kalerkantho

ইন্টেরিয়র

দূর হোক স্যাঁতসেঁতে ভাব

বৃষ্টির দিনে ঘরবাড়ি সহজেই স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জানিয়েছেন আর্কিডেন ইন্টেরিয়রের আর্কিটেক্ট সোহেলি সায়মা সেঁজুতি, লিখেছেন আতিফ আতাউর

২১ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূর হোক স্যাঁতসেঁতে ভাব

বাদলা দিনের আর্দ্র আবহাওয়ায় ফার্নিচার থেকে শুরু করে কাপড়চোপড়, বইপত্র, রান্নাঘর আর ঘরের দেয়ালে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া নানা রকম পোকা-মাকড়ের উপদ্রব তো আছেই। দরকার কিছু বাড়তি সতর্কতা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঘরবাড়ির স্যাঁতসেঁতে ভাব কাটাতে অনেকটাই সাহায্য করে। তাই ঘরের ভেতর যথেষ্ট আলো-বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করুন। বৃষ্টি শেষে দরজা ও জানালা খুলে দিন। রোদ উঠলে জানালার পর্দা সরিয়ে ঘরে রোদ আসার ব্যবস্থা করুন। দেয়ালের রং পুরনো হয়ে গেলে দেয়াল ড্যাম্প হয়ে বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরের দেয়াল পর্যন্ত চলে আসতে পারে। সম্ভব হলে বর্ষার আগে বাড়ির বাইরের দেয়ালে পানি নিরোধক রং লাগিয়ে নিন। সেটা সম্ভব না হলে ভেতরের দেয়ালে প্লাস্টিকের ওয়াল পেপার লাগিয়ে নিলেও খানিকটা উপকার মিলবে। এ ছাড়া এই মৌসুমে দেয়াল থেকে কিছুটা দূরত্বে কাঠের ফার্নিচার রাখুন। ফার্নিচার ভালো থাকবে।

এখন অনেক বাসাবাড়িতে দেয়ালে, মেঝেতে কাঠ, বিভিন্ন বোর্ড ব্যবহার করে। বৃষ্টির সময় এসব কাঠের দেয়ালে কিংবা মেঝেতে ছত্রাক আক্রমণ করে। এটা থেকে রক্ষা পেতে সাদা ভিনেগারের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে কাঠের অংশ মুছে নিন। এরপর ফ্যান ছেড়ে দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন। কাঠের কেবিনেট বা ওয়ার্ডরোবও একইভাবে ভিনেগার দিয়ে মুছে নিন বর্ষার আগেই। এ ছাড়া বাড়তি আর্দ্রতা শুষে নিতে কেবিনেটের কোনায় কোনায় ন্যাপথলিন রাখুন। এতে কেবিনেট ও কাপড় দুটিরই আর্দ্রতা দূর হবে। আসবাব ও কাপড়ের সুরক্ষায় নিমপাতা উপকারী। আলমারিতে কিছু শুকনো নিমপাতা রেখে দিন। পোকা-মাকড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে। আলমারি বা কেবিনেটের দরজা সব সময় বন্ধ না রেখে মাঝেমধ্যে খুলে রাখুন। একটা টেবিল ফ্যান ছেড়ে রাখুন আলমারি বা কেবিনেটের সামনে। এতে কেবিনেটের ভেতরের গুমোট ভাব কেটে যাবে। মাঝেমধ্যে তুলে রাখা কাপড় রোদে শুকিয়ে নিন। এ ছাড়া দামি কোনো আসবাবের নিচে ছোট টিনের বা কাচের পাত্রে এক টুকরা সালফার বা গন্ধক রেখে দিতে পারেন। এতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাবে আসবাবটি।

বৃষ্টির সময় দরজা-জানালা বন্ধ থাকলে ঘরে গুমোট ভাব তৈরি হয়। সোদা গন্ধ বের হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটি মাটির পাত্রে ধূপ জ্বালিয়ে ঘরময় ধোঁয়া ছড়িয়ে দিতে পারলে গুমোট ভাবটা কেটে যাবে। ধূপের ধোঁয়া সোদা গন্ধ দূর করবে। এটা পোকা-মাকড় তাড়াতেও সহায়তা করে। পাশাপাশি কাপড়চোপড়ও স্যাঁতসেঁতে হওয়া থেকে রক্ষা করে। ধোঁয়ায় সমস্যা হলে সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালালেও উপকার পাবেন। এ সময় ঘরের জন্য প্রাকৃতিক এয়ারফ্রেশনার তৈরি করে নিতে পারেন। লেবুর রস, সোডা ও পানি মিশিয়ে ঘরেই প্রাকৃতিক এয়ারফ্রেশনার তৈরি করা যায়। ঘরের গাছেও এই এয়ারফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। স্যাঁতসেঁতে ঘরে পিঁপড়াসহ নানা পোকা-মাকড় বাসা বাঁধতে পারে। এ জন্য যেখানে পিঁপড়া বাসা বাঁধে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছড়িয়ে দিলেই পোকা-মাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

ফিনাইল জাতীয় জীবাণুনাশক পানিতে মিশিয়ে ঘরের মেঝে মুছলে উপকার পাবেন। পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে ঘরের জানালার গ্রিল, বিভিন্ন আসবাব নিয়মিত মুছতে হবে। বাদলা দিনে বই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য বইয়ের আলমারি ও বইয়ের তাকের ফাঁকে ফাঁকে শুকনো চা পাতার পুঁটলি রেখে দিন। বই এবং বইয়ের র্যাক দুটিই ভালো থাকবে। সম্ভব হলে বইয়ের ফাঁকে সিলিকা জেলের পাউচ রেখে দিন। সিলিকা জেল আর্দ্রতা শুষে নেয়।

মন্তব্য