kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ফ্যাশন
সেট পোশাকে ঈদ

ঈদে মিল-মিল

ঈদে ফ্যাশন হাউসগুলো ডিজাইন করে পারিবারিক সেট পোশাক। দম্পতি, বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা পরিবারে সবাই ম্যাচিং পোশাকে ভাগাভাগি করে নেয় আনন্দ। এবারের ঈদেও সেট পোশাকের চাহিদা বেশ। সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছেন ডিজাইনাররা। তাদের সঙ্গে কথা বলে লিখছেন নাঈম সিনহা

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদে মিল-মিল

সেট পোশাক কয়েক বছর ধরে ফ্যাশনজগতে বেশ জনপ্রিয় নাম। বিশেষ করে ঈদ, পূজা, বৈশাখ, বসন্ত কিংবা ভালোবাসা দিবসে। একসময় সেট পোশাক বলতেই মনে হতো দুই ভাই বা বোন মিলিয়ে উত্সব উপলক্ষে এক রকম পোশাক পরেছে। সেই ধারাবাহিকতায় দম্পতি, বাবা-ছেলে, মা-মেয়ে কিংবা পুরো পরিবার পরছে সেট পোশাক। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোও ডিজাইন করেছে সেট পোশাক।

দেশের ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে প্রথম দিকে যুগল পোশাক নিয়ে কাজ করে সাদা-কালো। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ডিজাইনার তাহসীনা শাহীন জানান, ‘২০০৪ সালে প্রথম যুগল পোশাকের সেট করি। মূলত ঈদের একটি ম্যাচিং পাঞ্জাবি ও শাড়ি যুগল পোশাক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়। তিনি বলেন, ‘সেবার ম্যাচিং পাঞ্জাবি ও শাড়ি পরে মডেল হন নাট্যব্যক্তিত্ব আলী যাকের ও সারা যাকের দম্পতি। পাঞ্জাবিতে শাড়ির একটি অংশ জুড়ে দেওয়া হয়। অর্থাত্ শাড়ির ডিজাইনের ছাপ থাকে পাঞ্জাবিতে। দুটি পোশাক পাশাপাশি রাখলে বোঝা যাবে এটি সেট। প্রথমে যুগল পোশাক দিয়ে শুরু তারপর ধীরে ধীরে পরিবারের সবার জন্য একই নকশার পোশাকের চল শুরু হয়। উত্সবের থিমের ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করি পারিবারিক পোশাক। শাড়ির সঙ্গে পাঞ্জাবি, শার্টের সঙ্গে ফতুয়া, কামিজের সঙ্গে মিলিয়ে শার্ট নানাভাবে করা হচ্ছে সেট।’

উত্সবকে কেন্দ্র করেই সেট পোশাক করা হয় বেশি। এমনটি জানালেন বিশ্বরঙের কর্ণধার ডিজাইনার বিপ্লব সাহা। তিনি বলেন, ‘ঈদে দেখা যায় বাবার সঙ্গে মিলিয়ে ছেলে পাঞ্জাবি পরতে চায়, মায়ের সঙ্গে মিলিয়ে মেয়ে কিংবা দম্পতি। আবার কারো ইচ্ছা পরিবারের সবার পোশাক হবে এক ডিজাইনের। সেই চাহিদার জায়গা থেকেই পারিবারিক সেট পোশাকের প্রচলন। পোশাকে পারিবারিক আন্তরিকতা-ভালোবাসা প্রকাশ পায় একই নকশার পোশাকে। সেট পোশাকের ক্ষেত্রে রং বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুগল পোশাকে, কারণ যেসব রঙে মেয়েদের মানায়, সেই রঙে ছেলেদের মানায় না। আবার উত্সবের থিমের সঙ্গেও রংটা মানাতে হবে। উত্সবে উজ্জ্বল রংগুলোকে প্রাধান্য দিই। নারী-পুরুষ উভয়ের কথা ভেবে ঈদে সাদার ওপর সবুজ, ফিরোজা, সমুদ্রের নীল, গোলাপি, খয়েরির বিভিন্ন শেড বেছে নিয়েছি। রঙের মতোই পোশাকের মোটিফের ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্য প্রযোজ্য। এ ক্ষেত্রে জিওমেট্রিক মোটিফগুলো বেশি ব্যবহার করি। কারণ এটি নারী-পুরুষ উভয়কেই মানায়। প্যাটার্ন ও কাটে স্বাতন্ত্র বজায় রাখি। ছেলেদের পোশাকে মেয়েদের চেয়ে অলংকরণে করি কম।’

ফ্যাশন হাউসগুলো নকশা, মোটিভ কিংবা রঙের ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করছে সেট পোশাক। শাড়ি থেকে একটি নকশা তুলে পাঞ্জাবিতে নেওয়া কিংবা ফতুয়ার একটি নকশা সালোয়ার-কামিজে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। পাঞ্জাবি-শাড়ির পাশাপাশি শার্ট-টপস-কুর্তির মতো ট্রেন্ডি পোশাকও থাকছে। কাটিংয়ে প্রাধান্য পেয়েছে সমকালীন ধারা। তরুণদের জন্য রয়েছে ভিন্ন কাটিংয়ের ফিউশনধর্মী পোশাক। দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে সেট পোশাক নিয়ে কাজ করে আড়ং, রঙ বাংলাদেশ, বিশ্বরঙ, ফড়িং, নিপুণ, কে ক্রাফট, অঞ্জন’স, সাদা-কালো, বিবিআনা, দেশাল, নগরদোলা, অরণ্যসহ বেশ কিছু হাউজ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা