kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

ইন্টেরিয়র

ঘরের সাজে ঘড়ি

শুধু সময় নয়, ঘড়ি হবে ঘরের সৌন্দর্যেরও নির্দেশক। ঘরের সাদামাটা সাজে আনবে জৌলুস। ঘর সাজাতে ঘড়ির ব্যবহার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন র্যাডিয়্যান্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনের চেয়ারপারসন গুলসান নাসরীন চৌধুরী। লিখেছেন নাঈম সিনহা

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঘরের সাজে ঘড়ি

ঘরের থিম বা আসবাবের সঙ্গে মিল রেখে বেছে নিন ঘড়ি। কিংবা ঘড়িকে থিম ধরেই সাজাতে পারেন পুরো দেয়াল। ঘরের দেয়ালের রং ও আকৃতির বিষয়টিও মাথায় রাখুন। যেমন হালকা রঙের দেয়ালে একই রঙের গাঢ় শেডের ঘড়ি দেখতে ভালো দেখায়। আবার দেয়াল গাঢ় রঙের হলে ঘড়িতে বাছুন হালকা রং। চাইলে দেয়াল আর ঘড়ির রং কনট্রাস্টও হতে পারে। যেমন সাদা দেয়ালে লাল বা নীল রঙের ঘড়ি। সাধারণত বড় দেয়ালে বড় ঘড়ি মানায়। নকশাদার ঘড়ির জন্যও বড় দেয়াল মানানসই। ছোট দেয়ালে ছিমছাম নকশার ছোট ঘড়ি রাখুন। এখন দেয়ালঘড়িতে আছে নানা রং আর বৈচিত্র্যময় আকার ও আকৃতি। সেগুলো সাদা, কালো, সোনালি, রুপালি, তামা প্রভৃতি রঙের। ফুল, মাছ, সাইকেল, কুঁড়েঘর, জাহাজের নোঙর, পশুর মাথাসহ নানা আকৃতির। কিছু ঘড়ি ঘণ্টা অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় ও শ্রুতিমধুর শব্দ করে। আছে পেন্ডুলাম, ঘূর্ণি, মোগল আমলের নকশায় ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, গোলাকার, লম্বাটেসহ নানা আকারের খাঁজকাটা ঘড়ি। এ ছাড়া কাঠ, বাঁশ, স্টিল ও প্লাস্টিকের ঘড়ির প্রচলন বেশি। ঝিনুক ও পাথর বসানো ঘড়িও পাওয়া যাচ্ছে।

এখনকার ফ্ল্যাটে বসার ঘরের দেয়ালগুলো সাধারণত উচ্চতায় ৯ থেকে ১০ ফুট আর চওড়ায় ১২ থেকে ১৪ বা ১৬ ফুট হয়। চওড়ার ওপর ভিত্তি করে ঘড়ির আকৃতি হবে যথাক্রমে ৮ বাই ১৪ ইঞ্চি, ১.৫ বাই ২.৫ ফুট ও ২ বাই ৩ ফুট। ঘরের দেয়ালে এমনভাবে ঘড়ি রাখুন, যাতে সব দিক থেকে দেখা যায়। ঘড়ির দেয়ালটা খালি রাখা উচিত। বেশি আসবাব থাকলে সে দেয়ালে ঘড়ি না লাগানোই ভালো। বসার ঘরে আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে ঘড়ি রাখুন। আসবাব যদি রট আয়রনের হয়, তাহলে কিছুটা মেটাল ফ্রেমের ঘড়ি বেছে নিন। কাঠ বা বেতের আসবাব হলে কাঠের ফ্রেমের ওপর ডিজাইনের বিভিন্ন ঘড়ি লাগাতে পারেন। ঘরের আসবাবে যদি ক্রিস্টাল ভাব থাকে—অর্থাত্ কাচের বড় টেবিল, শোপিস কিংবা ঝোলানো কাচের তাক থাকে, তাহলে ক্রিস্টাল শেপের ঘড়ি বেছে নিন। লিভিংরুম থাকলে দেখা যায়, কিছুটা আরামদায়ক পরিবেশে সবাই টিভি দেখে। থাকে রকিং চেয়ার, সোফা, মোড়া বা বিশ্রামের জায়গা। এসব আসবাব কাঠ বা বেতের হলে কাঠ, বেত বা ফ্লোরাল মোটিফের ঘড়ি ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, দরজার বা টিভির ঠিক বিপরীতে কিংবা ডানে-বাঁয়ের যেকোনো দেয়ালে থাকবে ঘড়ি। খাবার ঘরের ঘড়ির মোটিফে আসতে পারে ফল, সবজি কিংবা চামচ। এসব মোটিফের ঘড়ি বাজারেই কিনতে পাবেন। কিংবা ফ্রুট মোটিফের বড় মেলামাইনের প্লেটে বসিয়ে নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো ঘড়ির ডায়াল।

শোবার ঘরে বিছানা থেকে চোখ পড়ে এমন জায়গায় ঘড়ি লাগান। করিডরের দরজা খুললে প্রথমেই যেখানে চোখ পড়ে, সেখানে ঘড়ি রাখুন। এতে ঘড়ির প্রয়োজন আর সৌন্দর্য দুটিই একসঙ্গে চোখে ধরা দেবে। আর ফাঁকা দেয়াল না পেলে টেবিল ঘড়ি রাখুন। মাস্টার বেডরুমে সাধারণত সমুদ্রের নীল, গোলাপি কিংবা উজ্জ্বল সবুজ রং ব্যবহার হয়। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিন ঘড়ি। দেয়াল নীল হলে বেছে নিতে পারেন সমুদ্রের ছবিসহ ঘড়ি। আবার বিভিন্ন ম্যুরালের মধ্যে ডিজাইন করা ঘড়িও এখানে লাগাতে পারেন। হতে পারে সেটি কোনো যুগলের ম্যুরাল। মনে রাখবেন, এখানে আপনি আপনার রুচির সঙ্গে মিলিয়ে যেকোনো কিছুই রাখতে পারেন। যেটি বসার ঘরের জন্য প্রযোজ্য নয়।

শিশুদের ঘরের জন্য নানা ধরনের কমিক ক্যারেক্টারের ঘড়ি পাওয়া যায়। যেমন— সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, সিনড্রেলা, মিনিয়নস প্রভৃতি। ঘড়িতে লাগিয়ে দিন র্যাডিয়ামের স্টিকার, যা অন্ধকারেও সময় দেখাবে। শিশুদের ঘরে টেবিল ঘড়ি বেশ মানানসই। এখন বাচ্চাদের কম্বাইন্ড ঘড়ি পাওয়া যায়। যেখানে ল্যাম্প, কলম-পেনসিল হোল্ডার, কার্ড হোল্ডারসহ নানা কিছু থাকে। তবে বাচ্চাদের ঘড়ি যেমনই হোক, মনে রাখবেন, সেটি যাতে মেটাল বা মজবুত প্লাস্টিকের হয়। যাতে পড়ে গিয়ে ভেঙে না যায়। আর অবশ্যই ঘড়িটি হতে হবে রংবাহারি।

 

কোথায় পাবেন

দেয়ালঘড়ি কিনতে চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীসহ নিউ মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, পল্টন, গুলিস্তান, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, মতিঝিল, স্টেডিয়াম মার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের আশপাশের দোকানে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত স্কয়ার কিংবা উত্তরার নর্থ টাওয়ারে ঘড়ির শোরুমে পাবেন নানা ধরনের ঘড়ি। এখন বিভিন্ন অনলাইন শপে বিচিত্র ডিজাইনের ঘড়ি পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা