kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

কাজের মানুষ

প্রমাণ করুন নিজেকে

সবচেয়ে জরুরি কথা হচ্ছে, বৃক্ষের পরিচয় ফলে। যত পরিকল্পনাই করুন না কেন, যত সুযোগসন্ধানীই হোন না কেন, যদি শেষ পর্যন্ত আপনি অদক্ষই থেকে যান, তাহলে সব বৃথা। কাজ করতে গিয়ে অদক্ষতার পরিচয় দিলে আপনি হেয়প্রতিপন্ন হবেন। সুতরাং নিজেকে আসলেই দক্ষ করে গড়ে তুলুন

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রমাণ করুন নিজেকে

সৈয়দ আখতারুজ্জামান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণের কোনো বিকল্প নেই। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে একজন পেশাজীবীকে অবিরাম যোগ্যতা, দক্ষতা ও কর্মতত্পরতা বাড়াতে হয়। সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, চাহিদারও পরিবর্তন হচ্ছে, পেশাগত দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার পরিবর্তন হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করতে রইল দশ পরামর্শ।

এক.

দক্ষতা প্রমাণের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা জরুরি। নইলে প্রমাণ করবেন কী করে? প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা তো আছেই, এর পাশাপাশি আপনি উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে যেতে পারেন। এই আসল দক্ষতা আপনার আত্মবিশ্বাস এনে দেবে। আর আত্মবিশ্বাসীরা দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ নিজেরাও তৈরি করে নিতে পারে।

 

দুই.

সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ কাজে লাগানোর মানসিকতা থাকতে হবে। সুযোগসন্ধানী হওয়া কোনো নেতিবাচক গুণ নয়। বরং চৌকস হওয়ার পূর্বশর্ত। নিজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য সুযোগের সন্ধান করাও একটা বড় কাজ। নইলে আপনার চেয়ে কম দক্ষ কেউ সুযোগের ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে পারে।

 

তিন.

নিজের দক্ষতা তুলে ধরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন না। মনে রাখবেন, লোকে যারে বড় বলে বড় সে-ই হয়। নিজের ঢোল অন্যেরা পেটানোই ভালো। এমন ব্যবস্থা করুন, যাতে আপনার দক্ষতার কথা অন্যেরা আলোচনা করে। নিজেকে যতটা সম্ভব নীরব রাখুন। শুধু কাজে থাকুন সবচেয়ে সরব, সচল আর ক্ষিপ্র।

 

চার.

এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। হাতের নাগালেই সারা বিশ্ব। ইন্টারনেট ব্যবহার করুন। কী নেই সেখানে? আপনার পেশাসংক্রান্ত অনেক কিছুই খুঁজে পাবেন। শুধু প্রয়োজন আগ্রহ আর পরিশ্রম করার মানসিকতা। দক্ষতা অর্জন করুন এবং লিখুন আপনার দক্ষতা সম্পর্কে। শেয়ার করুন আপনার অভিজ্ঞতা।

 

পাঁচ.

একটু খেয়াল করলেই আপনার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউকে না কাউকে অবশ্যই খুঁজে পাবেন, যারা আপনার পেশা বা পেশাসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে আপনার সমস্যা ও বাধাবিপত্তি নিয়ে আলোচনা করুন। এভাবেও নিজের দুর্বলতা দূর করার সমাধান খুঁজে পেতে পারেন। একই সঙ্গে নিজের দক্ষতাগুলো কাজে লাগিয়ে অন্যের দুর্বলতা দূর করতে পারেন। আর তখনই আপনার দক্ষতার কথা ছড়িয়ে পড়বে।

 

ছয়.

ইতিবাচক মানবিক গুণাবলি দক্ষতা প্রমাণে সাহায্য করে। সহকর্মীদের খোঁজখবর রাখুন। তাঁদের সমস্যার সমাধানে আপনার দক্ষতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন। সব সময় চেষ্টা করুন আপনি তাঁদের কোনো সাহায্যে আসতে পারেন কি না।

 

সাত.

আপনার বস আপনার প্রধান মূল্যায়নকারী। সুতরাং নিজেকে রক্ষা করার জন্য দক্ষতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ রাখতে হবে বসের কাছে। অফিসের সবাই জানে, আপনি কাজে অনেক দক্ষ; কিন্তু বসের দেওয়া কাজে যদি আপনি অদক্ষতার পরিচয় দেন, তাহলে সব কৃতিত্ব বৃথা।

 

আট.

কাজের গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকা করুন। আপনার দক্ষতার যাঁরা মূল্যায়ন করবেন, অর্থাত্ আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া কাজের গুরুত্ব সবার ওপরে। কাজ শেষে চেষ্টা করুন কাজের মূল্যায়ন জেনে নিতে। ভুল থাকলে শুধরে নিন। ভালো হলে কৃতিত্ব আদায়ে বিনয়ের সঙ্গে নিরলস থাকুন।

 

নয়.

সবচেয়ে জরুরি কথা হচ্ছে, বৃক্ষের পরিচয় ফলে। যত পরিকল্পনাই করুন না কেন, যত সুযোগসন্ধানীই হোন না কেন, যদি শেষ পর্যন্ত আপনি অদক্ষই থেকে যান, তাহলে সব বৃথা। কাজ করতে গিয়ে অদক্ষতার পরিচয় দিলে আপনি হেয়প্রতিপন্ন হবেন। সুতরাং নিজেকে প্রকৃত দক্ষ করে গড়ে তুলুন।

 

দশ.

পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। আপনি যদি নিরলস হন আর আপনার মূল্যায়নকারী কর্মকর্তারা যদি পেশাদার হন তাহলে আপনাকে দক্ষতা প্রমাণ করতে কোনো কাঠখড়ই পোড়াতে হবে না। সূর্য উঠলে যেমন সব আলোকিত হয়, আপনার দক্ষতাও তেমনি আলোর মতো ছড়িয়ে পড়বে। প্রমাণ করার জন্য বাড়তি কিছুই করতে হবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা