kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

সংসারে সমানে সমান

সংসারে নারী-পুরুষের সম্পর্কে সমতার পাশাপাশি সাংসারিক কাজেও চাই সুষম বন্টন। সংসারে সাহায্য পেলে নারীর এগিয়ে যাওয়া হবে সহজ, মসৃণ। জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংসারে সমানে সমান

মডেল ♦ রিম ও রাজ; পোশাক ♦ কে-ক্রাফট সাজ ♦ পারসোনা ছবি ♦ মঞ্জুরুল আলম

‘সুখী সংসার চাইলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই সব কিছু সমানভাবে ভাগ করে নিতে হবে। কথাটা  রোমান্টিক না শোনালেও এটাই সংসার। কাজের ভার এক কাঁধে পড়ে গেলে বরং রোমান্টিসিজম থাকলেও কমে যাবে। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সংসারের কাজ ভাগ করে নিই, থালা-বাসন মাজা থেকে অফিস সামলানো পর্যন্ত। এতে সংসারের কাজের চাপে নিজেকে হারানোর শঙ্কা কমে যায়। নিজের ও পরিবারের জন্য সময় বের করাও সহজ হয়’—এভাবেই সংসার জীবনের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন সাবরিনা পারভীন খান।

নিজের গল্প জানাতে গিয়ে বললেন, বিয়ের আগে একটি বেসরকারি স্কুলে চাকরি করতাম। বিয়ের বছরখানেকের মাথায় ফটোগ্রাফার স্বামী নিলাভ প্রস্তাব দিল তার প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য। এরপর চাকরি ছেড়ে যুক্ত হলাম নিজল ক্রিয়েটিভ ফটোগ্রাফির সঙ্গে। বছরখানেক যেতে নিজল ক্রিয়েটিভের ম্যানেজমেন্ট ও ফিন্যান্সের দায়িত্ব বুঝে নিলাম। এরপর দেখলাম ঘরের বাইরেটা দুজন মিলে সামলানোর কারণে কাজ ভালো হচ্ছে। সেটাকেই পরে অ্যাপ্লাই করলাম ঘরেও। ঘরের কাজও ভাগ করে নিলাম। দেখা যায়, আমি যদি সকালে কাজে বেরিয়ে পড়ি, নিলাভ নিজেই সকালের নাশতা বানিয়ে খেয়ে ফেলে। সবচেয়ে বড় কথা, কোনো কাজ নিজে করে নিলে পরে এটা নিয়ে অভিযোগও করে না। স্বস্তিতে কাজ করতে পারি।

সংসারে কাজ ভাগ করা বা স্ত্রীকে সাহায্য করা নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক তানজির আহমেদ তুষার বলেন, ‘আমাদের দেশে ছেলেদের আর মেয়েদের কাজে তফাত প্রচলিত।’ এই কাজ ছেলের বা অমুক ধরনের কাজ মেয়দের’ এমনভাবেই চলে আসছে। এই তফাত না করে যখন যার জন্য যেটি সুবিধাজনক, সেভাবে কাজ সমন্বয় করা উচিত। এতে সংসারে নারী-পুরুষের কাজে অনেকটাই সামঞ্জস্য আসবে। হতে পারে সকালের নাশতা বানানো, শিশুর পরিচর্যা কিংবা বাসার ময়লা ফেলা। কাজটিকে নারী-পুরুষে ভাগ না করে, কার জন্য করা বেশি সুবিধাজনক সেভাবে ভাগ করাটাই শ্রেয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘কাজে সহযোগিতার বিষয়টি নারী-পুরুষ বা লিঙ্গের জায়গা থেকে না দেখে একে অপরকে মানবিক সহযোগিতার জায়গা থেকে দেখতে হবে। একে অপরের কাজের জায়গাটা বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। হয়তো কখনো স্ত্রীর অফিস থেকে ফিরতে রাত হবে। সেদিন স্বামী তাকে এগিয়ে আনতে গেলেন। এতে স্বামী তার স্ত্রীর কর্মস্থল বা কাজের জায়গা সম্পর্কে ধারণা করতে পারেন। অন্যদিকে স্ত্রীও সহযোগিতার বিষয়টিকে সুন্দরভাবেই নেবে।’

দুয়ে মিলে করি কাজ

♦    ঘরের কাজগুলো ভাগ করে নিন। এ ক্ষেত্রে যিনি যেই কাজে পারদর্শী তাকে সেই কাজ দেওয়াই ভালো।

♦    লক্ষ রাখতে হবে কাজ যাতে সমানভাবেই ভাগ হয়। থালা-বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া কিংবা টয়লেট পরিষ্কারের মতো কাজগুলো ভাগ করে নিন। চাইলে কাজগুলো অদলবদল করে নিতে পারেন এক মাস অন্তর অন্তর। এতে দুজনেই সব কাজে পারদর্শী হয়ে উঠবেন।

♦    যে ভালো রাঁধে তাকেই রান্নার গুরুদায়িত্ব দেওয়া হোক। তবে অন্যজনকে সপ্তাহে অন্তত এক দিন রান্না করতে হবে। যাতে তিনিও দিন দিন উন্নতি করতে পারেন।

♦     ভারী কাজ কিংবা বাইরের টুকিটাকি কাজগুলো পুরুষ সদস্য করতে পারেন। যাকে দিয়ে যেই কাজ হবে, তাকেই সেটি দেওয়া ভালো। এতে কাজ সহজে হবে।

♦    সংসারের কাজ কিংবা সিদ্ধান্ত ভাগ করে নিন। দুজনের বোঝাপড়া ভালো হবে। এতে একজনের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ কমে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা