kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

ঘামে ভেজা কাপড়ের যত্নে

গরমে বাইরে বেরোলে শরীর ঘেমে কাপড় ভিজে যায়। ঘাম থেকে কাপড়ে গন্ধ তৈরি হয়। ঘামে ভেজা কাপড়ের যত্ন না নিলে নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে শরীরে চর্মরোগও হতে পারে। ঘামে ভেজা কাপড়ের যত্নে করণীয় জানাচ্ছেন আতিফ আতাউর

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ঘামে ভেজা

কাপড়ের যত্নে

মিরপুর থেকে মতিঝিলের একটি প্রতিষ্ঠানে অফিস করেন জুবায়ের আহমেদ। সপ্তাহে পাঁচ দিন এই রুটে দুবার তাঁকে যেতে-আসতে হয়। শীতের সময় শুধু জ্যামটাই অসহ্য মনে হয়। কিন্তু গ্রীষ্মকাল এলেই জ্যামের সঙ্গে যুক্ত হয় প্রচণ্ড গরম। রোদে-গরমে ঘেমে হাঁসফাঁস করেন। শুধু কি তাই, পোশাকও ঘেমে শরীরের সঙ্গে লেপ্টে যায়। যেদিন যে পোশাক পরে বের হন, সেটি আর পরদিন পরার অবস্থা থাকে না। আবার ঘামে ভেজা কাপড় প্রতিদিন না ধুলেও পরদিন থেকেই গন্ধ বের হতে শুরু করে। ঘামে ভেজা কাপড় শুকালে দাগ পড়ে। এ জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এই গরমে জুবায়েরের মতো সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে কিছু বিষয়ে আগে থেকে সচেতন হলে গরমে-ঘামে ভিজে কাপড় সুরক্ষা করা যায়।

প্রতিরোধ

ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার প্রথম শর্ত নিজেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। গরমের দিনে সম্ভব হলে দুবার গোসল করুন। সকালে বাইরে বের হওয়ার আগে এবং সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে গোসল করে নিন। এতে শরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে। শরীরে ঘাম কম হবে। গোসলের পর ঘাড়ে, কবজিতে, কোমরের অংশে বডি মিস্ট লাগিয়ে নিতে পারেন। এ সময় খুব কড়া কোনো সুগন্ধি ব্যবহার না করাই ভালো। তার চেয়ে হালকা সুগন্ধি বেছে নিন।

গরমে ঘাম বেশি হবে ভেবে যাঁরা কম পানি পান করেন তা ঠিক নয়। বরং গরমেই আরো বেশি পানি পান করতে হয়। এ সময় শরীর বেশি পানি হারায়। সেই পানিশূন্যতা দূর করতেই বেশি বেশি পানি পান করা জরুরি। শরীরে পানির অভাব হলে বিষাক্ত টক্সিন জমে। এটা থেকেও ঘামে দুর্গন্ত হয়। সেটা শরীর থেকে আমাদের পোশাকে ছড়িয়ে পড়ে।

গরমের সময় সুতি পোশাক পরতে চেষ্টা করুন। সুতি কাপড়ে ঘাম কম হয়। গরমে কালো রঙের পোশাক এড়িয়ে চলুন। কারণ কালো কাপড় বেশি তাপ শোষণ করে। ফলে ঘাম হয় বেশি।

ঘাম থেকে কাপড় রক্ষায় ছায়াযুক্ত স্থান দিয়ে চলাচল করুন। রোদে হাঁটার সময় অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে। আন্ডার-আর্ম পরিষ্কার রাখুন। শরীরের এই অংশ সবচেয়ে বেশি ঘামে। আন্ডার-আর্ম পরিষ্কার থাকলে ঘাম কম হওয়ার সম্ভাবনা হয়। এতে ঘামে ভিজে যাওয়া থেকে কাপড় রক্ষা পাবে। সুতির আন্ডার গার্মেন্ট ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। ব্যবহূত মোজা রোজ ধুয়ে ফেলুন। মোজা পরার আগে পায়ে হালকা পাউডার লাগিয়ে নিন।

 

প্রতিকার

গরমে ঘামের কারণে শরীর থেকে লবণ বের হয়ে আসে, যা অনেক সময় শুকিয়ে যাওয়ার পর কাপড়ে দাগ ফেলে। ঘামের জন্য কাপড়ে তিলসহ ছোপ ছোপ দাগ পড়তে পারে। এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে পোশাকের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং পোশাক পরিষ্কার রাখতে হবে।

অনেকেই অলসতা করে বা সময়ের অভাবে ঘামে ভেজা কাপড় যেখানে-সেখানে ফেলে রাখেন। এটা করা যাবে না। ভেজা কাপড় খোলা জায়গায় বাতাসে শুকাতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় যদি তা ধুয়ে ফেলা যায়। ঘামে ভেজা কাপড় সাবান অথবা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে শুকাতে দিতে হবে। বদ্ধ কোনো জায়গায় ঘামে ভেজা কাপড় ধুয়ে না শুকানোই ভালো। চেষ্টা করুন, উন্মুক্ত কোনো স্থানে, যেখানে বাতাস প্রবাহিত হয়, সেখানে শুকাতে। সকাল বেলা ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। ঘামে ভেজা সুতি অথবা সিল্কের কাপড় পরিষ্কার করতে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে হবে। কাপড় পরিষ্কারে ডিটারজেন্টের পরিবর্তে শ্যাম্পুও ব্যবহার করা যায়। ঘামে ভেজা লিনেন কাপড়ও একইভাবে ধুয়ে নিতে পারেন। খুব দামি পোশাক কিংবা উপহার পাওয়া শখের কোনো পোশাক যদি ঘামে ভিজে যায়, সেগুলো ড্রাইওয়াশ করানো ভালো। এতে কাপড়টির স্থায়িত্ব বাড়ে। কাপড় ধোয়ার পর সরাসরি রোদে শুকাতে দেওয়া উচিত নয়। রঙিন কাপড় রোদে দিলে অল্প দিনের মধ্যেই রং নষ্ট হতে শুরু করে। এ জন্য রঙিন কাপড় ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হবে। রোদেই যদি শুকানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে রঙিন পোশাকের ওপর একটি পাতলা কাপড় বিছিয়ে দিন। সরাসরি যদি রোদে দিতেই হয়, তাহলে শুকানো মাত্র রোদ থেকে কাপড় সরিয়ে নিন।

 

মন্তব্য