kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ইন্টেরিয়র

ঘরেই ফোয়ারা

ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে নান্দনিক রেডিমেড ফোয়ারা পাওয়া যায় বাজারে। চাইলে অর্ডার করে বানিয়েও নিতে পারেন নিজের পছন্দমতো। রেডিয়েন্ট ইন্টেরিয়র ডিজাইনের ডিজাইনার
গুলশান নাসরীন চৌধুরীর
সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন
আতিফ আতাউর

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরেই ফোয়ারা

হাতিরঝিলে বেড়াতে গেলে আলোকোজ্জ্বল পানির ফোয়ারা দেখে মুগ্ধ হন সবাই। মিউজিকের তালে তালে পানির নাচন দেখে মন উতলা হয় অনেকের কিংবা হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারা দেখে কার না ভালো লাগে! পানির প্রতি এমনিতেই মানুষের অদ্ভুত টান কাজ করে। সেটাই যদি আরেকটু সৌন্দর্যমণ্ডিত করে ঘরে ঠাঁই দেওয়া যায় তো মন্দ কী! বাসাবাড়ি, অফিস, পার্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কারখানায়ও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পানির ফোয়ারা। ফোয়ারা এখন সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে ব্যবহূত হলেও একসময় তা ছিল সুপেয় পানির কৃত্রিম আধার। প্রাকৃতিক ঝরনার প্রবাহকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হতে এসব ফোয়ারা। তবে সেসব ফোয়ারা দৃষ্টিনন্দন ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্যবর্ধক উপসর্গ হিসেবে আবির্ভূত হয় পানির ফোয়ারা।

পাহাড়ের ফাঁক গলে কলকল শব্দে বেরিয়ে আসা ঠাণ্ডা পানির উত্স ঝরনা। প্রাকৃতিক এ উত্স থেকে কলকল শব্দে বেয়ে পড়া পানি দেখতে অনেকেই ছুটে যান পাহাড়ে। এমন একটা ঝরনা যদি বাড়িতেই থাকে, তবে কেমন হয়! পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক ঝরনা তো আর তুলে আনা সম্ভব নয়। তবে চাইলে একই আদলে কৃত্রিম পানির ঝরনা ঘরে রাখতে পারেন। পানির অবিরাম কলকল শব্দে কেটে যাবে সারা দিন-সারা বেলা।

শুধু ঘর কেন, বারান্দা, বাড়ির ছাদ কিংবা বাড়ির সামনের ছোট্ট লনেও তৈরি করে নিতে পারেন কৃত্রিম পানির ফোয়ারা। ফোয়ারা ঘিরে তৈরি করে নিতে পারেন ছোট্ট এক টুকরা জলাধার বা বাগান। ঝরনার পানি যেখানে গড়িয়ে পড়ে, তাতে রাখতে পারেন ছোট আকৃতির গোল্ডফিশ। আশপাশটা ঘিরে দিতে পারেন ছোট গাছ। চাইলে কৃত্রিম গাছও ব্যবহার করতে পারেন। দেখতে খুবই সুন্দর দেখাবে। সঙ্গে প্রকাশ পাবে আপনার রুচিবোধের পরিচয়।

ঘরের ভেতর রাখার জন্য ছোট আকৃতির ফোয়ারা বেছে নিন। ড্রয়িংরুম যদি বড় হয়, তবে দেয়ালের এক পাশে একটু বড় অথবা মাঝারি আকৃতির পানির ফোয়ারা গড়ে নিতে পারেন। ফোয়ারা ছোট কিংবা বড়—আকৃতি যেমনই হোক, সেটা এমন জায়গায় রাখুন, যাতে সবার নজরে পড়ে। ঘরের ফোয়ারা এক কোনায় রেখে দিন। দুই দেয়ালের মাঝখানের জায়গায়ও রাখতে পারেন। চেষ্টা করুন খোলামেলা কোনো স্থানে ফোয়ারা স্থাপন করতে। ফোয়ারা যেহেতু পানির, অতএব সামান্য হলেও কিছুটা বাষ্প ছড়াবেই। এ জন্য ড্রয়িংরুমের ফোয়ারা বা ঝরনা ঘিরে ছোট্ট একটি বাগান দিয়ে ঘিরে দেওয়া ভালো। এতে গাছপালা বাষ্প শুষে নেবে। ঘরে বা বারান্দায় ফোয়ারা থাকলে জানালা খুলে রাখুন। ঘরে যদি প্লাইউড বা কাডবোর্ডের কোনো আসবাব থাকে, সেটা থেকে বেশ খানিকটা দূরে ফোয়ারা স্থাপন করুন। প্রতি পনেরো দিন অন্তর ঝরনা বা ফোয়ারার পানি বদলে দিন। ফোয়ারা যদি ছোট হয়, তবে ভালো করে পরিষ্কার করে শুকিয়ে আবার ব্যবহার করুন। ফোয়ারা যদি পাথরের হয়, তবে খেয়াল রাখবেন, তাতে যেন শেওলা না জন্মে।

দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের ডেকোরেটিভ পানির ফোয়ারা কিনতে পাওয়া যায়। আকার-আকৃতি ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে একেকটি ফোয়ারা ৩ থেকে ১০ হাজার টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। চাইলে পছন্দমতো বানিয়েও নিতে পারেন। আপনার সরবরাহ করা ডিজাইন দেখে পানির ফোয়ারা বানিয়ে দেবেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। ড্রয়িংরুম যদি বড় হয়, তবে স্থায়ীভাবে ফোয়ারা বানিয়ে নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ড্রয়িংরুম দেখে জুতসই ডিজাইনের ফোয়ারা বানিয়ে দেবেন।

মন্তব্য