kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ফ্যাশনে ‘বাংলাদেশ’

বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ডিজাইনারদের মূল উপজীব্য বাংলাদেশ। ফ্যাশনপ্রেমীরাও লুফে নিচ্ছেন এসব পোশাক ও অনুষঙ্গ। ফ্যাশনে ‘বাংলাদেশ’ নিয়ে ডিজাইনারদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




ফ্যাশনে ‘বাংলাদেশ’

স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ লেখা টি-শার্ট পরে যাননি। গ্যালারিতে গিয়েই বুঝতে পারবেন কী ভুলটাই না করে বসেছেন! চারপাশে তরুণ-তরুণীদের গায়ে বাংলাদেশ লেখা টি-শার্ট দেখে আফসোসে পুড়তে হবে তখন। শুধু যে তরুণ-তরুণীদেরই এমন বাংলাদেশপ্রীতি তা নয়, শিশু থেকে শুরু করে মাঝ বয়সীদেরও পাবেন তাদের ভিড়ে। শুধু বাংলাদেশের খেলা নয়; ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বরসহ নানা দিবস ও উপলক্ষ কেন্দ্র করে তরুণদের পোশাকে দেখা যায় দেশপ্রীতি। জাতীয় দিবসগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও এখনকার তরুণরা বেছে নিচ্ছে বাংলাদেশ লেখা অথবা দেশের পতাকা আঁকা টি-শার্ট। মাথায় পরে নিচ্ছেন বাংলাদেশের মানচিত্র কিংবা লাল-সবুজ পতাকা আঁকা ব্যান্ডানা। মোটকথা তরুণদের কাছে এখন পোশাক যেন দেশপ্রেম প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ক্রিকেটপ্রেমী প্রণব সরকারের কথায়ও সেই সুর, ‘ছোটবেলা থেকেই আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফ্যান। যত ব্যস্ততাই থাকুক খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে চলে যাই। প্রতিটি খেলায়ই বাংলাদেশ দলের জার্সি পরে যাই।’

নিত্য উপহার

ভ্রমণ পিপাসু সাব্বির হাসানের ব্যাগে সব সময়ই একটি লাল-সবুজ টি-শার্ট থাকে। বাংলাদেশের সব পাহাড় চূড়া জয়ের লক্ষ্য এই তরুণের। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি চূড়ায়  উঠেছেন। প্রতিটি চূড়াতেই লাল-সবুজ টি-শার্ট পরা ছবি সাব্বিরের। বলেন, ‘জ্ঞান হওয়ার পর বাবার কাছে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনি। তখন থেকেই নিজের দেশের প্রতি ভীষণ টান জন্মে। দেশের বাইরেও নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। কোনোটাতেই মন টেকেনি। যেখানেই যাই সঙ্গে থাকে লাল-সবুজ টি-শার্ট। মনে হয় পুরো বাংলাদেশকেই সঙ্গে করে নিয়ে চলছি।’

তরুণদের পোশাকে বাংলাদেশকে উপজীব্য করে শুরু থেকেই বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে আসছেন নিত্য উপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান। বলেন, ‘আমরা যখন শুরু করি তখন বেশির ভাগ কাপড় আমদানি হতো বিদেশ থেকে। সেসব কাপড়ে বিদেশি ডিজাইন, বিদেশি মোটিফ। বঙ্গবাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত। আমার মনে হয়েছিল আমাদের নিজস্বতা বহন করে—এমন জিনিসগুলো পোশাকে তুলে ধরা দরকার। ২০০৪ সালে যখন টি-শার্টে প্রথম পতাকা ডিজাইন করি সেটা বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসে পরার একটা ধারা সৃষ্টি করে। কোনো একটি রেওয়াজ সৃষ্টি করতে ধারাবাহিকতা দরকার। সে জন্য শুরু থেকেই আমরা দেশ, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, দেশপ্রেম, দেশের শিল্প-সাহিত্য ও প্রকৃতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। এই চেষ্টায় আমাদের দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদেরও আমরা পাশে পেয়েছি।’   

প্রকৃতি, দেশের মানুষ, ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি দেশের পর্যটনকেও নিজেদের পোশাকে তুলে ধরেছে নিত্য উপহার। পর্যটন বিকাশে দেশের ভ্রমণ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল হাউসটি। সেরা ছবিগুলো নিয়ে টি-শার্ট ডিজাইন করে বাজারে আনে তারা। সেগুলোও বেশ জনপ্রিয় হয়। এ ছাড়া ঢাকার ৪০০ বছর পূর্তি উপলক্ষেও বিশেষ পোশাকের ডিজাইন করেছে তারা। বাহার রহমান বলেন, ‘পথেঘাটে নামলেই চোখে পড়ে তরুণদের টি-শার্টে থাইল্যান্ড, ব্যাংকক, নিউ ইয়র্ক লেখা। ঢাকা লেখা কোনো টি-শার্ট নেই। এরপর ঢাকা লেখা টি-শার্ট আনি আমরা। সেগুলোও তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়।’

রঙ বাংলাদেশ

তরুণদের এমন পোশাকপ্রীতির কারণটাও জানালেন তিনি, ‘দেশের প্রতি ভালোবাসা সর্বজনীন। সবাই দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে চায়। সে জন্য সহায়ক পণ্য থাকা চাই।’

ফ্যাশনে বাংলাদেশকে উপজীব্য করা নিজেদের দায়বদ্ধতার মধ্যেও পড়ে বলে জানালেন রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী সৌমিক সাহা। বলেন, “রঙ যাত্রা শুরুর সময় থেকেই দেশীয় মোটিফ, দেশের কাপড় ও রঙের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়েছে। এরপর যখন রঙ ভাগ হয়ে যায় তখন আমরা প্রতিষ্ঠানের নামকরণও করেছি রঙ বাংলাদেশ নামে। আমাদের পোশাকে সব সময়ই বাংলাদেশকে তুলে ধরার চেষ্টা থাকে সচেতনভাবে। ২১শে ফেব্রুয়ারি, ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বরের মতো জাতীয় দিনগুলোকে পোশাকের মাধ্যমে উদ্যাপনের জন্য আমরা একটা সাব ব্র্যান্ড গড়েছি ‘আমার বাংলাদেশ’ নামে।”

বিশ্ব রঙ

বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারিতে নির্দিষ্ট ডিজাইনের পোশাক পরেন বিজ্ঞাপন এজেন্সির কর্মকর্তা সালেহ আফনান। তিনি বলেন, ‘অনেককে দেখা যায় নির্দিষ্ট দিনগুলোতেই শুধু বিশেষ ডিজাইনের পোশাক পরেন। আমি তেমনটা না করে অন্যান্য দিনগুলোতেও বাংলাদেশ লেখা, বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি আঁকা, পতাকা আঁকা পোশাক পরি। জানি, শুধু পোশাক পরলেই দেশপ্রেম প্রকাশ হয় না। দেশপ্রেমের প্রকাশ হওয়া উচিত কাজে। কিন্তু পোশাকেও যদি দেশ থাকে, তবে গর্ব হয়।’

 

 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা