kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

প্লেক্সে ফ্লেক্সিবল চুল

নিয়মিত রং, হিট স্টাইলিং, ব্লিচিংসহ নানা কারণে চুল রুক্ষ হয়ে যায়, চুলের আগা ফেটে যায়। এসব ঝামেলা থেকে রেহাই দিতে নতুন সেবা প্লেক্স ট্রিটমেন্ট। নেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। প্লেক্স ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন শোভন মেকওভারের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্লেক্সে ফ্লেক্সিবল চুল

ছবি : কাকলী প্রধান, মডেল : রিফাত, সাজ : শোভন মেকওভার

একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কর্মরত তাহমিনা রহমান প্রতি মাসেই চুল রাঙাতে ভালোবাসেন। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় থেকেই চুল রাঙানোটা যেন এক রকম নেশায় পরিণত হয়। এখনো ধরে রেখেছেন সেটি। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হরদমই ভিন্ন লুক আনতে চুলে আয়রন করে স্টাইলিশ ভাব আনতে পছন্দ করেন। এসবই যে একদিন চুলের জন্য বিপত্তি হয়ে দেখা দেবে কে জানত। চুল স্বাস্থ্য হারিয়ে নিস্তেজ হতে শুরু করে। আগা ফেটে যায়। ফেটে যাওয়া চুলের আগা এমন সুচালো হয় যে গালে ও ঘাড়ে সুচের মতো বিঁধে। সমস্যার সমাধানে আগেও বেশ কিছু চুলের ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী সমাধান পাননি। শেষমেশ প্লেক্স ট্রিটমেন্টে হারানো চুলের সৌন্দর্য ফিরে পেলেন। বললেন, প্লেক্স ট্রিটমেন্ট একটু বেশি ব্যয়বহুল হলেও চুলের জন্য দারুণ উপকারী। ভালো ফলের জন্য এমন একটু ব্যয় মেনে নেওয়াই যায়।

চুলের চিকিত্সায় প্লেক্স ট্রিটমেন্ট আমাদের দেশে অনেকটাই অপরিচিত। কমসংখ্যক মানুষই এই ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে জানেন। যাঁরা বেশি বেশি চুলে রং করেন, রিবন্ডিং করেন, হেয়ার স্টাইলের জন্য নানা রকম পণ্য ব্যবহার করেন, ব্যস্ততার জন্য চুলে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ঠিকমতো ব্যবহার করেন না, বাসায় পানির সমস্যাসহ নানা কারণে যাদের চুল ড্যামেজ হয়ে যায়, তাদের চুলের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে প্লেক্স ট্রিটমেন্ট করার পরামর্শ দেন বিউটিশিয়ানরা।

প্লেক্স ট্রিটমেন্ট পুরোপুরি নিরাপদ। এতে চুলের কোনো ক্ষতি হয় না। অন্যান্য ট্রিটমেন্টে যেমন ব্লো ড্রাই করার সময় এক ধরনের রাসায়নিক গ্যাস বের হয়। এই গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারসহ নানা রকম রোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এতে যে শুধু সেবাগ্রহীতাই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন তা নয়, যিনি বা যাঁরা সেবাটি দিচ্ছেন, তাঁরাও ঝুঁকির মুখে পড়েন। তবে প্লেক্স ট্রিটমেন্ট প্রদানের সময় ধোঁয়া তৈরিরও ভয় নেই। প্লেক্স পানির মতোই এক ধরনের তরল রাসায়নিক পদার্থ। এটা খালি হাতেই চুলে প্রয়োগ করা যায়। প্লেক্স মাথার ত্বকে লাগলেও কোনো অসুবিধা নেই।

প্লেক্স ট্রিটমেন্ট পুরোটাই একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এর মূল উপাদানের নাম প্লেক্স। ব্র্যান্ড এবং সেবা গ্রাহকের চুল ড্যামেজের হারের ওপর প্লেক্স ট্রিটমেন্টের ব্যয় নির্ভর করে। কারো চুলে প্লেক্স ট্রিটমেন্ট প্রয়োজন মনে করলে হেয়ার এক্সপার্টরাই এই সেবা নিতে বলেন। প্রথমে চুলের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোতে প্লেক্স প্রয়োগ করা হয়। স্প্রের সাহায্যে প্রয়োজনে পুরো চুলেও প্রয়োগ করা হয়। এরপর আরো তিনটি ধাপ শেষে শুরু হয় হেয়ার রিপেয়ারিং মাস্ক ব্যবহার। এরপর কিছুক্ষণ রেখে চুল ধুয়ে ফেলতে হয়।

.

চুলে খুশকি থাকলে প্লেক্স ট্রিটমেন্টের আগে ড্যানড্রাফ ট্রিটমেন্ট করে নিতে হয়। চুলের দৈর্ঘ্য ও ঘনত্বের ওপর নির্ভর করে প্লেক্স ট্রিটমেন্ট করতে দুই থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে। ভালো ফলের জন্য শ্যাম্পুর সঙ্গে কিছু হোম ট্রিটমেন্ট মেনে চলতে হয়। তবে এই ট্রিটমেন্টের পর এক মাস পর্যন্ত অন্য কোনো কেমিক্যাল চুলে ব্যবহার না করাই ভালো। যাদের রঙিন চুল পছন্দ, তারা রঙের মধ্যে প্লেক্স মিক্স করেও এই ট্রিটমেন্ট করতে পারবেন। চুলের সঠিক যত্ন এবং অন্য কোনো সমস্যা না হলে একবার প্লেক্স ট্রিটমেন্টে সারা জীবন সুফল পাওয়া যাবে। ছেলে-মেয়ে উভয়ই চুলে এই ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন। চুলের দৈর্ঘ্য, ঘনত্ব ও প্লেক্সের ব্র্যান্ডভেদে পাঁচ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা