kalerkantho

সোমবার । ২০ জানুয়ারি ২০২০। ৬ মাঘ ১৪২৬। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাজের মানুষ

গুছিয়ে করুন প্রতিদিনের কাজ

গুছিয়ে কাজ করা এখন একটি অভ্যাসের নাম। নিজের ভেতর এই অভ্যাসটি গড়ে তুলুন। গুছিয়ে কাজ করার জন্য পরিকল্পনা থাকা চাই। এতে কাজ অনুসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে অনেক সহজ। প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত পরিকল্পনা করেই এগোতে হবে। নইলে হোঁচট। আশানুরূপ ফল পাওয়ার জন্য সুন্দর ও বস্তুনিষ্ঠ পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। অফিসে নিজের কার্যক্রম আরো গোছালো ও সমন্বিত করার জন্য প্রতিদিনের ওয়ার্কপ্ল্যান করে নিন। জেনে নিন এ বিষয়ে ১০ পরামর্শ—

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গুছিয়ে করুন প্রতিদিনের কাজ

এক.

প্রতিদিনের পরিকল্পনা করার আগে একটি সাপ্তাহিক পরিকল্পনাও থাকা চাই। এই সাপ্তাহিক পরিকল্পনাটি হবে একটি মাসিক বা বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ। ক্ষুদ্রতর পরিকল্পনা বিচ্ছিন্ন না হয়ে যখন কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হয়, তখন এই পরিকল্পনা অনেক বড় লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়।

 

দুই.

অফিসে ঢুকে নিজের ডেস্কে বসেই পরিকল্পনা শুরু করবেন না। পরিকল্পনা একটু নির্ঝঞ্ঝাট সময় দাবি করে। তাই একটু বিশ্রাম নিয়ে ভাবুন। সুপারভাইজরের কাছ থেকে ওই দিনের কাজের দায়িত্বভার বুঝে নিন। এবার চায়ের কাপটি হাতে নিয়ে পরের দিনের পরিকল্পনা শুরু করুন।

 

তিন.

কাজগুলো ‘কতটা গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘কতটা দ্রুত শেষ করতে হবে’—এ দুটি বিষয়ের ভিত্তিতে মোট চার ভাগে সাজান। প্রথম ভাগ—অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত করতে হবে এমন কাজগুলো সাজান, দ্বিতীয় ভাগ—অতি গুরুত্বপূর্ণ নয়; কিন্তু দ্রুত শেষ করতে হবে এমন কাজগুলো রাখুন, তৃতীয় ভাগ—এখানে অতি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সময় নিয়ে করলেও চলবে এমন কাজগুলো, চতুর্থ ভাগ—যে কাজগুলো অতিগুরুত্বপূর্ণও নয় এবং অতিসত্বরও করতে হবে না। এবার ধারাবাহিকভাবে কাজগুলো করতে শুরু করুন।

 

চার.

প্রতিটি কাজ শেষ করার জন্য সময় নির্ধারণ করতে হবে। পরিকল্পনাটাও সময় নিয়ে করতে হবে। শুরুতে পরিকল্পনা করতে আপনার বেশি সময় লাগতে পারে। মনে হতে পারে, পরিকল্পনা করতে করতেই দিন শেষ হয়ে গেল। কিন্তু ধৈর্য হারাবেন না। যাঁরা জীবনে পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাঁদের বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছেন ধৈর্যের অভাবে। যাঁরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁরা তিন কারণে ব্যর্থ হয়েছেন—ক. একাগ্রতার অভাব, খ. অনুপ্রেরণার অভাব, তিন. সহযোগিতার অভাব। ফলে দৈনিক কাজের পরিকল্পনা করার সময় এই বাধাগুলো মাথায় রেখে কাজ করুন।

 

পাঁচ.

সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে আগ্রহ হারাবেন না। পরবর্তী কাজ থেকে সময় বাঁচিয়ে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখবেন, একটি ব্যর্থ কাজ পর পর অনেক কাজের ওপর আপনার উত্সাহ ও একাগ্রতাকে নষ্ট করে দিতে পারে।

 

ছয়.

পরিকল্পনা করা শেষ হলে বাস্তবায়ন শুরু করার আগে আপনার সুপারভাইজরকে একবার দেখিয়ে নিন। পরিস্থিতি সাপেক্ষে সুপারভাইজর না থাকলে উপযুক্ত সহকর্মীকেও দেখিয়ে নিতে পারেন।

 

সাত.

পরিকল্পনা করা কঠিন কাজ। পরিকল্পনা কাজের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক রেখে এগিয়ে চলে। অনেকের এই নিবিষ্টতায় ধৈর্য থাকে না। ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। আর কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারলে পরিকল্পনা অর্থহীন।

 

আট.

একান্তই ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়া বেশির ভাগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন একার ওপর নির্ভর করে না। আরো অনেক বিষয় ও ব্যক্তি এই বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত থাকেন। একজন দক্ষ তদারককারী ছাড়া বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আপনার সুপারভাইজরের সহযোগিতা নিতে পারেন।

প্রতিদিনের কর্মপরিকল্পনায় এই একই ব্যাপার থাকে। আপনার কোনো কাজ যদি কোনো সহকর্মী বা আপনার সুপারভাইজরের কোনো কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে সতর্ক থাকুন। অন্যদের গাফিলতি বা সমন্বয়হীনতার ফলে আপনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না-ও হতে পারে।

 

নয়.

পরিকল্পনা করা একটি অভ্যাস। যাঁরা কাজ শুরু করার আগে নিয়মিত পরিকল্পনা করতে অভ্যস্ত, তাঁরা অপরিকল্পিত কাজ পছন্দ করেন না। এই অভ্যাস একটা সময় আরো দ্রুত থেকে দ্রুততর সময়ে পরিকল্পনা শেষ করতে সাহায্য করে। একসময়  দেখবেন, পরিকল্পনা করার জন্য সময় লাগছে না, মাথায় তৈরি হয়েই আছে। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন ছাড়া পরিকল্পনার এই ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়ন কঠিন কাজ।

 

দশ.

পরিকল্পনা করা মানেই কাজ শেষ নয়, ক্ষণে ক্ষণে নজরদারিও করতে হয়। সব ঠিকমতো এবং সময়মতো হচ্ছে কি না, না হলেই দ্রুত পরিকল্পনা পরিবর্তন করুন। এতে কাজের সুফল পাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা