে। সুস্থরাও শরীর ও মনে তরতাজা থাকে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মন শান্ত হয়। যেকোনো অবস্থায় দেহ ও মন সমানতালে সাড়া দেয়।

কেন করবেন

খেলাধুলা কিংবা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করলে বিভিন্ন মাংসপেশির ব্যায়াম হয়। কিন্তু মনেরও যে অনুশীলন দরকার, সেটা আমরা কখনো উপলব্ধি করি না। দেহ, মন ও আত্মাকে একীভূত করে যোগ ব্যায়াম। এই ব্যায়ামের মাধ্যমে মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত সব কিছুর ব্যায়াম হয়। এর প্রধান কাজ দেহ ও মনকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করা এবং যেকোনো প্রয়োজনে শরীর ও মনকে একসঙ্গে কাজে লাগানো।

কোন রোগে কী আসন

শীর্ষাসন

আসনের রাজা বলা হয় শীর্ষাসনকে। এতে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হয়। ফলে চোখ, কান, নাক ইত্যাদি ভালো থাকে। পিটুইটারি ও পিনিয়াল গ্ল্যান্ড ভালো থাকে। স্মৃতি, মেধা বিকশিত করে। হিস্টিরিয়া, হার্নিয়া ইত্যাদি রোগ দূর করে। অসময়ে চুল পড়া কমায়।

 

চক্রাসন

মাথা ব্যথা, চোখের সমস্যা, স্পন্ডিলাইটিস রোগ ও মহিলাদের গর্ভাশয়ের জটিল সমস্যা দূর করে। পাশাপাশি কোমর যন্ত্রণা ও পিঠের ব্যথা দূর করে।

অনুরাসন

মেরুদণ্ডকে নমনীয় ও সুস্থ রাখে। কোমর যন্ত্রণা ও পেটের রোগে, মেয়েদের মাসিক সমস্যায় এ আসন উপকারী। বিশেষ করে ব্যাকপেইনে এই আসন বেশ কার্যকর। এ ছাড়া এটি কিডনি সুস্থ রাখে এবং প্রস্রাবের সমস্যা দূর করে।

 

অনুলোম বিলোম প্রাণায়াম

বব ধরনের বাত, কফ ও পিত্তের সমস্যা দূর করে। টনসিল, সাইনাস, অ্যাজমাসহ বক্ষব্যাধিতে উপকারী। রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকে। ধমনির ব্লক খুলে যায়, তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য এই আসন উপকারী।

বকাসন

বাহুকে শক্তিশালী করে, ধৈর্য শক্তি বাড়ায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে, চঞ্চল মন শান্ত করে, মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেশনে এই আসন বেশ কার্যকর।

 

উত্থিত পদ্মাসন

পেটের বাড়তি চর্বি কমায়। হাত ও কাঁধের পেশি গঠনে সহায়তা করে। ফলে পেশির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

 

গোমুখাসন

বিভিন্ন ধরনের যৌন রোগ, ডায়াবেটিস এবং স্ত্রীরোগে বিশেষ উপকারী আসন। সন্ধিবাত ও গেঁটেবাত দূর করে।

রাজাকপোতাসন

শরীরের নিচের অংশকে প্রসারিত করে। পেটের ভেতরের অঙ্গগুলোর ম্যাসাজ হয়, ফলে হজম শক্তি বাড়ে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর হয়। পিঠের মাংসপেশি প্রসারিত হয়, ফলে পিঠের বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় উপকারী।

 

ময়ূরাসন

এই আসন লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ক্ষুধা বাড়ায়।

 

কোন বয়সে কী আসন

সাধারণত শিশুরা ছয় বছর থেকেই যোগ ব্যায়াম শুরু করতে পারে। তবে ১০-১২ বছর যোগ ব্যায়াম শুরু করার সঠিক সময় ধরা হয়। এই সময় মানসিক ও দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়। ১২ থেকে ৩০ বছর বয়সী সুস্থ মানুষ যেকোনো আসন করতে পারবেন। এ বয়সে খেয়াল রাখতে হবে শরীরের বিশেষ কোনো অঙ্গের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সে মেরুদণ্ড বা দেহের কোনো সংযোগস্থলে চাপ পড়ে এমন আসন এড়িয়ে যাওয়া নিরাপদ। যেমন—চক্রাসন, চন্দ্রাসন, পূর্ণ-উষ্ট্রাসন, পূর্ণ-ধনুরাসন, বিভক্ত-জানুশিরাসন, দণ্ডায়মান একপদ শিরাসন ইত্যাদি। এই বয়সে পদ্মাসন ও অশ্বিনীমুদ্রা আসন উপকারী।

সতর্কতা

হৃদরোগী, উচ্চ রক্তচাপ এবং কোমর যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিরা শীর্ষাসন আসন করবেন না। যারা কাছের জিনিস দেখতে চশমা ব্যবহার করেন তারা এই আসন করবেন না। সর্দি-কাশি থাকলে এই আসন না করাই ভালো। মাসিক চলাকালীন, গর্ভাবস্থায় কিংবা পেটে কোনো সার্জারি হলে অনুরাসন ও ময়ূরাসন করা যাবে না। অনুলোম-বিলোম প্রাণায়াম ভরাপেটে করবেন না। হাতের হাড় পূর্বে ভাঙা থাকলে বকাসন ও উত্থিত পদ্মাসন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারো সহযোগিতা ও ইয়োগা ম্যাট ছাড়া চক্রাসন না করাই ভালো।

মন্তব্য